নির্বাচন বিধি বলবৎ হওয়ার পরেই প্রায় অর্ধশত তৃণমূল বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে; অর্জুনের বিস্ফোরক দাবীর পরই প্রাতঃভ্রমণে দিলীপের সঙ্গী প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা, জল্পনা তুঙ্গে

318
নির্বাচন বিধি বলবৎ হওয়ার পরেই প্রায় অর্ধশত তৃণমূল বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে; অর্জুনের বিস্ফোরক দাবীর পরই প্রাতঃভ্রমণে দিলীপের সঙ্গী প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা, জল্পনা তুঙ্গে 1

অশ্লেষা চৌধুরী: একজন বা দুজন নয়, একেবারে ৪১ জন তৃণমূল বিধায়ক খুব শীঘ্রই আসছেন গেরুয়া শিবিরে, বিস্ফোরক দাবী অর্জুন সিংয়ের। শনিবার সোদপুরের নাটাগড়ে চা চক্রে যোগ দিতে এসে এমন মন্তব্য করেন অর্জুন। আর রবিবারেই ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে দিলীপ ঘোষের সঙ্গী হিসেবে দেখা যায় বিধাননগরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর দেবাশীষ জানা-কে। আর এইখানেই শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কি শাসক শিবিরের ৪১- টি উইকেট পতনের এই সূত্রপাত? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচন বিধি বলবৎ হওয়ার পরেই প্রায় অর্ধশত তৃণমূল বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে; অর্জুনের বিস্ফোরক দাবীর পরই প্রাতঃভ্রমণে দিলীপের সঙ্গী প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা, জল্পনা তুঙ্গে 2

অর্জুন সিং শনিবার দাবী করেছেন, অন্তত ৪১ জন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি লাগু হলেই তারা বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে দাবী অর্জুনের। আর এর জেরে নিজের দলকে আর বাঁচাতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলে হুঙ্কারও ছাড়েন অর্জুন।
এদিকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কারা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন? সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন অর্জুন সিং। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের হয়ে বিতর্কসভায় যাঁরা অংশ নেন তাঁদের মধ্যেই অনেকে আসবেন বিজেপিতে। এছাড়াও চা চক্রের শেষে গত সরস্বতী পুজোয় তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হওয়া বিজেপি কর্মী শুভাশিস দাস ও তাঁর বাবাকে দেখতে যান অর্জুন সিং।

নির্বাচন বিধি বলবৎ হওয়ার পরেই প্রায় অর্ধশত তৃণমূল বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে; অর্জুনের বিস্ফোরক দাবীর পরই প্রাতঃভ্রমণে দিলীপের সঙ্গী প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা, জল্পনা তুঙ্গে 3

আর তার এমন মন্তব্যের পরের দিনেই প্রাতঃভ্রমণে দিলীপের সঙ্গী হয়ে সেই দাবীতেই কী সিলমোহর দিলেন তৃণমূলের দেবাশীষ জানা? সেই নিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ। এদিন সকালেই ইকো পার্কে হাঁটতে বেরিয়ে দু’জনকেই আলাপ-আলোচনা করতে দেখা যায়। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ঠিক কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেই ব্যাপারে মুখ খোলেননি দু’জনের কেউই। দলত্যাগের জল্পনাকেও একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছেন দেবাশীষ বাবু। আর বঙ্গ বিজেপি সভাপতিও এটিকে নিছক সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎ বলেই দাবী করেছেন।

উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের হাত ধরেই দু;বছর আগে বিধাননগর পৌরনিগমে ফাটল ধরেছিল। বিধাননগরের মেয়র তথা দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্তের বিজেপিতে যোগ সল্টলেক ও বিধাননগর চত্বরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। আর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই যেভাবে শাসকদলের প্রভাবশালী কিংবা ছোট-খাটো নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলর পদ্ম শিবিরে যোগ দিচ্ছে তাতে করে ঘাসফুলের অন্দরমহলে যে একটা চাপা অস্বস্তি কাজ করছে, সেটা অস্বীকারের উপায় নেই। তারই মাঝে অর্জুন সিংয়ের বিস্ফোরক দাবী ও সেইসঙ্গেই দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেবাশীষ জানার এই আলাপ-আলোচনা বিধাননগরে জল্পনা সৃষ্টি করবে তা খুবই স্বাভাবিক। এবার এই জল্পনায় ঘি পড়ে না জল পড়ে-সেটা সময় বলবে।

Previous articleহামর মাঁঞভাখি কুড়মালি ! একুশের শ্রদ্ধায় দীপ্তি মাহাত
Next articleরাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পা রাখতেই পুরুলিয়ার অযোধ্যায় মাওবাদী পোস্টার