এবার চলবে পুরুলিয়া, স্টিল, বাঘা, ভদ্রক, টাটা প্যাসেঞ্জার! আশায় বুক বাঁধছে খড়গপুর, বেলদা, ঝাড়গ্রাম, গড়াবেতা

1650
এবার চলবে পুরুলিয়া, স্টিল, বাঘা, ভদ্রক, টাটা প্যাসেঞ্জার! আশায় বুক বাঁধছে খড়গপুর, বেলদা, ঝাড়গ্রাম, গড়াবেতা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: শহরতলীর ট্রেনের চাকা আগেই গড়িয়েছিল, আজ, বুধবার থেকে পূর্ব রেল শহরতলীর বাইরের ট্রেন চালু করতে চলেছে। হাওড়া ডিভিশনের বর্ধমান অবধি, এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের লালগোলা অবধি ট্রেন চালু হয়েছিল। এবার বর্ধমান পেরিয়ে রামপুরহাট, আসানসোল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের জন্য রেল পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। প্রথমেই সমস্ত ট্রেন চালু না করে ধাপে ধাপে ট্রেন চালু হচ্ছে । চালু করছে পূর্ব রেল। আর তাতেই আশায় বুক বাঁধছেন খড়গপুর, বেলদা সহ বিস্তীর্ণ অংশের মানুষরা। ইতিমধ্যেই লোকাল ট্রেন ছুটতে শুরু করেছে, এবার নিশ্চিত প্যাসেঞ্জারও চলবে।

পূর্ব রেলের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার থেকেই তাদের ৩টি ডিভিশনে ৮১টি ট্রেন চলবে। আপাতত হাওড়া, আসানসোল, মালদা ডিভিশনে ট্রেন চলবে। বর্ধমান-রামপুরহাটের মধ্যে চলবে ৮টি প্যাসেঞ্জার, রামপুরহাট-গুমানির মধ্যে চলবে ৬টি প্যাসেঞ্জার, রামপুরহাট-দুমকা-জসিডির মধ্যে চলবে ২টি প্যাসেঞ্জার, বর্ধমান- আসানসোল রুটে চলবে ৮টি প্যাসেঞ্জার, অণ্ডাল-সাঁইথিয়ার মধ্যে চলবে ৪টি প্যাসেঞ্জার এবং আজিমগঞ্জ-রামপুরহাটের মধ্যে চলবে ৬টি প্যাসেঞ্জার।

এবার চলবে পুরুলিয়া, স্টিল, বাঘা, ভদ্রক, টাটা প্যাসেঞ্জার! আশায় বুক বাঁধছে খড়গপুর, বেলদা, ঝাড়গ্রাম, গড়াবেতা 2

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পূর্ব রেল জানিয়েছে, ২ ডিসেম্বর থেকে ২৭ জোড়া নন সাবার্বন প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলবে। ট্রেনগুলি চলবে হাওড়া, আসানসোল ও মালদা ডিভিশনে। হাওড়া ডিভিশনের মধ্যে রয়েছে, বর্ধমান-রামপুরহাট ৮টি । রামপুরহাট-গুমানি ৮টি।রামপুরহাট-দুমকা-জসিডি ২টি। কাটোয়া-আজিমগঞ্জ ৮ এবং আজিমগঞ্জ -রামপুরহাটে ৪টি ট্রেন। আসানসোল ডিভিশনে রয়েছে, বর্ধমান- আসানসোল রুটে ৮টি ,অণ্ডাল-সাঁইথিয়া ৪,আসানসোল-ধানবাদ ৪,আসানসোল-জসিডি-ঝাঁঝা রুটে ৪টি এবং অণ্ডাল -জসিডি রুটে ২টি ট্রেন চলবে।অন্যদিকে মালদা ডিভিশনে মালদা-বড়হারওয়া রুটে চলবে ২টি ট্রেন।

এদিকে দক্ষিণ পূর্ব রেল হাওড়া থেকে আমতা, হলদিয়া এবং মেদিনীপুর অবধি শহরতলীর ট্রেন চালায়। অন্যদিকে পূর্ব রেল বর্ধমান, কাটোয়া, নামখানা,কল্যাণী বনগাঁ অবধি শহরতলীর ইএমইউ পরিষেবা দেয়। এর বাইরের বিস্তীর্ণ অংশে মেমু অথবা প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলে। গ্রামীন বাংলার জনজীবন এবং অর্থনীতি কার্যত এই মেমু এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ওপরই নির্ভরশীল। ইএমইউ পরিষেবা চালুর ঘোষণার পরই যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল মেমু বা প্যাসেঞ্জার ট্রেন কেন নয়? যদিও এখুনি রেল কিছু জানায়নি তবে এখানেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলেই জানা গেছে। খড়গপুর বিভাগের হাওড়া বোকারো/চক্রধরপুর, শিরোমনি, বাঘাযতীন প্রভৃতি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ওপর শুধু স্থানীয় নয় বহু দূর দুরান্তের মানুষও নির্ভর করেন।বলা যেতে পারে এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই ট্রেনগুলো।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তৃর্ণ অংশ এবং ঝাড়গ্রাম জেলার পুরোটাই দক্ষিণ পূর্ব রেলের নন সাবার্বান রেলের অন্তর্গত। এমনিতেই এই অংশে ট্রেনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। তার ওপর ট্রেন চলাচল সম্পুর্ন বন্ধ থাকায় বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, গড়বেতা, চন্দ্রকোনা রোড, ঝাড়গ্রাম, বেলদার মানুষদের প্রয়োজনে বাস ধরে তিন চার গুন ভাড়া খরচ করে কলকাতা বা মেদিনীপুর আসতে হচ্ছে। প্রচুর অফিস কর্মী এবং বেসরকারি কর্মীদের রোজগারের বড় অংশ যাতায়াতে খরচ হচ্ছে। মার খাচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতি। আর এ বিষয়ে ক্ষোভ দক্ষিণ পূর্ব রেলের ফেসবুক পেজে রোজ দেখা যাচ্ছে। মানুষ কোনো পোস্ট দেখলেই তার কমেন্ট সেকশনে কেন খড়গপুর আদ্রা, টাটা বা বলেশ্বর রুটে ট্রেন চলছেনা তার উত্তর চাইছেন।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আধিকারিকদের যোগাযোগ করলেও কোনো উত্তর তাঁরা দিতে চাননি। উল্টো দিকে বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের সংসদরা ট্রেন চালুর জন্য রেলের কাছে অবদান করেছিলেন। বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার জানান এই প্রসঙ্গে রেলের তরফ থেকে কোনো জবাব তাঁরা পাননি। ফলে কবে এই এলাকায় ট্রেন চালু হতে পারে তার উত্তর সবার অজানা। ততদিন অবধি হয় স্পেশাল ট্রেনে সিট রিজার্ভ করে যাতায়াত করা না হয় তিনগুন ভাড়া দিয়ে বাসে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই হতভাগ্য মানুষদের। তবে রাজ্যে লোকাল ট্রেনের চাকা গড়ানোর পর যখন প্যাসেঞ্জার আর এক্সপ্রেস গড়াতে শুরু করেছে তখন ঝাড়গ্রাম, বেলদা, খড়গপুর, গড়াবেতা আশায় বুক বাঁধছে। আর কিছুদিনের মধ্যে ছুটতে পারে পুরুলিয়া, স্টিল, ইস্পাত, বাঘাযতীন,ভদ্রক, হাতিয়া,আদ্রার মত ট্রেনগুলিও।