ভোট লুটের নয়া কৌশল ফাঁস উলুবেড়িয়ায়! অসমে বিজেপি নেতার গাড়িতে আর বাংলায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার চার চারটি ইভিএম

606
ভোট লুটের নয়া কৌশল ফাঁস উলুবেড়িয়ায়! অসমে বিজেপি নেতার গাড়িতে আর বাংলায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার চার চারটি ইভিএম 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: চারদিন আগে অসমের এক বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল একাধিক ইভিএম মেশিন এবার সেরকমই একাধিক মেশিন মিলল বাংলার এক তৃনমূল নেতার বাড়িতে। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় তৃনমূল নেতা গৌতম ঘোষের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে চারটে ইভিএম মেশিন। ডিসিআরসি থেকেই ইভিএম মেশিনগুলি সরাসরি পৌঁছে গেছিল এই নেতার বাড়িতে। ঘটনায় ১ সেক্টর অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বাড়িতে বসেই ইভিএমে ভোট ভর্তি করে তা ঢুকিয়ে দেওয়া হত স্ট্রং রুমে যা পরে চলে যেত গণনাকেন্দ্রে।

তবে এই জালিয়াতি ধরার কৃতিত্ব অবশ্যই গ্রামবাসীদের। ভোটের আগের রাতে উলুবেড়িয়া উত্তরে ওই নেতার বাড়িতে ইভিএম পৌঁছেছে খবর পেয়েই তাঁরা বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। খবর পেয়েই এলাকায় যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও এই ঘটনায় নিজেদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। শুধু ইভিএম নয়, তৃতীয় দফার ভোটের আগের দিন রাত হতেই উলুবেড়িয়ার তুলসিবেড়িয়ায় তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে মিলেছে ভিভিপ্যাডের সেটও। নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সেগুলো বুথে না নিয়ে গিয়ে তৃণমূল নেতার বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ।

ভোট লুটের নয়া কৌশল ফাঁস উলুবেড়িয়ায়! অসমে বিজেপি নেতার গাড়িতে আর বাংলায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার চার চারটি ইভিএম 2

সোমবার রাতে ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে গাড়ি ঢোকার পর সেখানে কিছু হচ্ছে অনুমান করে জড়ো হতে থাকেন গ্রামবাসীরা। তাঁদেরই নজরে পড়ে ওই ইভিএম গুলি । সঙ্গে সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় মানুষজন বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। খবর পেয়েই এলাকায় যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যান সেক্টর অফিসার এবং বিডিও। তাঁদেরকে ঘেরাও করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুটের পরিকল্পনার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তবে সেখান থেকে ভিড় সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

উল্লেখ্য এই উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী তৃণমূলের নেতা নির্মল মাঝি। উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি হাওড়ার আমতা-১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত। এই কেন্দ্রের অধীন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল বাণিবন, বাসুদেবপুর, জোয়ারগড়ি, তেহট্ট কাঁটাবেড়িয়া ১, তেহট্ট কাঁটাবেড়িয়া ১ এবং তুলসিবেড়িয়া। এই তুলসিবেড়িয়া থেকেই মিলেছে ইভিএম গুলি।

এরকমই ঘটনা ঘটেছিল অসমে দ্বিতীয় দফার ভোটের পর। করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি কেন্দ্রের কিছু ইভিএম সেখানকার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের গাড়িতে মিলেছিল। ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রবল উত্তেজনা। বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম লুঠের অভিযোগে সরগরম হয় গোটা দেশ। গাড়িটির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক ছিলেন না। গাড়ির মধ্যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। তীব্র বিতর্কের মাঝে উত্তেজনা থামাতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে তাহলে বিজেপি আর তৃনমূল দু’তরফেই বুথের বাইরে ইভিএম দোস্তির এক নয়া কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে বহুদিন ধরেই?