যারা অতীত কে ভুলে যায় তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার!’ নাম না করেই খোঁচা কি কালীঘাটকেই খোঁচা শুভেন্দুর

620
যারা অতীত কে ভুলে যায় তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার!' নাম না করেই খোঁচা কি কালীঘাটকেই খোঁচা শুভেন্দুর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: নন্দীগ্রামের পটভূমিকায় জমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনের ভিত্তিতেই যে তৃণমূলের ক্ষমতা লাভের পটভূমি তৈরি হয়েছিল সেই পটভূমির নায়ক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৭ এর পর ২০০৮, আন্দোলনের ঢেউ নন্দীগ্রাম থেকে স্থানান্তরিত হয়ে চলে গেল লালগড়ে। সেখানেও শুভেন্দু আধিকারী। ২০১১ পালাবদলে তাই মমতা ব্যানার্জী আর শুভেন্দু অধিকারী, দুটো পাশাপাশি নাম। শুভেন্দু অধিকারী তাই তখন মমতা আর মুকুল রায়ের পরই আলোচিত। কিন্তু ২০২০ সাল, ক্ষমতা লাভের মাত্র ৯ বছরের মাথায় দলে প্রায় গুরুত্বহীন শুভেন্দু অধিকারী। একে একে ছেঁটে ফেলা হয়েছে সমস্ত জেলার দায়িত্ব থেকে। এখন তিনি অতীত। কিন্তু অতীতকে ভুলে গেলে যে ভবিষৎ অন্ধকার তা নাম না করেই কার্যত কালীঘাটকে স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের সোনাচূড়ার গাংড়াতে জমি রক্ষা আন্দোলনের নেতা নিহত নিশিকান্ত মন্ডলের স্মরণ সভায় এসে ঠিক এই কথাগুলোই বলে গেলেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন আমি নন্দীগ্রামের বিধায়ক বা মন্ত্রী ছিলামনা, ছিলাম দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক। সেদিনকার জমি আন্দোলনের নেতা নিশিকান্ত মন্ডলের হাত ধরেই আমি সোনাচুড়াতে এসেছিলাম। তিনিই ছিলেন জমি আন্দোলনের প্রকৃত নেতা। সেই ঘটনা আমি ভুলে যাইনি। কারন আমি জানি, যাহারা অতীতকে ভুলিয়া যান, তাহাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হইতে পারেনা। তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হইবে।” ১১ বছর আগে এই দিনটিতেই আততায়ীর হাতে খুন হয়েছিলেন নিশিকান্ত মন্ডল। রাজ্য গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলেছিল মাওবাদীরাই খুন করেছিল নিশিকান্ত মন্ডলকে। কারন হিসাবে বলা হয়, জমি আন্দোলন পর্বে তৃনমূল নেতা নিশিকান্ত মন্ডলের হাতে মাওবাদীরা যে অস্ত্র ভান্ডার তুলে দিয়েছিল তা পরবর্তী কালে ফেরৎ দিতে অস্বীকার করেন মন্ডল। যদিও তৃণমূলের দাবি ছিল এই খুনের পেছনে ছিল সিপিএম।

যারা অতীত কে ভুলে যায় তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার!' নাম না করেই খোঁচা কি কালীঘাটকেই খোঁচা শুভেন্দুর 2

১১ বছরের মাথায় সেই নিশিকান্ত মন্ডলের স্মরণ সভায় এসে শুভেন্দু অধিকারী নাম না করেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘ অনেকেই অতীত ভুলে যান কিন্তু আমি শুভেন্দু অধিকারী অতীতকে ভুলে যাইনা।’ শুধু তাই নয় শুভেন্দু এদিন একথাও পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি যেটা শুরু করে ছিলাম শেষও করব সেটা দিয়েই।’ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তাহলে কী নন্দীগ্রাম দিয়ে শুরু হওয়া তৃনমূল রাজত্বের অবসানও নন্দীগ্রামের মধ্যে দিয়েই? ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর নিজের দল সম্পর্কে নির্লিপ্ততা বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে তৃনমূলকে।

আরও পড়ুন -  জলকামানের জলে রাসায়নিক, দাবি বিজেপির! রক্তবমি করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিজেপি নেতা রাজু বন্দোপাধ্যায়

একের পর এক সভা এবং সরাকারি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী শুধু তাই নয় নিয়ে চলেছেন নিজের মত করে কর্মসূচি। কখনও সখনও সেই কর্মসূচি দল বা সরকারের সমান্তরাল হয়ে গেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও একের পর এক দলের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে শুভেন্দু অনুগামীদের। অঙ্ক খুবই পরিষ্কার, দল পুনরায় ক্ষমতায় আসলে অভিষেক ব্যানার্জী হবেন মূখ্যমন্ত্রী অথচ হিসাব অনুযায়ী এই পদের ঐতিহ্য তথা দাবিদার হওয়ার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। অন্যদিকে শুভেন্দু মমতা ব্যানার্জীকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তাঁকে ছাড়া তিনি অন্য কাউকে নেতা হিসেবে মানতে পারবেননা।

আরও পড়ুন -  এন.আর.সিতে বিপদের মুখে আদিবাসী জনজাতিরাও, বললেন উমা

তৃণমূলের রাজনীতির হাল হকিকৎ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেছেন, “২০১৬ তৃণমূলের দ্বিতীয় মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠানের কথা ভাবুন। মুকুল রায় উপস্থিত থাকছেন আর শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রী হচ্ছেন বলে অনুষ্ঠান বয়কট করছেন অভিষেক ব্যানার্জী! অথচ এই অভিষেকের আবদার মেটাতেই, সংসদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে ওঠেন তাই শুভেন্দুকে সরানো হচ্ছে সাংসদ পদ থেকে। তারপরেও তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে নারাজ অভিষেক ব্যানার্জী। খুব স্বাভাবিক ভাবেই আজ শুভেন্দু তাঁকে মেনে নেবেন কেন? আর যে অতীতকে তৃণমল অস্বীকার করতে চাইছে সেই অতীতকে মনে করিয়ে দেওয়া শুভেন্দুর কর্তব্য। শুভেন্দু সেটাই করেছেন।”