খেলা হবে, খেলা হবে, সারা বছর নেচে গেয়েও মাঠের বাইরে দেবাংশু! সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার ট্রোল

1051
খেলা হবে, খেলা হবে, সারা বছর নেচে গেয়েও মাঠের বাইরে দেবাংশু! সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার ট্রোল 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ‘বিধির বিধান দিদিই রবে, বন্ধু এবার খেলা হবে।‘ কিন্তু যে সব থেকে বেশি খেলা হবে, খেলা হবে বলে চিৎকার করে গলা ফাটালেন, শুক্রবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সেখানেই ব্রাত্য রয়ে গেলেন তিনি; তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। দলের হয়ে লড়াবার জন্য কোনও কেন্দ্রেই প্রার্থী হিসেবে স্থান পেলেন না দেবাংশু। আর তাতেই সোশ্যাল মাধ্যম জুড়ে একপ্রকার হাসির খোরাক হয়ে উঠলেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবাংশুর সেই ছবিটাই সব চেয়ে বেশি পোষ্ট করে ট্রোল করা হয়েছে। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঠাকুর ঘরে বসে রয়েছেন দেবাংশু। পেছনে মা সারদা, মা কালীর ছবি কিন্তু নিজের কোলে নিয়ে বসে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জীর ছবিটি। এই ঠাকুর ঘরে অন্যান্য দেবদেবীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকেও পুজো করেন তিনি কিন্তু তারপরেও তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি? এভাবেই ট্রোল হয়েছেন তিনি।

খেলা হবে, খেলা হবে, সারা বছর নেচে গেয়েও মাঠের বাইরে দেবাংশু! সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার ট্রোল 2

নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগেই খেলা হবে শীর্ষ গানের বোলে নেচে গেয়ে একে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। যে কোনও জনসভায় দেবাংশুর গলায় এই খেলা হবে গান শুনে উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে দেখা যায় যুবক থেকে মধ্যবয়সী সকলকেই। আর শুধু রাজনৈতিক সভা কেন, বিয়ে বাড়ী জোক বা চড়ুইভাতি, ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নৃত্য করতেও দেখা যায় অনেককেই। গানের বলের মাধ্যমেই একদিকে যেমন গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করেন দেবাংশু, ঠিক তার চেয়েও যেন বেশি করে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসার একের পর এক কথামালা তিনি তুলে ধরেন এই গানের মাধ্যমে। প্রতিটা জনসভায় দেবাংশু বুঝিয়ে দিতে চান নবান্নে হাওয়াই চটির কতটা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং নবান্নে আরও একবার হাওয়াই চটি বলেই ডাক দেন তিনি।

আর এদিন প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সেই দেবাংশুই যেন সকলের হাসির পাত্র হয়ে উঠেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ে গিয়েছে ট্রোলের বন্যা। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ব্যবহারী লিখেছেন, সারাবছর খেলা হবে খেলা হবে করে ছোটে বলে তাকেই মাঠ থেকে বার করে দিল? আর সেই ব্যবহারকারীর পোস্টে নানান রকম হাসির কমেন্টে ভরিয়ে দিয়েছেন অন্যান্য ব্যবহারকারীরা। ওপর এক ব্যবহারকারী নিজের ফেসবুক দেওয়ালে পোস্ট করেছেন,” শুনলাম দেবাংশুকে দুধভাত রাখা হয়েছে, আসলে ছোট তো…।” অপর আরও একজন ব্যবহারকারী তো বিখ্যাত টুম্পা সোনা গানের বোলে ফেসবুক পোস্টে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন। যদিও এই সকল বিষয়ে এখনও দেবাংশু ভট্টাচার্যের বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বেড়েছে একের পর এক বিপত্তি। আরাবুল থেকে সোনালী, মইনুদ্দিন থেকে মাষ্টারমশাই টিকিট না পেয়ে কোথাও কান্না, কোথাও আগুন। তো আবার বহিরাগত ইস্যুকে সামনে রেখে দলের প্রতি এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কেউ কেউ। কোথাও তো আবার দল নেত্রীর ঘোষিত প্রার্থীকে মেনে নেবেন না বলে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন দলের কর্মী সমর্থকদের একাংশ। কিন্তু কেউ কোথা থেকেও একবার প্রশ্ন তোলেনি দেবাংশুকে প্রার্থী করা হলনা কেন? কেউ তিন দিন কেউ বা ১২ ঘন্টা আগে দলে এসে টিকিট পেয়ে গেছে অথচ যাঁকে দিয়ে প্রায় প্রতিটি জেলা চষে বেড়ানো হয়েছে গত কয়েকমাস ধরে তাঁরই জুটলনা একটা টিকিট?