বড়দিন উপলক্ষ্যে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন ডুয়ার্সের বাসিন্দারা

90
বড়দিন উপলক্ষ্যে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন ডুয়ার্সের বাসিন্দারা 1

অশ্লেষা চৌধুরী: আজ বড়দিন, খ্রীষ্ট ধর্মালম্বী মানুষদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি দিন। আর সকলের মতই ডুয়ার্সের বাসিন্দারাও মেতে উঠেছেন উৎসবের আমেজে। বিশেষ করে ডুয়ার্সের চা বাগান গুলির খ্রীষ্টধর্মাবলম্বী মানুষেরাও মেতে উঠেছেন আনন্দে। রীতিমতো আলোর রোসনাইয়ে ভাসছে চার্চ সংলগ্ন শ্রমিক মহল্লা গুলি। গির্জা গুলিকে সাজানো হয়েছে আলোক মালায়। আবার কোথাও প্রভু যিশুর জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে সাজানো হয়েছে কাল্পনিক সাজসজ্জা। সব মিলিয়ে বড়দিনের মহেন্দ্রক্ষণে উৎসবের আনন্দে গা ভাসিয়েছেন সকলেই।

তবে বড়দিন উপলক্ষ্যে সবচেয়ে খুশির খবর হল ডুয়ার্সে পর্যটকদের আগমণ। বড়দিন উপলক্ষ্যে ডুয়ার্সে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। চওড়া হাসি পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে। কারণ কোভিড পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল প্রতিটি ট্যুরিষ্ট স্পট। এমনকি আনলক পর্বে জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পর্যটকরা আসছিলেন না। ট্রেন বন্ধ ছিল অনেকদিন, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ট্রেন চলাচল। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। বড়দিনের আনন্দ তাই দ্বিগুন পর্যটন ক্ষেত্রে।

বড়দিন উপলক্ষ্যে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন ডুয়ার্সের বাসিন্দারা 2

কোভিড পরিস্থিতিতে প্রায় সাত মাস জঙ্গল বন্ধ থাকার সাথে সাথেই ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলো ছিল বন্ধ। পরবর্তীতে আনলক পর্যায়ে জঙ্গল খুলে গেলেও পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকদের দেখা মিলছিল না। এমনকি পুজোর মরশুমেও তেমন হারে পর্যটক আসেনি। কিন্তু বড়দিনের মরশুমে পর্যটক কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকের ঢল নেমেছে; গত বছর, তার আগের বছর যেমন ঢল নেমেছিল এবছরও তেমন হারেই পর্যটক এসেছে বলে জানান চিলাপাতা ইকো ট‍্যুরিজম সোসাইটির আহ্বায়ক অভিক গুপ্ত। তিনি বলেন, বড়দিন উপলক্ষ্যে আলিপুরদুয়ার জেলার চিলাপাতা, জয়ন্তী, বক্সা লেপচাখা সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের স্পমাগম হয়েছে বেশ।

প্রসঙ্গত, বড়দিন উপলক্ষ্যে ডুয়ার্সের চা বলয়ের বাসিন্দারা তাদের অন‍্যতম পবিত্র ও বড় উৎসব বড়দিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। মেতে উঠেছিলেন ক্যারল খেলায়। তাঁদের আশা ভগবান যিশুর জন্ম দিবসের পূন্যলগ্ন থেকেই ফের করোনার থাবা থেকে মুক্ত হবে গোটা বিশ্ব। সেই আশাতেই ক্যারল খেলায় মেতে ওঠেন তারা। জেলার বিভিন্ন গীর্জাঘরগুলি সাজিয়ে তোলা হয় রঙ ও আলোকসজ্জায়। এছাড়া চলে গানবাজনার প্রস্তুতি।

মূল উৎসব ২৫ শে ডিসেম্বর হলেও উৎসবের মেজাজ থাকে সপ্তাহ জুড়েই। বড়দিন কে সামনে রেখে সেজে ওঠে বিভিন্ন দোকান। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন এলাকায় ব্যবসায়ীরা। সান্টাক্লজের পোষাক, পুতুল, ট্রি, স্টার কী নেই সেসব দোকানে। প্রায় একবছর ধরে সকল উৎসবে বাধ সেধেছে করোনা। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। তাই করোনা ভয় কাটিয়ে বড়দিন পালনে মেতে উঠেছেন সকলেই।