প্রাক নির্বাচনী অশান্তির পরিবেশ কোচবিহারে! কোথাও বাড়িতে বোমাবাজি, কোথাও দলীয় কার্যালয়ে আগুন

133
প্রাক নির্বাচনী অশান্তির পরিবেশ কোচবিহারে! কোথাও বাড়িতে বোমাবাজি, কোথাও দলীয় কার্যালয়ে আগুন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: একদিকে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়িতে বোমাবাজি, ঢিল ছোঁড়াকে, অপরদিকে দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা; জেলার দুই প্রান্তে ঘটা দুটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল রাজার শহরে। অভিযোগের তির বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জ ২ নং ব্লকের মারুগঞ্জ এলাকায় এবং দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে শীতলখুচিতে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে গেরুয়া শিবির।

জানা যায়, তুফানগঞ্জ ১ নম্বর ব্লকের মারুগঞ্জে অঞ্চল সভাপতি মোজাফফর হোসেনের বাড়িতে বোমাবাজি, ঢিল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে পথ অবরোধ চলে এবং ঘটনাস্থলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আসেন। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের আশ্বাসে পথ অবরোধ তুলে নেয় তৃণমূল কর্মীরা।

প্রাক নির্বাচনী অশান্তির পরিবেশ কোচবিহারে! কোথাও বাড়িতে বোমাবাজি, কোথাও দলীয় কার্যালয়ে আগুন 2

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি কর্মীকে মারধর ও তার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।বিজেপি কর্মী জগদীশ সেন ও সুভাষ সেন পোস্টার লাগিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় অতর্কিত হামলা চালায় কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতি। জগদীশ সেনের ঘাড় ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়।

অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সিতাই-শিতলখুচি রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কর্মীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শাহের আলি মিঞা জানান “সোমবার রাতে ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাগলাপীড় এলাকায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে ও বাজারে লাগানো ফ্ল্যাগ, ফেষ্টুন, ব্যানার আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অবিলম্বে ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তিনি জানান, ঘটনার লিখিত অভিযোগ করা হবে। এদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। সিতাই-শিতলখুচি রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। খবর পেয়ে শিতলখুচি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শেষে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।

বিজেপির zp18মন্ডল সভাপতি পবিত্র বর্মন জানান, “তৃণমূলের পক্ষ থেকেই শান্ত এলাকাকে অশান্ত করতেই পরিকল্পনা মাফিক এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির কোনও কর্মীর যোগ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতেই এই ঘটনা ঘটছে।”

সম্প্রতি কোচবিহার জেলার দিনহাটায় পশু হাসপাতালের বারান্দায় দেখতে পাওয়া যায় বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি অমিত সরকারের ঝুলন্ত দেহ। তা নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দলীয় নেতার রহস্যমৃত্যুর বিষয়টিকে সামনে রেখে ময়দানে নামেন কোচবিহারের সাংসদ তথা দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকও। তাঁর নেতৃত্বে থানায় গিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবী জানান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ফেরার পথে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে নিশীথ-অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বাধা দিলে পুলিশের উপরেও চড়াও হন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা বলে অভিযোগ ওঠে।