রাজস্থান বা দিল্লি নয়, লকডাউনের রাস্তায় পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর

1911
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: ক’দিন আগে জুহি চাওলার পোষ্ট করা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল ভিডিওটা। দেখা গেছিল জুহির দিল্লির বাড়ির সামনে রাস্তায় ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর। গাড়িতে বাড়ির পাঁচিলে উঠে পড়েছে তারা । প্রকৃতিবিদরা বলেছেন করোনা যেমন মানুষকে আতঙ্কে রেখেছে তেমন প্রকৃতিকে করেছে নিষ্কলুষ। স্বচ্ছ জলে ভাসছে ডলফিন, জাতীয় সড়কে উঠে আসছে হরিনের দল , দিঘার সৈকতে ফের ফিরেছে লাল কাঁকড়া , ওড়িশার গঞ্জামে ডিম পাড়ছে হাজার হাজার কচ্ছপ আরও কত কী ? কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদাতে ময়ূর ? হ্যাঁ, লকডাউনে ময়ুরের দেখা মিলেছে রাজস্থানে, দিল্লির শহরের অলিতে গলিতে। তাবলে পশ্চিম মেদিনীপুর। এক সময় অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে বা অধুনা ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়িতে ময়ুর দেখা পাওয়া যায় আজও। কিন্তু তা বলে বেলদা!

Advertisement

তবুও মিলল । আসে পাশে নেই জঙ্গল পাহাড় না থাকা স্বত্তেও বেলদা থানার জোড়াগেরিয়া ফাঁড়ির অন্তর্গত সাউরি গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল একটি বড়সড় মাপের ময়ূরকে। ময়ূর দেখতে ভিড়ও জমে গেল বেশ। ছৌত ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে বুড়োবুড়ি , যুবক যুবতী, গৃহবধু কে নেই। লকডাউনের সামাজিক দুরত্ব, করোনার ভয় ভেঙে চৌচির। খবর পেয়ে দৌড়ে এল পুলিশও। মানুষজনকে সরিয়ে ময়ূরটিকে উদ্ধার করলেন তাঁরা। এরপরই চলে আসে বনদপ্তর। আপাতত তাঁদের হেফাজতেই ময়ূর।

Advertisement
Advertisement

কিন্তু ময়ূর এল কোত্থেকে? খোঁজ নিয়ে জানা গেল সাউরি থেকে তিন কিলোমিটার দুরে পোরলদা গ্রামের এক যুবক যে কিনা কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কর্মরত সেই জঙ্গলমহল মানে সেই বেলপাহাড়ী বা সংলগ্ন পুরুলিয়া জেলায় পোস্টিং থাকার সময় ২টি ময়ূরের ডিম সংগ্রহ করে এনে বাড়িতে পোষা মুরগীর তা দিয়ে ফুটিয়ে বড় করছিলেন। বর্তমানে পাঞ্জাবে কর্মরত কোবরা বাহিনীর সেই জওয়ান। ময়ুর আর ময়ুরীটিকে রেখে যেতে হয়েছে বাড়িতেই।  সেই দুটির একটি আজ কোনও ভাবে ছাড়া পেয়ে উড়ে চলে আসে এই গ্রামে। অবাক হচ্ছেন ? ভাবছেন মুরগী দিয়ে ময়ূর ? কাক দিয়ে কোকিলের ডিমে তা ? না , অবাক হওয়ার কিছু নেই। বেলপাহাড়ি , পুরুলিয়া বা সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের বাড়িতে বাড়িতে এ জিনিস দেখতে পাওয়া যায়।

যদিও ময়ূর পোষা বন্যপ্রান আইন অনুযায়ী বে আইনি। কিন্তু জঙ্গলের মানুষ শখে পোষেন এবং কোনও ময়ূরের কোনও ক্ষতি তারা করেন না । ডিম বা মাংস খাননা তাই বনদপ্তর কিছুটা ছাড় দেয়। তবে আমার আপনার বেলায় এটা মারাত্মক অপরাধ । আর সেই কারনে এই জাওয়ান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান কিভাবে বন্যপ্রাণ আইন ভেঙে বাড়িতে ময়ূর পুষছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বনদপ্তর।বন্যপ্রাণ আইনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বনদপ্তর সূত্রের খবর। আরেকটি ময়ূরেরও খোঁজ চলছে।