দিনে শুভেন্দুর শোভাযাত্রায় আসা লোকজনের ওপর হামলার পর রাতেই নন্দীগ্রামে ভাঙচুর তৃণমূল কার্যালয়

দিনে শুভেন্দুর শোভাযাত্রায় আসা লোকজনের ওপর হামলার পর রাতেই নন্দীগ্রামে ভাঙচুর তৃণমূল কার্যালয় 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিনের বেলায় শুভেন্দু অধিকারীর সভায় আসার পথে লোকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তৃনমূলের বিরুদ্ধে আর রাতের সেই নন্দীগ্রামেই একটি তৃণমূলের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে ক্রিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া বলেই মনে করছেন রাজনীতিকরা। বুধবার সকালে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃনমুল নেতৃত্ব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ।

তৃনমূল নেতৃত্বের দাবি মঙ্গলবার গভীর রাতে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের মহম্মদপুর তৃণমূল কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তান্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। টিভি, আলমারী, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে। লুটপাট করে কাগজপত্র। ঘটনাচক্রে মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নন্দীগ্রামের এই মুহুর্তের বড় নেতা সেক সুফিয়ানের জামাই। এই ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে তাই মঙ্গলবারের দুপুরের ঘটনার প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তৃনমূলকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দিনে শুভেন্দুর শোভাযাত্রায় আসা লোকজনের ওপর হামলার পর রাতেই নন্দীগ্রামে ভাঙচুর তৃণমূল কার্যালয় 2

উল্লেখ্য মঙ্গলবার দুপুরে নন্দীগ্রামের জানকিনাথ মন্দিরে পুজো দিতে আসার সময় একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে মন্দিরে একটি সভাও করেন তিনি। সেই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে নন্দীগ্রামের সোনাচুড়ার দিক থেকে আসা একটি বাসবোঝাই ভক্তের দল আক্রান্ত হয় ভূতারমোড়ে। বাসটি ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর করা হয় যাত্রীদের। আহত হন প্রায় ১৫জন। ঘটনার খবর পেয়েই সভাতে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “আমাদের দুর্বল ভাবার কোনোও কারন নেই, এর জবাব পেয়ে যাবে আক্রমনকারীরা।” ঘটনাচক্রে রাতেই আক্রমন হয় তৃনমূলের পার্টি অফিসে।

তৃণমলের তরফে বলা হয়েছে এখন শীতকাল। রাত ৯ টা, সাড়ে ৯টার বেশি অফিসে কেউ থাকেনা। মঙ্গলবার ওই কার্যালয়ে একটি কর্মীসভা হয়েছিল তারপর রাত ৯টা ১৫নাগাদ অফিসটি বন্ধ করে নেতৃত্ব এবং কর্মীরা বাড়ি চলে যায়।
মহম্মদপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি দীপক গায়েন বলেন, ‘ কারা এই কাজ করেছে জানতে পেরেছি আমরা, পুলিশকে তা জানিয়েছি। পুলিশ এসেছিল ছবি তুলে নিয়ে গেছে। বাকিটা তদন্ত করে দেখুক পুলিশ। দলের জেলা ও ব্লক নেতৃত্বকেও বিজেপির এই সন্ত্রাসের কথা জানানো হয়েছে। ‘

যদিও বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার দায় অস্বীকার করে বলেছে তৃণমূলের লোকজন তৃণমূলের কার্যালয় ভেঙে বিজেপি-র ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আসলে দিনে ওরা যা করেছে তা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে মঙ্গলবার দুপুরের ঘটনায় যেমন ২জন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তেমনই রাতের ঘটনার তদন্ড শুরু হয়েছে গুরুত্ব দিয়েই। কোনও বিশৃঙ্খলাই বরদাস্ত করা হবেনা।