নিজের মেয়েকে কাছে পেতে বারো বছর পরে জন্মদায়িনী মা পালিকা মায়ের দোরে, আবেগ মথিত ঘাটাল

559
নিজের মেয়েকে কাছে পেতে বারো বছর পরে জন্মদায়িনী মা পালিকা মায়ের দোরে, আবেগ মথিত ঘাটাল 1

পলাশ খাঁ :– ঠিক যেন চিত্রনাট্যের গল্প। চিত্রকর এই চিত্রনাট্য লেখার সময় হয়তো নিজেই গুলিয়ে ফেলেছিলেন এ বিয়োগান্তক না মিলনান্তক চিত্রনাট্য লিখবেন। তাই এই গল্পের শেষ হতে হতেও যেন হলো না ।একদিকে এক মায়ের নিজের মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ অন্যদিকে আরেক মায়ের কোল শুন্য করে মেয়ের চলে যাওয়া। ঘটনার এই ঘনঘটায় চোখের জলে বাধ ভাঙ্গলেন চাক্ষুষ করা আমজনতা। রাস্তায়

রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক মেয়েকে বুকের দুধ খাইয়ে মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসা দিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে লালন পালন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ যেন সেই ভালোবাসার সুরের তাল কাটলো। দীর্ঘ ১২ বছর, ওই কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েকে মায়ের স্নেহে বড় করার পর, পালিতা মেয়ের আসল মা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এলেন পালিতা মায়ের কাছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই বিদায়ে বেলার কাহিনীতে চোখ জলে ভিজে গেছে অনেকেরই। আর যিনি এতদিন ওই মেয়েকে বড় করেছেন তিনিও দিশেহারা।

নিজের মেয়েকে কাছে পেতে বারো বছর পরে জন্মদায়িনী মা পালিকা মায়ের দোরে, আবেগ মথিত ঘাটাল 2

স্থানীয় ও ঘাটাল থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ থেকে ১২ বছর আগে খড়ার পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনালী সামন্তর মেয়ে নিখোঁজ হয়। সোনালী দেবীর দুই ছেলে আর এক মেয়ে৷ মেয়ের জন্মের কিছু মাস পরেই স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সোনালী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। সেই সময়ই নিজের অজান্তেই হারিয়ে ফেলেন একরত্তি মেয়েকে৷

এদিকে হারিয়ে যাওয়া সেই একরত্তি মেয়েকে পথে কুড়িয়ে পায় ঘাটালের অজব নগর গ্রামের বাসিন্দা হরেন দোলুই। নিসন্তান হরেন বাবু ও তার স্ত্রী চন্দনা দেবী সেই কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে বড়ো করতে থাকেন৷ তাদের বিশ্বাস দেবতায় তাদের কোল আলো করার জন্য এই মেয়েকে পাঠিয়েছেন তাই মেয়ের নাম দেন দেবযানী। দেবযানী ঘাটালের যোগদা সৎসঙ্গ যুক্তেশ্বর বিদ্যাপীঠেরষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। শুধু তাই নয়, হরেন বাবু দেবযানীর বার্থ সার্টিফিকেট পঞ্চায়েত অফিস থেকে বের করেন।

সোনালী দেবীর নাবালক দুই পুত্র ইতিমধ্যে সাবালক হয়ে উঠেছে৷ আর্থের তাগিদে তারা পাড়ি দেয় ভিন রাজ্যে মা কে এক আত্মিয়ের কাছে রেখে। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে মায়ের চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন তারা। জানা গিয়েছে সোনালী দেবীর দুই পুত্রই জানতেন তাদের হারানো বোন কোথায় আছে আর কেমন আছে। ছেলেদের কাছে মেয়ে হারানোর ইতিবৃতান্ত শুনে সোনালী দেবী তার মেয়েকে ফেরত পেতে শনিবার হরেন বাবুর বাড়িতে পৌঁছে যান৷ চলে দুই মায়ের মধ্যে টানপোড়েন৷ পালিতা মা দেবযানী কে দিতে অস্বীকার করলে তার বাড়ির সামনেই ধরনায় বসে পড়েন সোনালী সামন্ত । তিনি তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।কিন্তু হরেন বাবুর স্ত্রী চন্দনা দেবী এখন সেই ১২বছর আগের কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে ,যার নাম দেবযানী তাকে ফেরত দিতে নারাজ।

সোনালী দেবী ও মেয়ের বার্থ সার্টিফিকেট দেখান। খবর যায় ঘাটাল থানায়৷ পরে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। দেবযানীকে পুলিশ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শিশু সুরক্ষা কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকার মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাদের চোখ জলে ভিজে যায়।

Previous articleহেঁসেলিয়ানা: বারবিকিউ চিকেন।। সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Next article২৪ ঘণ্টা না যেতেই তৃনমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত কোচবিহার, গুরুতর আহত যুব সভাপতি