লকডাউন শুরুর আগে ঊর্ধ্বমুখী সবজি, মুরগির ডিম ও মাংসের দাম, দিকে দিকে সুরা বিপনীতে উপচে পড়ল সুরাপ্রেমীদের ভিড়

117
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: রাজ্য সরকার ঘোষিত কার্যত লকডাউনে বাজারে আগুন। মুরগির মাংস ও ডিম কিনতে গেলে হিমসিম খেতে হবে আমজনতাকে। মুরগির মাংসের দাম কেজিতে বেড়ে গিয়েছে ৫০–৬০ টাকা। গত সপ্তাহে খুচরো বাজারে মুরগির মাংসের কেজি প্রতি দাম ছিল ১৫০–১৮০ টাকা। শুক্রবার মুরগির মাংস বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ২২০–২৪০ টাকায়। তার উপর রবিবার থেকে কার্যত লকডাউনে যাচ্ছে রাজ্য। সরকারি ফেয়ার প্রাইস শপেও কেজি প্রতি ২০৫ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে মুরগির মাংস। আর ডিমের দামও বেড়েছে। খুচরো বাজারে দাম যেখানে সাড়ে চার টাকা থেকে পাঁচ টাকা ছিল তা এখন ৬ টাকা। সবমিলিয়ে গরীব মানুষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যে ডিম খাবে সেটাতেও পকেটে টান।

Advertisement

চিকিৎসকদের কথায়, করোনা আবহে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দরকার। কারণ, করোনা সংক্রমণের হানা শরীরকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। তাই শক্তি বাড়াতে প্রোটিন রয়েছে এমন খাবার দরকার। না হলে দুর্বলতা কাটবে না। এদিকে মাছ–সবজিরও দাম বাড়ছে। ডিম, মাংসের দামও বেড়েছে। পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এখনই দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং বাড়বে। কারণ জোগান নেই। ফলেরও দাম আকাশছোঁয়া।

Advertisement
Advertisement

করোনার প্রথম ঢেউ সামলে উঠতে না উঠতেই আছড়ে পড়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। এই অবস্থায় শাক–সবজি, মাছ –ডিম এবং মাংসের দাম বেড়ে গিয়েছে। ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। পেট্রোল–ডিজেলের দাম রোজ বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন, লকডাউনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ছে পোল্ট্রি থেকেই। সয়াবিনের জোগান নেই। উৎপাদিত মুরগির ৪০ শতাংশ খাবার রাজ্যে উৎপন্ন হয়। বাকি ৬০ শতাংশ আমদানি করতে হয় ভিন দেশ থেকে। কিন্তু তা আসছে না। সারা দেশে এখন মুরগির ঘাটতি চলছে।

অন্যদিকে রাজ্য জুড়ে ১৫ দিনের জন্য “প্রায় লকডাউন” ঘোষণা করতেই সুরাপায়ীরা ভিড় জমিয়েছেন সুরা বিপনীতে। সোমরসে গলা ভেজাতে দেদার কিনছেন বিভিন্ন ব্রান্ডের সুরা। ১৫দিন নেহাত কম সময় নয়। তাই বাড়িতে সুরা স্টক করতেই হবে। তাই করোনা বিধি না মেনে, শারীরিক দূরত্ব বিধিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কলকাতার বিভিন্ন সুরা বিপনীতে লাগাম ছাড়া ভিড়।

একটা জিনিস ছিল লক্ষ্য করার মতো। কোনও কেউ মদ কেনার জন্য শারীরিক দূরত্ব বিধির তোয়াক্কা করেননি। এই ভিড়ের থেকে কত জন করোনা সংক্রমণ নিয়ে আগামী কাল, পরশু হাসপাতালে বিরতি হন, সেটা নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসকরা। এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক সুদীপ্ত মিত্র বলেন, “আগামী ১৫দিনে প্রায় লকডাউন হওয়ার ফলে যতটা সংক্রমণ কমবে, এই একদিনেই তার ণরক্ত সংক্রমণ মোদের দোকান থেকে ছড়াবে। কেন না এই ভিড়ে অনেকেই উপসর্গহীর করোনা রোগী রয়েছেন। তাছাড়া ভিড়ে বিভিন্ন বয়েসের মানুষ এসেছেন মদ কিনতে। তাই এই জাতীয় ভিড় চিন্তা বাড়াচ্ছে।”