রাজনীতির ‘এক্সট্রা ফ্যাক্টর’ মনীষীদের আদর্শ রক্ষা করতে এই প্রজন্মের পথযাত্রা

260
Advertisement

নিউজ ডেস্ক, শিলিগুড়ি: “যেমনটা এখন চলছে নেতাজীকে নিয়ে। তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনে কেন্দ্র-রাজ্যের কী দড়ি টানাটানি! দুজনেরই আলাদা আলাদা লম্বা লম্বা কমিটি। ভারতের এই মহান দেশপ্রেমিককে ঘিরেও দুটো সরকার এক হয়ে কোনও কর্মসূচি নিতে পারলনা! কারনটা কী? ২০২১য়ের নির্বাচনে দেখাতে হবে কারা আসলে নেতাজী প্রেমিক। কিংবা ধরুন সেই যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল। এ বলে ও ভেঙেছে আর ও বলে এ। দুজনে মিলে বলতে পারলনা, আমাদের জন্যই ভেঙেছে। চলুন দুজনে মিলেই প্রায়শ্চিত্ত করি। তাঁর মূর্তি গড়ে দেই দুজনে মিলে। আসলে এখন মনীষীরা হচ্ছেন রাজনীতির এক্সট্রা ফ্যাক্টর। এঁদের আদর্শ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই, মাথা ব্যাথা এঁদের কে ক্যাশ করতে পারে তাই নিয়ে।” হাঁটতে হাঁটতেই বলছিলেন এক তরুণী।

Advertisement

এই  তরুণীটি একটি সংগঠনের সদস্য যার নাম ‘এই প্রজন্ম।’ দীর্ঘ কয়েকমাস কোভিড পরিস্থিতিতে অনেকেই অনেক অসুবিধায় দিন কাটিয়েছেন। এই সময় বিভিন্ন সংগঠন বিপন্ন মানুষে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। শিলিগুড়ি শহরের সেই রকম এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হল ‘এই প্রজন্ম’।

Advertisement
Advertisement

সম্প্রতি বিভিন্ন দাবি নিয়ে  শিলিগুড়ির রাস্তায় পথসভা করেন সদস্যরা। ইদানিং মনীষীদের জন্মদিবস, প্রয়াণদিবস খুব রাজনৈতিকভাবে পালন করা হয়। পুষ্পার্ঘ্য, মাল্যদান, নতুন মূর্তির শিলান্যাস, এসবেই সীমিত। মনীষীদের আদর্শ, তাঁদের জীবনদর্শন সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু এসব কিছুই হচ্ছে না। উল্টে এই মনীষীরা এখন রাজনৈতিক ময়দানের ‘এক্সট্রা ফ্যাক্টর’। শনিবার সেই রাজনৈতিক কারণে মনীষীদের ‘ব্যবহার’ রুখতে এই প্রজন্মের তরফে এক মিছিলের আয়োজন করা হয়, যা শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কের রবীন্দ্রনাথ মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে জংশনের বি আর আম্বেদকরের মূর্তির সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এদিন সংগঠনের উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক অনির্বান দত্ত বলেন, ‘আমরা আমাদের সংস্থার তরফে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে চলেছি। বেআইনি পার্কিং, নদীর চর পরিস্কার ইত্যাদি অনেক কাজ করে চলেছে আমাদের সংস্থা। আমরা ইদানিং দেখতে পারছি, আমাদের দেশের জন্য যারা কাজ করেছেন, শহিদ হয়েছেন, তাঁদেরকে আজকাল বিভিন্ন দল নিজেদের স্বার্থমত ব্যবহার করছে।’

তিনি আরও জানান, নেতাজির জন্মদিন নিয়ে যা হল, তা সমাজের কল্যাণে আসেনি। বরং দলীয় রাগারাগি ও মতান্তর হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘এদিন আমরা নীরব মিছিল করেছি। আমরা চাই, যাতে আগামী প্রজন্ম মনীষীদের আদর্শ নিয়ে বাচুক, তাঁদের অনুসরণ করুক। এতেই দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।’

পাশাপাশি, এদিন শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য ডঃ শংকর ঘোষ বলেন, ‘ভারতবর্ষে অসংখ্য মনীষীরা জন্ম নিয়েছেন। একদিকে যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা রয়েছেন, পাশাপাশি অনেক দার্শনিক, কবি, বিজ্ঞানীরা রয়েছেন, যাদের আদর্শ মেনে চলা উচিত। আজকাল তাঁদের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস আড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের জীবন দর্শন অনুসরণ করতে আমরা ব্যর্থ। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সবাইকে মনীষীদের মান্যতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিষয়ে জানতে হবে, তাঁদের পথে চলতে হবে।’