চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা, করোনা কালে বাজি বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায়ী সংগঠন

219
চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা, করোনা কালে বাজি বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায়ী সংগঠন 1
চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা, করোনা কালে বাজি বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায়ী সংগঠন 2

নিউজ ডেস্ক: দুর্গা পুজোর পর এখন কালী পুজো। কিছুদিন পরেই সকলে মেতে উঠবেন আলোর উৎসবে। তবে দীপাবলী আলোর উৎসব হলেও এদিনের ব্যবহার করা আতশবাজির শব্দ ও ধোঁয়া পরিবেশ দূষণের মূল কারণ। তার ওপর আবার করোনা আবহ চলছে। তাই এবারে বাজি ফাটালে করোনা রোগীদের জন্য ভয়ঙ্কর খলনায়ক রূপে ধরা দেবে করোনা। চিকিৎসকেরা বারবার অনুরোধ জানাচ্ছেন এই বছর অন্তত বাজি ফাটাবেন না। রাজ্য সরকারে পক্ষ থেকেও একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, বাজির ধোঁয়া এমনিতেই এক বিপদ, বিশেষ করে কোভিডের সংক্রমণে এই বাজির ধোঁয়া মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যেকোনও বয়সের কোভিড আক্রান্তের পক্ষেই এই বাজির ধোঁয়া মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সংক্রমণের পাশাপাশি এই দুর্যোগে মৃত্যুর হার এক ধাক্কায় বেড়ে যেতে পারে কয়েকগুণ ।

চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা, করোনা কালে বাজি বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ব্যবসায়ী সংগঠন 3

তাঁরা বলছেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফুসফুস। তার ওপর আবার উৎসবের মরসুম না কাটতেই শীত কড়া নাড়ছে দরজায়। এতে এমনিতেই গলা বুকের সমস্যা বাড়ে, সর্দি কাশি হয়। এর ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো দূষণ বাড়ে তাহলে আর কথা নেই। কোভিড সংক্রমণ মাত্রা ছাড়া হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বাজি বা পটকায় যে সালফার বা কার্বন থাকে তা দূষণ বাড়ায়। এর সঙ্গে রয়েছে শব্দ দূষণ। এর ফলে শ্বাসকষ্ট এমনিতেই বাড়ে। এর সঙ্গে কোভিড হলে কথা নেই। তারা বলেছেন, অতি সূক্ষ্ম বায়ুবাহিত দূষণ কনা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ এগুলো ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে এবং প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে।

২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায় বলে বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে বাজি এবং পটকার যথেষ্ট অবদান আছে। অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে ২০১৯সালে বায়ু দূষণ জনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১৯লাখ মানুষ মারা গিয়েছেন। মনে রাখতে হবে গত বছর কিন্তু কোভিড ছিল না। আর এ বছর সারা বিশ্বজুড়ে কোভিডের দাপট চলছে।

আর তাই চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা দিয়ে এই করোনা আবহে বাজি বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল বাজি ব্যবসায়ী সংগঠন। কলকাতায় মূলত ৪ জায়গায় বাজির বাজার বসে- হাওড়া, বেহালা, কালিকাপুর এবং টালা । তারা রাজ্য সরকার ও চিকিৎসকদের অনুরোধে মান্যতা দিয়ে বাজি বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন গতকালই। কোভিড পরিস্থিতিতে সকলের কথা চিন্তা করেই তারা এবার বাজি বাজার বসাবেন না। সেই সাথে আরও অন্যান্য ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথেও মৌখিক ভাবে কথা বলে বা চিঠি লিখে বাজি বাজার না বসানোর আবেদন করবেন বলেও তারা জানান। কার কলকাতার এই ৫ জায়গার পাশাপাশি রাজ্য জুড়েও অনেক বাজির বাজার বসে। তাই করোনাকালে সকলের সচেতনতার কথা মাথায় রেখেই ব্যবসায়ী সংগঠনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।