দিনভর মীরজাফরই খুঁজল নন্দীগ্রাম ! ১৩ বছরের মাথায় ‘ভাগের মা’য়ের অনুভব

447
দিনভর মীরজাফরই খুঁজল নন্দীগ্রাম ! ১৩ বছরের মাথায় 'ভাগের মা'য়ের অনুভব 1
দিনভর মীরজাফরই খুঁজল নন্দীগ্রাম ! ১৩ বছরের মাথায় 'ভাগের মা'য়ের অনুভব 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘মীরজাফর আগেও ছিল, এখনও আছে।’ নাম না করেই নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন ফিরহাদ হাকিম। আর দিনের শেষে সন্ধ্যাবেলায় শুভেন্দু ভ্রাতা দিব্যেন্দু অধিকারী তমলুকের সাংসদ বলে গেলেন, ‘মীরজাফর কথাটি বলে ঠিক করেননি মন্ত্রী। মীরজাফর কারা মানুষই তার বিচার করবেন।” ১০ই নভেম্বর’২০২০, মঙ্গলবার দিনের শেষে এভাবেই মীরজাফর খুঁজল নন্দীগ্রাম। খুঁজল সিপিএম বা বিজেপি নয় তৃনমূল কংগ্রেসের মধ্যেই।

করোনা কালের মধ্যে আমফানের সর্বগ্রাসী ঝড় যতটা না নন্দীগ্রামকে নাড়িয়ে দিয়েছিল তারও চেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিয়েছিল আমফান পরবর্তী হতাশা। আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা নন্দীগ্রামের ওপর দিয়ে গড়িয়ে গেছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা তা ধরতে পারেননি, টাকা উঠেছিল বড় বড় জাল পেতে রাখা রাঘব বোয়ালদের ঘরে যাদের আদর করে মাথার ওপর বসিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম বাসী।
মঙ্গলবার আরও তিক্ত অভিজ্ঞতা হল নন্দীগ্রামের। নন্দীগ্রাম দিবসের দিনে ‘নন্দীগ্রাম’ নিয়ে কাড়াকাড়ি দেখলেন নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা। দেখলেন তের বছরের মাথায় ভাগের মা হয়ে আছে নন্দীগ্রাম!

দিনভর মীরজাফরই খুঁজল নন্দীগ্রাম ! ১৩ বছরের মাথায় 'ভাগের মা'য়ের অনুভব 3

এ নন্দীগ্রাম যে ভোটের নন্দীগ্রাম আর সেই ভোটে নন্দীগ্রাম কাদের ভোট দেবে সেটাই হয়ে দাঁড়ালো ‘নন্দীগ্রাম দিবস’ য়ের আসল বিচার্য বিষয়। আর সেই ভোটকে ঘিরেই এক নন্দীগ্রামে দু’দুটো ‘নন্দীগ্রাম দিবস’ আর প্রতিপক্ষ একটাই রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার সকালে গোকুলনগরে অনুষ্ঠিত ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে সভা।

সভার প্রধান বক্তা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘ খুব ভালো লাগছে, ভালো লাগছে ১৩ বছর পর নন্দীগ্রামকে মনে পড়েছে। ভোটের আগে আসছেন, ভোটের পরেও আসবেন তো?’ বলাবাহুল্য লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের উদ্যোগে পৃথক সভার প্রধান বক্তা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উদ্দেশ্যে। যদিও কারও নাম করেননি শুভেন্দু।

পরের সভা বিকালে, হাজরাকাটায়। প্রধানবক্তা ফিরহাদ হাকিম বলে গেলেন, “মমতা ব্যানর্জীকে অপমান করে তাঁর মন্ত্রী সভায় থাকার অধিকার নেই।” না, নাম তিনিও করেননি কিন্তু আক্রমনের লক্ষ্য শুভেন্দু অধিকারী। ফিরহাদ আরও বলে গেলেন, ‘মমতা ব্যানার্জীকে ছাড়লে বিজেপি আসবে।’ সেই ভোট! গত কয়েকদিন ধরেই হৈচৈ, নন্দীগ্রাম দিবস, নন্দীগ্রাম দিবস। কিন্তু কোথায় নন্দীগ্রাম দিবস?

তৃনমুল নেতা আবু তাহের বলছেন, ‘ওরা আমাদের সভায় মানে ভূমি  ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভায় লোক আসতে দিচ্ছেনা। চারদিক থেকে আটকাচ্ছে।” ওরাটা কারা? না, সিপিএম নয়, বিজেপি নয়, তৃনমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ। অন্যদিকে দোলা সেন বলছেন, ‘ওরা প্রতিবার মমতা ব্যানার্জীকে ডাকে এবার ডাকেনি বলেই আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।” সব মিলিয়ে মাথায় উঠেছে শহীদ আর মাথায় উঠেছে নন্দীগ্রাম।

নন্দীগ্রাম নিয়ে কী আলোচনা হল? খুঁজে পেলনা নন্দীগ্রাম। সারমর্ম এটাই যে ফের একটা ভোট আসছে…….। ১২টা নন্দীগ্রাম দিবস পেরিয়ে এই প্রথম বোঝা গেল নন্দীগ্রাম আসলে ভাগের মা। যাকে নিয়ে বিস্তর টানাটানি ১৩তম দিবসে। সেই নন্দীগ্রাম এতদিন পরে নামবে কী মীরজাফরের খোঁজে? লাখ টাকার প্রশ্ন এখন এটাই।