ঘরে বসেই আঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন অঙ্কন প্রতিযোগিতার অভিনব উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের

592
ঘরে বসেই আঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন অঙ্কন প্রতিযোগিতার অভিনব উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের 1
ঘরে বসেই আঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন অঙ্কন প্রতিযোগিতার অভিনব উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনে ব্যাহত পঠন পাঠন। আগামী জুন মাস অবধি বন্ধ থাকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে রাখতে ঘরে বসেই অনলাইন পাঠ শুরু করে দিয়েছে বহু স্কুল ও বোর্ড। কিন্তু শুধুই পড়াশুনা? পড়ুয়াদের মনের বিকাশ ও সৃজনশীলতা! সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এবার অভিনব উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের। ঘরে বসেই অংশ নেওয়া যাবে অঙ্কন, ক্যুইজ, মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায়।

এই প্রতিযোগিতার উদ্যোগ পুলিশ ও প্রশাসন। হোয়াটসঅ্যাপ ও অনলাইনের মাধ্যমেই অংশ নেওয়া যাবে প্রতিযোগিতায়। এনিয়ে মহকুমা শাসকের দফতরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের বৈঠকও হয়েছে। মেদিনীপুর পুরসভার প্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক দীননারায়ন ঘোষ বলেছেন, বাড়ীতে বসে থাকা ছাত্রছাত্রীরা অনেকাংশেই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলা বা অন্যান্য অ্যাক্টিভিটি করতে পারছে না। প্রভাব পড়ছে শিশুমনে। তাদেরকে বাড়ীতে বসিয়ে রেখেই একটু ভিন্ন স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঘরে বসেই আঁকো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন অঙ্কন প্রতিযোগিতার অভিনব উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের 3

ক্যুইজ প্রতিযোগিতার জন্য অনলাইনের পাশাপাশি বেসরকারী একটি কেবল সংস্থারও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কিভাবে কি করা হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও চলছে। অপরদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মডেল প্রস্তুতি প্রতিযোগিতার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকছে অঙ্কন প্রতিযোগিতা। আর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকছে মডেল প্রস্ততি প্রতিযোগিতা।

১২ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিযোগীরা ৯৬৪১৬৭৪০২০ নম্বরে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবে। অঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় থাকছে ক)পুলিশ বন্ধু অথবা খ)সামাজিক সচেতনতা। মডেল প্রস্তুতি প্রতিযোগিতায় থাকছে ‘বাতিল পদার্থ থেকে দরকারী জিনিষ তৈরি করুন’। বাড়ীতে বসে সমস্ত উপলভ্য দ্রব্য পুনর্ব্যবহার করে কিছু উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল শিল্পকর্ম তৈরির চেষ্টা করতে হবে। শুধু তাই নয়, পুরো প্রক্রিয়াটিকেই ভিডিওগ্রাফী করে রাখতে হবে। ২০ এপ্রিল প্রতিযোগিতার শেষ দিন।

ওইদিন বিকেল ৫টার মধ্যে অঙ্কন ও মডেলের ছবি নির্দিষ্ট ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করতে হবে। পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিযোগীরা নিজেদের বাড়ীতে বসেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগীর বাড়ি থেকেই অঙ্কন পেপার ও মডেল সংগ্রহ করে নেওয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে কেউ যাতে বাড়ীর বাইরে না বের হয়ে পড়েন সেই সতর্কতাও জারি করে দেওয়া হয়েছে। শিশুমনকে খুশী করতে আকর্ষণীয় পুরষ্কারমূল্যও ঘোষণা করা হয়েছে। অঙ্কনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীর জন্য যথাক্রমে ৫ হাজার , ৩ হাজার এবং ২ হাজার টাকা পুরষ্কারমূল্যের ঘোষণা করা হয়েছে।

একইভাবে মডেল প্রস্তুতির জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধীকারীকে দেওয়া হবে যথাক্রমে ১০ হাজার, ৫ হাজার এবং ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও পাঁচজনকে ২ হাজার টাকা করে সান্তনা পুরষ্কারও দেওয়া হবে। প্রত্যেক সফল প্রতিযোগীকে শংসাপত্রও দেওয়া হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সমস্ত পড়ুয়াই অংশ নিতে পারবে এই প্রতিযোগিতায়। রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ৮০০১০০৭৮৬৮ নম্বরে। এরপর পুলিশই সময়মত জানিয়ে দেবে সবকিছু। পুলিশই বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে আনবে প্রতিযোগীর সরঞ্জাম। অতএব সময় মত নাম নথিভুক্ত করে দিতে পড়ুয়াদের সাহায্য করুন অভিভাবকরা।