কাস্তে ছেড়ে জোড়া ফুলে রাম কমল

102
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ির বামদুর্গে বড়সড় ধস। উধাও অশোক ম্যাজিক। শিলিগুড়ি মডেলের ভবিষ্যৎ কী? প্রশ্ন থাকছে। দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টে বড় ভাঙ্গন। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য বামনেতা কমল আগারওয়াল ও শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো যোগদান করলেন তৃণমূলে। বুধবার সকালে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলে যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার সহ অন্যান্যরা।

Advertisement

রাজ্যের একদা বাম দুর্গ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি। কিন্তু চলতি বিধানসভার নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে বামেদের আসন শূন্য হয়ে যায়। একই সাথে বামেদের অন্যতম মুখ কথা বাম আমলে প্রাক্তন পৌর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে পরাজিত হন। অশোক ভট্টাচার্যের ছায়াসঙ্গী তথা শিষ্য শংকর ঘোষের কাছে গুরু অশোক ভট্টাচার্য হেরে যাওয়ায় জেলা বামফ্রন্টের কর্মীদের মধ্যে মনবল অনকেটাই ভেঙ্গে দিয়েছে বলে দলের অন্দরে খবর। তবে বুধবার আশঙ্কা জিইয়ে রেখে দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টে আবারও বড় ধস নামলো। অশোক গড়ের একদা বামনেতা তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো ও বাম পরিচালিত প্রাক্তন পুর বোর্ডের মেয়র পরিষদের সদস্য কমল আগরওয়াল এদিন দল ছেড়ে যোগ দিলো রাজ্য শাসকদলে।একই সঙ্গে কমল আগারওয়ালের ভাই মনোজ আগরওয়াল তৃণমূলে যোগ দেন। এদিন সকালে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব ও রঞ্জন সরকার যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয় এদিন পুর প্রশাসক গৌতম দেব বলেন, কমল আগারওয়াল এবং রাম ভজন মাহাতো দীর্ঘ দিনের পুরনো বাম নেতা এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমুলে সামিল হয়েছেন।

Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে দলে যোগদান করে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র তথা আরএসপি নেতা রামভজন মাহাতো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেভাবে রাজ্যজুড়ে উন্নয়নমূলক কাজ করতে ব্রতী হয়েছেন তাতেই আমরা অনুপ্রাণিত হয়ে এই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতেই এই সিদ্ধান্ত। আমরা চাই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের সাথে সাথে শিলিগুড়ি জুড়েও উন্নয়ন হোক। একই সাথে কমলা আগারওয়াল এদিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে একা গোটা রাজ্যে লড়ে মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছে তাই আমাদের মনে হয় শিলিগুড়িতে উন্নয়নের প্রয়োজন শাসক দলকে সেই বিষয়টি চিন্তা করে আমরা মানুষের সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের পাশাপাশি অশোক গড়ে এই হারের পর হারের কারণ নিয়ে দলের মধ্যে পর্যালোচনা করার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য বাম নেতৃত্বরা। তবে শিলিগুড়িতে নির্বাচনের ফলাফলে অশোক ভট্টাচার্য তৃতীয় স্থানের থাকার কারণ নিয়ে শরিকদের মধ্যে মতানৈক্যকে দায়ী করেন অনেকে। কিন্তু অশোক ভট্টাচার্যের হারের পর যেভাবে বাম দুর্গে ধস নামা শুরু করেছে তাতে আগামী দিনের দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় রয়েছে জেলা বামনেতৃত্বের মধ্যে ।