Homeজাতীয়পুলিশ ঠিকই করেছে, বিতর্কের মধ্যেই এনকাউন্টারকে সমর্থন করে বিবৃতি গ্যাং স্টারের বিকাশ...

পুলিশ ঠিকই করেছে, বিতর্কের মধ্যেই এনকাউন্টারকে সমর্থন করে বিবৃতি গ্যাং স্টারের বিকাশ দুবের বাবার

বিশেষ সংবাদদাতা: গ্যাং স্টার বিকাশ দুবেকে জীবিত অবস্থায় ধরতে চাওয়া হয়, কিন্তু সে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে ও পুলিশ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছে। সেই এনকাউনটারেই মৃত্যু হয়েছে গ্যাং স্টার বিকাশ দুবে র । উত্তর প্রদেশের কানপুরের গ্যাং স্টার বিকাশ দুবে র মৃত্যুর পরে ওই এনকাউনটার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন । শুরু হয়েছে বিতর্ক । এই এনকাউনটার ভুয়ো, সাজানো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই । বিরোধী দলের নেতাদের অনেকেই এই এনকাউনটার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । নানা ধরনের বিতর্ক ও প্রশ্নবানে জর্জরিত উত্তর প্রদেশের সরকার ও পুলিশ । এই অবস্থায় পুলিশের সাফাই ‘অভিযুক্তকে (বিকাশ দুবে) জীবিত ধরার যাবতীয় চেষ্টা করা হয়েছিল।’ কিন্তু নানা প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। রীতিমতো প্যাঁচে পড়েছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ । এরই মধ্যে তাদের স্বস্তি একটাই । বিকাশ দুবের বাবা রামকুমার দুবের বিবৃতি। উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রশাসনকে সমর্থন করেছেন তিনি । বলেছেন, ছেলে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছিল ।

শুক্রবার রাতেই শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বিকাশ দুবে র । সেখানে যান নি বিকাশ দুবে র বাবা মা । তবে গিয়েছিলেন স্ত্রী রিচা। তিনিও বলেছেন, ভুল করেছিল তার স্বামী । তাই এমন পরিণতি। যেমন কর্ম তেমন ফল ।

রামকুমার দুবে বলেছেন, যদি বিকাশ আমাদের কথা শুনত তাহলে ওর জীবনটা এই ভাবে শেষ হতো না। বিকাশ আমাদের কোনও দিন কোন রকম ভাবে সাহায্য করে নি। বরং ওর জন্য আমাদের আদি বাড়িও মাটিতে মিশে গিয়েছে । ও আটজন পুলিশ কর্মীকেখুন করেছে। যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ । প্রশাসন একদম ঠিক কাজ করেছে।

কিন্তু যেভাবে মৃত্যু হয়েছে গ্যাং স্টারের তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে । এনকাউনটারের কিছু ক্ষণ আগেই আটকে দেওয়া হয় সংবাদ মাধ্যমের গাড়ি। যারা মধ্যপ্রদেশ থেকেই পুলিশের কনভয়ের সঙ্গে আসছিল । কানপুর ঢোকার আগে পুলিশের গাড়ি ‘ উলটে’ যাওয়ার পর এলাকার পথ চলতি মানুষকে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয় । এমন যত জিনিস জানা যাচ্ছে ততই প্যাঁচে পড়ছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ । তাই ওই এনকাউনটার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন । সাজানো’, ‘ভুয়ো’ এনকাউন্টার নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই অবস্থায় পুলিশের তরফে সাফাই দেওয়া হল, ‘অভিযুক্তকে (বিকাশ দুবে) জীবিত ধরার যাবতীয় চেষ্টা করা হয়েছিল।’

