কোকেনকাণ্ডে ফের চমক! কলকাতায় গ্রেফতার আরও এক, ভোটের মুখে চরম অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির

425
কোকেনকাণ্ডে ফের চমক! কলকাতায় গ্রেফতার আরও এক, ভোটের মুখে চরম অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির 1

 

নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ওয়াটগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কোকেনকাণ্ডে যুক্ত সুরজ কুমার শা নামে এক ব্যক্তিকে । ধৃত ব্যক্তি বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত ওই ব্যক্তিকে আজই আলিপুর আদালতে তোলা হবে। ধৃতকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

কোকেনকাণ্ডে ফের চমক! কলকাতায় গ্রেফতার আরও এক, ভোটের মুখে চরম অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির 2

 

এদিকে একের পর এক বিজেপি নেতা কোকেনকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়াতে দলের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। সপ্তাহখানেক আগেই বিজেপির যুবনেত্রী পামেলা গোস্বামীকে মাদক-সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত পামেলা বিজেপির অনেক বড়া নেতারই ঘনিষ্ঠ। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ-সহ দলের তাবড় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে পামেলার।

 

সেই কারণেই কোকেন-কাণ্ডে পামেলার গ্রেফতারিতে স্বভাবতই অস্বস্তি বাড়ে গেরুয়া নেতাদের। এদিকে, গ্রেফতারির পর থেকেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পামেলা। পুলিশের কাছে এই ঘটনায় রাকেশ সিং যুক্ত বলে পাল্টা অভিযোগ করেন যুবনেত্রী।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সুরজ কুমার শা মাদক-কাণ্ডে ধৃত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ। মাদক পাচার কাণ্ডে অমৃত সিংকে এই সুরজই পালাতে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। সুরজকে জেরায় মাদক-কারবার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য হাতে আসবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে এই কারবারে আরও কে কে জড়িত বা এর পিছনে প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তির মদত রয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

 

প্রসঙ্গত, মাদকচক্রে বিজেপি যুব মোর্চা নেত্রী পামেলা গোস্বামী ও বিজেপি নেতা বলে পরিচিত প্রবীর দে, যার সাথে পামেলার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়, তাদের গ্রেপ্তার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। এরপরেই কোর্ট লকআপে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে পামেলা বলেন, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘনিষ্ঠ রাকেশ সিং গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন। রাকেশ ফাঁসিয়েছেন পামেলাকে। তবে ঘটনায় মুখ খোলেন রাকেশ সিং। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পামেলাকে দিয়ে বলানো হচ্ছে এসব কথা। তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা পুলিশকে দিয়ে এই সব কাজ করাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত রয়েছে গোটা ঘটনায়। কিন্তু ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাকেশ সিংকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টের মধ্যে দেখা করতে বলে সমন পাঠায় কলকাতা পুলিশ। তবে রাকেশ জবাবে জানান তিনি দিল্লী যাওয়ার কারণে দিনকয়েক পরে হাজিরা দিতে পারবেন। ওদিকে কলকাতা পুলিশের তলবি নোটিশে স্থগিতাদেশ চেয়ে করা মামলাতেও ধাক্কা খান রাকেশ। স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে কলকাতা হাইকোর্ট।

 

এদিন দুপুরেই পুলিশ হাজির হন রাকেশের বাড়ীতে। সেখানে পুলিশের পথ আগলে দাঁড়ান রাকেশের দুই ছেলে। কাগজ দেখতে চেয়েই এই পথ আটকানো বলে দাবী করেন তারা। এর পরই দক্ষিণ কলকাতার পুরো বাড়ী ঘিরে ফেলে পুলিশ। এমনকি রাকেশ সিংয়ের বাড়ীর দরজার তালা ভাঙার প্রস্তুতি শুরু করেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। যদিও শেষ পর্যন্ত তার দরকার পড়েনি। বিকেল ৫টা নাগাদ পুলিশ আধিকারিকদের বাড়ীতে ঢোকার অনুমতি দেন রাকেশ সিংয়ের আত্মীয়রা।

 

এরপর তল্লাশি অভিযান করলেও রাকেশের সন্ধান মেলেনি সেইসময়। তারপর রাকেশের মোবাইল টাওয়ার লোকেশান ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। জানা যায় দিল্লী নয়, এই রাজ্যেই আত্মগোপন করে আছে রাকেশ। শুরু হয় বর্ধমানের হাইওয়ের ধারে নাকা-চেকিং। তারপরই একটি গাড়িতে গলসি পেরোনোর সময় রাকেশকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। তবে রাকেশের বাড়ীতে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানোর পরেই কলকাতা পুলিশের নারকোটিক্স বিভাগে অফিসাররা এবং স্থানীয় পুলিশ অফিসাররা আটক করেছিল রাকেশের দুই ছেলেকে। এরপর  সেই মাদক কাণ্ডে আরও একজন ধরা পড়ল পুলিশের জালে।