দাঁতনে পারিবারিক কোন্দলে প্রহৃত মা ও দুই মেয়ে! গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ বিজেপির

544
দাঁতনে পারিবারিক কোন্দলে প্রহৃত মা ও দুই মেয়ে! গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ বিজেপির 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার দলীয় সমর্থকের মুক্তির দাবিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপির সমর্থকেরা। সন্ধ্যায় এই বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দাঁতনের ওপর দিয়ে যাওয়া বেলদা-সোনাকনিয়া গামী রাজ্য সড়ক। বিজেপির দাবি মিথ্যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের দলীয় কর্মীকে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

জানা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানা এলাকার বড়া গ্রামে সোমবার নিজেরই জ্ঞাতিদের হাতে বেধড়ক মার খান এক মহিলা ও তাঁর ২ মেয়ে। রীতিমত রড লাঠি দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করা হয় তাঁদের। সোমবারই দাঁতন থানায় অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্ত অর্চনা মাইতি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সুকুমার কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় তিনি তাঁর ২ মেয়েকে নিয়ে দাঁতনে থাকেন কারন তাঁর জ্ঞাতিরা অশান্তি করে গ্রামের বাড়ি বড়ায় থাকলে। এরপর তিনি খবর পান যে এজমালি জমির ওপর একটি নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে জ্ঞাতিরা।

দাঁতনে পারিবারিক কোন্দলে প্রহৃত মা ও দুই মেয়ে! গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ বিজেপির 2

মহিলার অভিযোগ, যেহেতু ওই জায়গার ওপর তাঁর স্বামীরও অধিকার রয়েছে তাই অর্চনা দুই মেয়ে ২১ বছরের রিতিকা এবং ১৫ বছরের ঋতুশ্রীকে নিয়ে গেছিলেন জিজ্ঞাসা করতে যে কেন তাঁদের সঙ্গে কথা না বলে তাঁদের অংশ রয়েছে এমন জায়গায় নির্মাণ কার্য চালানো হচ্ছে?
এরপরই তিনজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অর্চনার ভাসুর পো এবং অন্যান্যরা। তিনজনকে যেমন বেধড়ক মারধর করা হয়েছে পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে, হাত দেওয়া হয়েছে মহিলাদের অন্তরঙ্গ অঙ্গেও। প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেয়ে দাঁতন হাসপাতালে চিকিৎসা করেন এবং দাঁতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মোট ৬ জনের নামে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় সূত্র মারফৎ জানা গেছে এই ৬ জনের ১ জন আবার তৃনমুল সমর্থক বাকিরা বিজেপি কর্মী এবং সমর্থক। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ১জনকে গ্রেপ্তার করে যে কিনা বিজেপিরই সমর্থক। বিজেপির অভিযোগ পুলিশ তৃনমূলের কথা মতই শুধু বিজেপি সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁদেরই খুঁজছে। বিজেপির আরও অভিযোগ ধৃত ব্যক্তি ওই কোন্দলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সেই সুযোগ নিয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছেনা এই ঘটনায় কারন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করেছে। বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।