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে বিকাশকে কানপুরে নিয়ে আসছিল উত্তরপ্রদেশের এসটিএফের একটি দল। কিন্তু দুর্ঘটনার আগে-পরের একাধিক ঘটনা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্নচিহ্ন উঠছে। বিরোধীরাও চেপে ধরেছেন। এই অবস্থায় পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, কানপুরের সচেন্দ্রী থানায় একটি হাসপাতালের সামনে পৌঁছাতে গাড়ির সামনে আচমকা গরু, মোষের দল চলে আসে। সেই পশুর পালকে বাঁচাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত চালক ওই পশুদের বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়ি উলটে যায়।

গাড়ি উলটে যেতেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিকাশ । পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে । বাধ্য হয়েই পুলিশকে গুলি করতে হয় ।

পুলিশের দাবি, গাড়িতে পাঁচজন পুলিশকর্মী কিছুক্ষণের জন্য অচৈতন্য হয়ে পড়েন। সেই সময় রমাকান্ত চৌধুরী নামে এক পুলিশকর্মীর সরকারি পিস্তল নিয়ে বিকাশ গাড়ি থেকে বেরিয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অপর একটি গাড়ি, যেটি একটু পিছনে ছিল । সেখানেই ছিলেন দলের নেতৃৃত্বে থাকা তেজবাহাদুর সিং। আহত পুলিশকর্মীদের থেকে পুরো বিষয়টি জেনে দ্বিতীয় গাড়ির পুলিশকর্মীরা বিকাশের পিছু ধাওয়া করে।

বিকাশ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও ‘অভিযুক্তকে জীবিত ধরার যাবতীয় প্রয়াসের জন্য বিকাশের একদম কাছে পৌঁছে যাওয়া হয়েছিল’ বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিকাশ ‘প্রচুর’ গুলি চালানোয় ‘আত্মরক্ষা’-য় ‘নিয়ন্ত্রিত’ গুলি চালানো হয়। তাতে আহত হয় বিকাশ। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে পুলিশের সেই সাফাই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের দাবি মতো যদি ‘নিয়ন্ত্রিত’ গুলি চালানো হয়, তাহলে বিকাশের বুকে তিনটি এবং হাতে একটি বুলেট লাগল কীভাবে? প্রোটোকল অনুযায়ী তো পায়ে গুলি মারার কথা।

দ্বিতীয়ত, গাড়ি উলটে গেল, পুলিশকর্মীরা অজ্ঞান হয়ে পড়লেন, অথচস বিকাশের কিছু হল না, সে পিস্তল ছিনিয়ে উলটে থাকা গাড়ি থেকে পালাল । অথচ দ্বিতীয় গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা আহত পুলিশকর্মীদের থেকে জানতে পারলেন যে বিকাশ পালিয়েছে! বিশেষত দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির সামনের কাঁচে চিড় ধরলেও ভেঙে যায়নি, যেখান থেকে দ্বিতীয় গাড়ির নজর এড়িয়ে বিকাশ বেরিয়ে গিয়েছে বলে বলা যায় না। সামনের জানালার কাঁচও মোটের উপর ঠিক ছিল, রীতিমতো ওয়াইপারও চলছিল (সেই ভিডিয়োও সামনে এসেছে)। ফলে বিকাশ গাড়ির পাশের দরজা দিয়েই বেরিয়ে থাকলে দ্বিতীয় গাড়ির নজরে পড়ল না কেন? তাহলে প্রথম এবং দ্বিতীয় গাড়ির মধ্যে দূরত্ব কত ছিল? কনভয়ে গাড়ির দূরত্ব তো সাধারণত বেশি হয় না। বিরোধী দলের নেতাদের ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তোলা সেইসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য উত্তরপ্রদেশ পুলিশ দেয় নি।

বরং বিরোধীরা দাবি করে যে এই গ্যাং স্টারের সঙ্গে বিজেপি প্রথম সারির নেতাদের সখ্যতা ছিল । সেই সব ছবি এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে । বিকাশ দুবে সব কিছু বলে দিত। তাই নিজেদের বাঁচাতেই পুলিশকে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে ওই গ্যাং স্টারকে। তবে এই নিয়ে কোনও রকম কথা বলেছেন না উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও বিজেপি নেতারা।

RELATED ARTICLES

Most Popular