বাড়ি থেকে ডেকে শিকারে নিয়ে গিয়ে বন্ধুকেই শিকার করলেন যুবক, পিংলায় ভয়াবহ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

1263
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাওনা টাকা না পেয়ে রাগটা ছিলই কিন্তু সেই টাকার জন্য এমন নৃশংস খুন ভাবাই যায়না! বুধবার বিকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার হাজরাবাগান এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের অদূরের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তাক্ত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এমনই ঘটনা প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে যদিও এই তদন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

Advertisement

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম প্রতাপ দন্ডপাট। বয়স ২৮বছরের প্রতাপের বাড়ি ওই থানা এলাকার জামনা গ্রামপঞ্চায়েতের টুঙুর গ্রামে। যুবকের বাবা মা ছাড়াও স্ত্রী ও ২টি সন্তান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী ফের ৭মাসের গর্ভবতী।

Advertisement
Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে জামনা গ্রামপঞ্চায়েতেরই দুটি পাশাপাশি গ্রাম টুঙুর ও নয়া। পিংলা থেকে ময়না যাওয়ার রাস্তার ওপরে এপাশ ওপাশ দুটি গ্রাম। টুঙুরের নিহত প্রতাপের সাথে পরিচয় ছিল অভিযুক্ত নয়া গ্রামের যুবক গঙ্গা নায়েকের। গঙ্গার বয়স ২২য়ের কাছাকাছি কিন্তু ২জনের মধ্যে পূর্বে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল কিন্তু টাকা লেনদেন নিয়ে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

প্রতাপ গঙ্গার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করেছিল যা সে মেটায়নি। গঙ্গা বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করত। কিছুদিন আগে সে ফিরে আসে এবং প্রতাপের কাছে সে তার টাকা ফেরৎ চায়। কিন্তু প্রতাপ টাকা ফেরৎ দিতে পারেনি।আর এই কারনে গঙ্গা প্রতাপের সাইকেল নিয়ে রেখে দিয়েছিল। ঘটনাকে ঘিরে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল।

বুধবার দুপুরে প্রতাপ গঙ্গার কাছে যায় এবং তাকে বলে শিকারে যাবে। দুজনেই শবর জনজাতির মানুষ, শিকার করা অর্থাৎ ঝোপঝাড় জঙ্গল থেকে জঙ্গুলে প্রাণী শিকার করা এঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অঙ্গ। মনোমালিন্য থাকলেও দুজনে মিলে শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, গঙ্গার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দুজনে মিলে হাজরাবাগান এলাকার ওই ঝোপের ধরে প্রচুর মদ্যপান করে। এরপরই প্রতাপ সাইকেলের প্রসঙ্গ তুলে, গঙ্গা পাল্টা তার টাকা ফেরৎ চায়। দুজনের মধ্যে বচসা হাতাহাতি শুরু হয়। এই সময় প্রতাপ গঙ্গার নাকে একটা ঘুঁষি মারে। গঙ্গার কোমরে একটা ভোজলি ছিল। গঙ্গা তা বের করে সরাসরি ঢুকিয়ে দেয় প্রতাপের পেটে। এরপর রক্তাপ্লুত প্রতাপকে ফেলেই সে বাড়ি চলে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি ফোন পেয়ে পিংলা থানার ওসি শঙ্খ চ্যাটার্জী দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং প্রতাপকে উদ্ধার করে পিংলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছিল তার। সম্ভবত অতিরিক্ত রক্তপাতেই এই মৃত্যু। স্থানীয় লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ জানতে পারে যে প্রতাপের সঙ্গে ওই জায়গায় গঙ্গাকে দেখা গিয়েছিল। এরপরই পুলিশ গঙ্গার বাড়ি হানা দেয় পুলিশ। তুলে আনা হয় তাকে। গঙ্গা তখনও মদের নেশায় টোর। পুলিশি জেরায় গড়গড় করে গঙ্গা সব কথা স্বীকার করে নেয় বলে পুলিশের দাবি।