শুভেন্দুর পথেই ‘ঠিকাদার’রের বিরোধিতায় উত্তরের তৃণমূল বিধায়কের! বললেন, পিকেই সব তছনছ করে দিচ্ছে

871
শুভেন্দুর পথেই 'ঠিকাদার'রের বিরোধিতায় উত্তরের তৃণমূল বিধায়কের! বললেন, পিকেই সব তছনছ করে দিচ্ছে 1

নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দুর পথেই দলে বাড়ছে পিকে বিরোধিতার সুর। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই একের পর বয়কট করা শুরু করেছিলেন প্রশান্ত কুমারের কর্মসূচি। পিকের প্রচার ‘দিদিকে বল’ কিংবা ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কোনোও টাই গ্রাহ্য করেননি তিনি। এমন কি পিকের নেতাজি ইনডোরের কর্পোরেট ধাঁচের দলীয় মিটিংও তিনি বয়কট করেছিলেন। পিকের টিম রীতিমত সন্তর্পনে কাজ করে শুভেন্দুর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে। সম্প্রতি পিকের টিমের এক কর্মী দেখা করতে চেয়ে বিফল হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক তৃনমূল নেতার সঙ্গে। ‘অরাজনৈতিক’কোনও ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করবেননা বলে জানিয়ে দিয়েছে। এবার সেই পিকে কেই ঠিকাদার বলে কটাক্ষ করলেন উত্তরবঙ্গের তৃনমূল বিধায়ক মিহিরের গোস্বামীর। আগেও প্রকাশ্যেই বিধায়ক অভিযোগ করেছিলেন ঠিকাদার সংস্থাকে দিয়ে ভোটে জেতা যায় না। আর একবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন নিজের এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধায়ক। দিদির দলে কোনও ঠিকাদার থিংক–ট্যাংক কোম্পানি ঢুকে পড়ে সব তছনচ করে দিচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। দলনেত্রীর প্রতি আস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া আদতে কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই কথাও উল্লেখ করলেন তিনি। আর এই ঘটনায় বাংলার রাজনীতিতে মিহিরকে নিয়ে জন্ম নিল নতুন করে গুঞ্জন।

ফেসবুকে মিহির গোস্বামী লিখেছেন, ‘দিদির দলে কোনও ঠিকাদার থিংক–ট্যাংক কোম্পানি ঢুকে পড়ে তছনছ করে দিচ্ছে ঘরবাড়ি, অপমানিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অথচ দিদি অন্তরালে নির্বিকার, তাহলে সেই ঘর-বাড়ীর মতই দিদির প্রতি এতদিনের সব আস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়?’

শুভেন্দুর পথেই 'ঠিকাদার'রের বিরোধিতায় উত্তরের তৃণমূল বিধায়কের! বললেন, পিকেই সব তছনছ করে দিচ্ছে 2

ফেসবুক পোস্টে নিজের তৃণমূলে যোগদানের কারণ উল্লেখও করেন তিনি। কংগ্রেস–সিপিএমকে হারাতেই যে তিনি তৃণমূলে আস্থা রেখেছিলেন, সেকথা দিয়েই শুরু করেন ফেসবুক পোস্ট। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই সিপিএমে আস্থা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যারা কুকথা বলেছেন, তারাই আবারও দলে সম্মানে যোগ দেওয়ায় বিরক্ত হয়েছেন মিহির গোস্বামী। এত কিছুর পরেও তিনি দলনেত্রীর উপর আস্থা হারাননি বলেও দাবী করেন তিনি। দলের তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুই পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। এমনকী মিহির গোস্বামীর দাবী, দলে একাধিকবার অপমানিতও হতে হয়েছে তাঁকে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে নিজের কার্যালয়ে লাগানো তৃণমূলের পতাকা–সহ সমস্ত ব্যানার খুলে ফেলেন মিহির বাবু। কার্যালয়ের সামনে নতুন ব্যানারে লেখা হয়, কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কার্যালয়। ধর্মসভার সেই কার্যালয়ের ভেতরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ছবি সরিয়ে সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীদের ছবি লাগানো হয়। এসবের মধ্যে বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি বলে খবর। যদিও তা বিজয়া উপলক্ষ্যে সৌজন্যতা মূলক সাক্ষাৎকার বলেই দাবী করা হয়। তারই মাঝে আবারও সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট করেছেন দীর্ঘ লেখা।
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীকে ‘আমাদের গর্ব’ বলে ব্যানার ঝুলছে। পিকে তৈরি করেছিলেন ‘বাংলার গর্ব মমতা’ তারই পাশে ‘আমাদের গর্ব’ ব্যানার ঝুলিয়ে শুভেন্দুর ছবি লাগানোয় ভ্রু কুঁচকেছেন তৃনমুল নেতারা। দক্ষিন পেরিয়ে ক্রমশ উত্তরে তবে কী প্রলম্বিত হচ্ছে শুভেন্দু ছায়া? মিহির গোস্বামী যে অনেক প্রশ্ন তুলে দিলেন।