বলির রক্তে নয়, বামুন বুড়ির চাই মাটির মালসাতে চিড়ে, কলা আর বাতাসা

223
বলির রক্তে নয়, বামুন বুড়ির চাই মাটির মালসাতে চিড়ে, কলা আর বাতাসা 1

পলাশ খাঁ, গোয়ালতোড় :- বলির রক্তে নয়, মাটির মালসাতে চিড়ে কলা আর বাতাসাতেই সন্তুষ্ট হন শালবনীর পাড়ুয়ামার জাগ্রতাদেবী বামুনবুড়ি সন্ন্যাসী মাতা। তাই পুজো দিতে আসা সমস্ত ভক্তরা চিড়ে ভোগের মালসা মানত করেন মায়ের কাছে নিজের মনস্কামনা পুরণের আশায়। কেউ হাজার, কেউ বা তারো বেশীও মালসা ভোগ মানত রাখেন৷ ফলে সন্ন্যাসী থান লাখো লাখো মালসা ভোগের লম্বা লাইন পড়ে যায়।বলির রক্তে নয়, বামুন বুড়ির চাই মাটির মালসাতে চিড়ে, কলা আর বাতাসা 2

বলির রক্তে নয়, বামুন বুড়ির চাই মাটির মালসাতে চিড়ে, কলা আর বাতাসা 3

শালবনীর পিড়াকাটা সংলগ্ন কলসীভাঙ্গার পাড়ু আয়মা তে প্রতি বছর ৩ রা ও ৪ ঠা মাঘ বামুন বুড়ি সন্ন্যাসী মাতার আরাধনা করা হয় ভক্তি নিষ্ঠা সহকারে। পুজো উপলক্ষে বিশাল মেলারও আয়োজন করা হয়। লাখো লাখো ভক্তের উপস্থিতি মন্দির চত্বর হয়ে উঠে মিলন ক্ষেত্র।

বলির রক্তে নয়, বামুন বুড়ির চাই মাটির মালসাতে চিড়ে, কলা আর বাতাসা 4

পাড়ু আয়মা, কলসী ভাঙ্গা সহ ওই এলাকার জাগ্রতা দেবী হলেন বামুন বুড়ি সন্ন্যাসী মাতা। আজ থেকে প্রায় ৮২ বছর আগে এই দেবীর পুজোর প্রচলন শুরু করেছিলেন কলসীভাঙ্গা গ্রামের লক্ষীকান্ত মাহাত। তিনি গত হওয়ার পর তার বংশধরেরা এখনো এই পুজো করে আসছেন পুরনো রীতিনীতি মেনেই।

কলসীভাঙ্গা সহ ওই এলাকা ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। যা এখনো বিদ্যমান। সেই জঙ্গল থেকেই কাঠ পাতা এনে সংসার প্রতিপালন করেন এলাকার মানুষ জন। এমন কি গবাদিপশু চারণের জন্য জঙ্গলেই যেতে হয়। কথিত আছে জঙ্গলে একবার এক ব্যাক্তি গোরু চরাতে গিয়েছিলেন। সারাদিন ধরে জঙ্গলে গোরু চরছিল। বিকেলে হয়ে যাওয়ার পর গোরু নিয়ে ঘর যাওয়ার সময় দেখেন একটি বলদ নেই। অনেক খুঁজাখুঁজি করেও গোরুর সন্ধান তিনি পাননি। তিনি এই কথাটি জানান তার নিকট আত্মীয় লক্ষীকান্ত মাহাত কে। তিনিও খুঁজে খুঁজে যখন হয়রাণ হয়ে একটি গাছের নীচে বসে ভাবছেন কি কিরবো কোথায় যাবো। আর কিছু ভাবতে না পেরে বনদেবীর নাম স্মরণ করেন। এমন সময় এক বয়স্কা এসে তাকে বলে যান যে গোরুটি জঙ্গলের কোন খানে আছে এবং গোরুটি নিয়ে আসতেও বলেন। লক্ষীকান্ত বাবু তৎক্ষনাৎ ছুটে গিয়ে দেখেন বয়ষ্কার কথা মত গোরু টি সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি গোরু নিয়ে আবার সেই গাছের তলায় ফিরে এসে দেখেন বয়স্কা বৃদ্ধা তখনও বসে আছে সেই গাছেরই নীচে। লক্ষীকান্ত বাবু তখন তার কাছে করজোড়ে জানতে চায় তার আসল পরিচয়। তখন সেই বয়স্কা বৃদ্ধা জানান যে তিনি সন্ন্যাসী মাতা বামুন বুড়ি। এই জঙ্গলেই তার বাস। এখানে তার পুজোর কথা বলেন। এবং তিনি জানিয়ে যান যে এই জঙ্গলে যদি কারো কোনো সমস্যা হয় তাহকে যেন তার স্মরণ নেই। তিনি উদ্ধার করবেন। তারপর থেকেই বামুন বুড়ি সন্ন্যাসী মাতার আরাধনার প্রচলন শুরু হয়। শোনা যায় এলাকার অনেকেরই গবাদিপশু জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়ার পর এই দেবীর স্মরনাপন্ন হওয়ার পর গবাদিপশু ফিরে পেয়েছেন সকলেই।

লক্ষিকান্ত বাবু মারা যাওয়ার পর তারই বংশধর রবীন্দ্রনাথ মাহাত সেবাইত ছিলেন দেবীর। শোনা যায় লক্ষীকান্ত বাবুকে একবার আমাঝরণার জঙ্গলে ডাকাতে ঘিরেছিল। লক্ষীকান্ত বাবু মায়ের স্মরনাপন্ন হয়। মা সেই ডাকাতদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে মায়ের সেবাইত আছেন কালিপদ মাহাত। তিনি জানান প্রতিবছর ৩রা ও ৪ঠা মাঘ খুব ধুমধাম সহকারে পুজো করা হয়। এছাড়াও নিত্য পুজো হয় প্রতি মঙ্গল বার ও শনিবার প্রচুর ভক্ত আসেন পুজো দিতে নিজেদের মনস্কামনা পুরণের আশায়। দেবীর প্রসাদ বলতে চিড়া, কলা ও বাতাসা। মাটির মালসাতে করে এই প্রসাদ দেওয়া হয়। প্রচুর ভক্ত মালসা প্রসাদ মানত রাখেন। প্রায় দুই লক্ষ মালসা মানত পড়ে। সেজ মালসা গুলিতে চিড়ে কলা আর বাতাসা দিয়ে মন্দিরের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়। স্থানাভাবে সব মালসা সাজানো সম্ভব হয়ে উঠে না।

বামুন বুড়ি মেলা কমিটির সভাপতি বিমল মাহাত জানান, ” দুই দন ধরে চলা এই পুজোতে মেলারও আয়োজন করা হয়। মেলাতে লাখ লাখ দর্শক হাজির হয়। মেলা উপলক্ষে যাত্রা সহ নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে৷

Previous articleহেঁসেলিয়ানা,পিঠেপুলি: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Next articleইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা