লকডাউনে জোটেনি খাবার, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ৫সন্তানকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেন মা

485
লকডাউনে জোটেনি খাবার, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ৫সন্তানকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেন মা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২১ দিনের লকডাউনের ১৯ দিন কাটিয়েছিল হত দরিদ্র দিন মজুর পরিবারটি। আর সিংহভাগ দিনগুলো কেটেছে না খেয়েই। স্বামী স্ত্রী আর ৫সন্তান। দু’জনেই গতর খেটে চালাতেন সংসার। কিন্তু লকডাউনে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না অনেকেই। আর সরকার যে বলছে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তাঁর মর্মান্তিক মিথ্যাচরিতার স্বাক্ষী উত্তরপ্রদেশের যোগী রাজের এই ক্ষুদার্থ পরিবার। ক্ষুধার্ত সন্তানদের কান্না সহ্য করতে না পরে পাঁচ ছেলেমেয়েকে গঙ্গায় ‘বিসর্জন’ দিলেন মা। এই ঘটনা সামনে আসতেই স্তম্ভিত দেশবাসী।
উত্তর প্রদেশের ভাদোহি জেলার গোপীগঞ্জ পুলিশ থানার জেহাঙ্গিরাবাদ এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোর রাতে। স্থানীয় পুলিশ সুপার রাম বদন সিং জানিয়েছেন, ”ধৃত ও মহিলা মঞ্জু যাদব তাঁর কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছে যে স্বামী মৃদুলের সঙ্গে ঝগড়ার জেরেই তিনি এই কাজ করেছেন। ঘরে অভাব অনটন থাকায় অশান্তি চলছিল।”
বিশ্বজুড়ে করোনার দাপটে স্রেফ রোগে ভুগে মৃত্যু নয়। আতঙ্ক বাড়াচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও। মহামারির কামড়ে ইতিমধ্যে তছনছ হয়ে গিয়েছে অংগঠিত ক্ষেত্র। কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। সরকারি সাহায্যের আশ্বাস মিলেছে ঠিকই, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য বলে অভিযোগ। উপরন্তু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তৃণমূলস্তর অবধি আদৌ এসে পৌঁছবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে লকডাউন করে যদিও বা করোনার মৃত্যু মিছিল রোখা যায়, অনাহারে মৃত্যু কি থামানো যাবে, উঠছে প্রশ্ন। এমন আবহেই প্রকাশ্যে এল উত্তরপ্রদেশের এক করুণ চিত্র।
মঞ্জু জানিয়েছেন, ‘কতদিন ওদের খাবার দিতে পারিনি ভুলে গেছি। ওরা খাবারের জন্য কেঁদেছে আমি ওদের বাবার সঙ্গে ঝগড়া করেছি। কিন্তু কার দোষ জানিনা। আমি ওদের খিদে থেকে মুক্তি দিয়েছি। না খেতে পেয়ে এমনি মরে যেত ওরা।” শনিবার ভোরে মঞ্জু যখন আরতি, সরস্বতী, মাতেশ্বরী, শিব শংকর আর কেশবপ্রসাদকে গঙ্গার পাড়ে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন তখন চিৎকার করছিল ওরা সাহায্যর জন্য। কিন্তু তাঁকে ডাইনী ভেবে তল্লাট ছেড়ে পালিয়েছিল মাছ ধরা জেলের দল।
গঙ্গায় জাল পেতে বসেছিলেন যে মৎস্যজীবীরা তাঁরা পুলিশকে বলেছেন, এক মহিলা তাঁর ছেলে মেয়েকে একে একে গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন দেখে আমরা ভয় পেয়ে যাই। আমরা ভেবেছিলাম ওটা একটা ভয়ংকর ডাইনি। আমাদেরকেও মেরে ফেলবে। তাই চম্পট দিয়েছিলাম। এরপর সারারাত গঙ্গার পাড়েই বসে থাকেন মঞ্জু। সকালে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে নেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গঙ্গায় গিয়ে তল্লাশি চালায়। একমাত্র ১২ বছরের মেয়েটির দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়। ১০ থেকে ৩বছরের বাকি চারজনের হদিশ মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে আগে ওই চারজনকে মৃত অথবা জীবিত উদ্ধার করাই এখন তাঁদের
একমাত্র কাজ।
উত্তর প্রদেশ নয়, এই ঘটনা আজ সমস্ত গ্রাম ভারতের প্রান্তিক এলাকাতে গেলেও খোঁজ মিলবে। দুর প্রান্তিকে যে মানুষগুলো কাজ হারিয়ে দিনের পর চরম কষ্টে দিন গুজরান করছে তার খবর সরকারের কানে পৌঁছায়না। তারই প্রমান দিয়ে গেল ওই পাঁচটি প্রান।

লকডাউনে জোটেনি খাবার, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ৫সন্তানকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেন মা 2