মইদুল মিদ্যার মৃত্যুর খবরে আতঙ্ক পাঁশকুড়ার বহরপোতা গ্রামে; নবান্ন অভিযানে গিয়ে ৫ দিন পরও বাড়ী ফেরেননি দীপক

604
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: ৫দিন হয়ে গেছে বাড়ি ফেরেননি দীপক,দীপক পাঁজা! কোথায় আছেন তিনি, কোনও হাসপাতালে বেহুঁশ হয়ে নাকি বেনামি লাশ হয়ে কোনও মর্গে! এই উদ্বেগের মধ্যেই সোমবার সকালে খবর এসেছে নবান্ন অভিযানে গিয়ে আহত মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুর। এরপরই আতঙ্কের কালো ছায়া পাঁশকুড়ার বহরপোতা গ্রামে। দুশ্চিন্তার ভাঁজ সরস্বতী পাঁজার কপালে। সরস্বতী, দীপকের স্ত্রী। নবান্ন অভিযানে গিয়ে আজও নিখোঁজ দীপক পাঁজাও!

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১১ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। আজ পাঁচটা দিন পেরিয়ে গেলেও বাড়ী ফিরে আসেননি দীপক বাবু। না তো মিলেছে তাঁর কোনও রকম সন্ধান। সরস্বতী জানিয়েছেন, ‘‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে কলকাতার যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান উনি। সন্ধ্যায় আমাদের প্রতিবেশীরা জানান ওঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উনি পড়াশোনা জানেন না। কোথায় আছেন? কি অবস্থায় আছেন কিছুই জানি না। পুলিশ ওঁকে খুঁজে বার করে দিক।’’ বাঁকুড়ার যুবক মইদুল ইসলাম মিদ্যার পরিণতি জানার পর থেকেই আরও অস্থির হয়ে উঠেছেন তিনি। দরিদ্র পরিবার। দিনমজুরি করে কোনওরকমে দীপকবাবু সচল রাখতেন সংসারের চাকাটা। আর সেই মানুষটাই যে নিখোঁজ।

Advertisement
Advertisement

দীপকের পরিবার জানিয়েছে, কলকাতার নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর পরিবার। জানানো হয় লালবাজারেও। কিন্তু কোনও খোঁজ মেলেনি দীপক বাবুর। সোমবার লালবাজার থেকে অভিযোগপত্র পাঁশকুড়া থানায় পাঠানো হয়েছে। হাওড়া শিবপুর থানায় এই বিষয়ে খোঁজ খবর করার জন্য যাচ্ছে পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল।

এদিকে দীপক বাবুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটন‌ায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও। এই ঘটনায় রাজ্যের শাসক দল এবং পুলিশকেই দায়ী করেছেন পাঁশকুড়ার বাম বিধায়ক ইব্রাহিম আলি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করার জন্য লাঠি-জলকামান কিছুই বাদ দেয়নি পুলিশ। আমাদের বহু কর্মী সমর্থক গুরুতর জখম। একজন মারাই গেলেন। পাঁচদিন হয়ে গেল দীপক বাবুর কোনও হদিশ নেই।’’ ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা নেতা ঝড়েশ্বর বেরা বলেন, ‘‘দীপক বাবু ফিরে না এলে আমরা আন্দোলন আরও জোরদার করব। রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব আমরা।’’

১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ১০টি বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের ডাকে নবান্ন চলো কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান পাঁশকুড়ার বহরপোতা গ্রামের বাসিন্দা দীপক পাঁজা। পুলিশের তরফে বাম যুব কর্মীদের আটকানোর জন্য ব্যারিকেড তৈরি করে। এমনকি নির্মম লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে সেল ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর তারপর থেকেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান দীপক বাবু। আর পরিবারের কর্তার অন্তর্ধানে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তাঁর স্ত্রী সরস্বতী দেবীর। আর সোমবার নবান্ন অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত বাঁকুড়ার ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুর খবর পেতেই আতঙ্কের কালো ছায়া গ্রাস করেছে সরস্বতী দেবীকে।