ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে দেশ, সাংসদের বেতন ছাঁটা হল ৩০শতাংশ, আগামী ২বছর বন্ধ সাংসদ উন্নয়ন তহবিল

213
ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে দেশ, সাংসদের বেতন ছাঁটা হল ৩০শতাংশ, আগামী ২বছর বন্ধ সাংসদ উন্নয়ন তহবিল 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনের ধাক্কার বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। কলকারখানা, ব্যবসা বানিজ্য স্তব্ধ। জিডিপি বৃদ্ধির হার কেন্দ্র সরকারের মতে ৩শতাংশে নামতে পারে আর বেসরকারি হিসাব বলছে ২শতাংশেরও নিচে। নোটবন্দি কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় অর্থনীতির। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিরা মার খেয়েছিলেন সেবার। রাস্তাঘাটে বা অন্য কোথাও হকারি করতেন এমন ৫০লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছিল নোটবন্দিতে। আর এবার পালা বড় শিল্পেরও। ভয়াবহ রাজস্ব ঘাটতির মুখে দেশ। এই অবস্থায় সংকট মোকাবিলায় লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের বেতন এক বছরের জন্য ৩০ শতাংশ ছাঁটা হবে বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ ব্যাপারে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্ডিন্যান্স তথা অধ্যাদেশে অনুমোদন দেওয়া হল। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাংসদদের বেতন ও পেনশন আইনের (১৯৫৪) সংশোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা সকলেরই লোকসভা বা রাজ্যসভার সাংসদ। সুতরাং তাঁদের বেতনও ৩০ শতাংশ করে কাটা হবে। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপ রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু ও সব রাজ্যের রাজ্যপালরা স্বেচ্ছায় বেতন ছাঁটাইয়ে সম্মতি দিয়েছেন। সাংসদ ও রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালদের বেতনের এই অংশ ভারত সরকারের তহবিলে যাবে।

ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে দেশ, সাংসদের বেতন ছাঁটা হল ৩০শতাংশ, আগামী ২বছর বন্ধ সাংসদ উন্নয়ন তহবিল 2

অধ্যাদেশ জারি করে সাংসদদের বেতন ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। তা হল সাংসদ এলাকার উন্নয়ন তহবিল তথা এমপি ল্যাড চলতি অর্থবর্ষ এবং আগামী অর্থবর্ষের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রসঙ্গত, এমপি ল্যাড খাতে প্রত্যেক সাংসদ এলাকা উন্নয়ন বাবদ বছরে পাঁচ কোটি টাকা করে পান। প্রকাশ জাভড়েকর জানান, এমপি ল্যাড খাতে দুটি আর্থিক বছরে ৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল। সেই টাকাও কনসোলিডেটেড ফান্ডে যাবে।

প্রসঙ্গত, গতকালই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়েককে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মনে করা হচ্ছে, সাংসদদের বেতন ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে তখন তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সর্বসম্মত মতামত গড়ে তুলেই আজ মন্ত্রিসভায় অধ্যাদেশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Previous articleচাইনা করোনা হাসপাতাল, মালদায় ভাঙচুর, আগুন
Next articleকর্মী নিরাপত্তায় এবার ‘ স্যানিটাইজ শাওয়ার’ বসালো রেলের খড়গপুর ডিভিসন