পড়ুয়ারা অন লাইনে পাঠ নিচ্ছে আর মিড ডে মিলের চাল খেয়ে মুরগী বাড়ছে স্কুলে! পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে চাঞ্চল্য

430
Advertisement

পলাশ খাঁ: করোনার ভয়ে বন্ধ স্কুল, ছেলে মেয়েরা বাড়িতে বসে অন লাইনে পড়াশুনা চালাচ্ছে। ওদিকে মুরগীর যেহেতু করোনার ভয় নেই তাই তারা রয়েছে স্কুলের মধ্যেই। মিড ডে মিলের চাল খাচ্ছে আর দিব্যি স্কুলের আলো জ্বেলে ফ্রায়েড চিকেন হওয়ার পাঠ নিচ্ছে! পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার এলাকার এরকমই একটি ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। ফকোটে পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে-মিলের চাল আর স্কুলের ঘাড়ে চাপানো বিদ্যুৎ বিলের টাকায় স্কুলেরই মধ্যে মুরগী পালনের এই অভিনব কারবার করছেন স্কুলেরই এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী।

Advertisement

ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে কয়েকটি মদের বোতল! যা দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়না যে নাইট শিফটে মুরগীদের পড়ানোর জন্য শিক্ষক মন্ডলীদের এনার্জি ড্রিংকও নিতে হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার দক্ষিণ হাটগেছিয়া পাণ্ডববসান কানাইলাল বিদ্যামন্দিরের এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ এলাকার লোকজন৷

Advertisement
Advertisement

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কয়েকদিন ধরেই স্কুলের ভিতরে রাত্রে আলো জ্বলতে দেখেন৷ বন্ধ স্কুলে দিনের পর দিন কেন রাত্রে আলো জ্বলে সেটা সন্দেহ হতেই গ্রামের কয়েকজন বন্ধ জানালায় চোখ রেখে দেখেন যে স্কুলের ভিতরে গড়ে উঠেছে আস্ত মুরগী ফার্ম। তারাই গ্রামবাসীদের জানালে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি স্কুলের ভিতরে গড়ে ওঠা এই মুরগী ফার্ম টি বন্ধ করার দাবীতে বিক্ষোভও দেখান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্কুলের ভিতরে অবৈধ ভাবে মুরগী প্রতিপালন করা হচ্ছে। সেই কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে স্কুলের বিদ্যুৎ এবং মিড-ডে মিলের চাল৷ গত মার্চ মাস থেকে এই মুরগী প্রতিপালন চললেও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় সম্পুর্ন নীরব। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকমাস ধরেই রাতে স্কুলের জানালার ভেতর থেকে আলো দেখা যায়। পরে বন্ধ জানালায় চোখ রেখে দেখি ভেতরে মুরগী চাষ চলছে। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতর পড়ে রয়েছে মদের বোতলও।
স্কুলের ভিতরে এই অপকর্মের অভিযোগ প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ জানানো হয় স্থানীয় চকশিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতপ্রধানের কাছেও।

পঞ্চায়েতপ্রধান মনোজকুমার আদক গ্রামবাসীদের থেকে অভিযোগ পেয়েই তদন্তে আসেন স্কুলে। সরজমিনে তদন্ত করে তিনি জানান গ্রামবাসীর অভিযোগ সত্য৷ বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছেন। তবে  যার নামে অভিযোগ সেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নারায়ণ চন্দ্র জানা জানিয়েছেন, গ্রামবাসীরা যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে এনেছেন তা ঠিক নয়, আসলে মুরগী প্রতিপালন আমার নিজের বাড়িতেই হয় কিন্তু এই উৎসবের মরশুমে বাড়িতে অনেক আত্মীয়রা এসেছেন বলেই দিন কয়েক মুরগিগুলোকে স্কুলের ঘরে রেখেছি। আত্মীয়রা চলে গেলেই আবার তিনি মুরগী গুলো বাড়িতে নিয়ে চলে যাবেন৷ যদিও নারায়ণ বাবুর এই দাবীকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন লকডাউনে স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ। অথচ শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। মাস ফুরোলেই শিক্ষকরা বেতন নিলেও কোনও শিক্ষকই স্কুলে আসেন না। আর সেই সুযোগেই অনেকদিন ধরেই স্কুলে মুরগী প্রতিপালন করে চলেছেন ওই ব্যাক্তি।