খড়গপুরের মনখারাপ, মন খারাপ মেদিনীপুরেও, হচ্ছেনা পাহান্ডি, অংশ নেওয়া যাবেনা ছেড়াপহরায়, চত্ত্বর ছেড়ে বের হবেননা জগন্নাথ

128

নিজস্ব সংবাদদাতা: খড়গপুরের অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল সেই ১৯৮৮ সালে। তখন এত বড় নাম ডাক ছিলনা জগন্নাথ মন্দিরের। বরং খড়গপুরের মানুষ যেত বলরামপুর রাজবাড়ি কিংবা তালবাগিচার রথের মাঠে। আর মাঝামাঝি ছিল সুভাসপল্লীর রথ। আর কিছু মানুষ সাইকেল অথবা বাইক নিয়েই ছুটে যেতেন মেদিনীপুরে। তখন রথ মানে রথ আর উল্টোরথের ২দিন। মাঝে ৭দিন বা ১০দিনের গল্প ছিলনা। সবাই মেলা দেখতেই যেতেন এমনটা নয়, কেউ কেউ যেতেন বিক্রিবাটা করতেও, যাকে বলে রথ দেখা আর কলা বেচা। রথ আর উল্টো রথের বাইরে গিয়ে মাঝখানে টানা ৮ দিন মেলার মধ্যে গ্যাট হয়ে বসার অভ্যাস চালু হল ১৯৮৮ সালে অরোরা সিনেমাকে পাশ কাটিয়ে মালঞ্চ রোডে জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা শুরু হওয়ার পর।

এতদিন খড়গপুর বা তার আশেপাশের রথযাত্রা ছিল বাঙালির নিজের মত করে কিন্তু খড়গপুরের জগন্নাথ মন্দির শুরু করল একবারে পুরীর মন্দিরের ধাঁচেই। নিজের মন্দির থেকে জগন্নাথ বলভদ্র এবং সুভদ্রা বেরিয়ে নিজের নিজের রথে ওঠার আগে স্নান ও পোশাক পরিবর্তন করে নতুন পোশাক পরবেন এই পর্বের নাম যে ছেড়াপহরা তা এতদিন জানা থাকলেও খড়গপুরের মানুষ তাতে অংশ নেওয়ার স্বাদ পেলেন প্রথম। রথে করে মাসিবাড়ি হয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিতে মানুষ রথের দড়িতে হাত লাগিয়েছে বটে কিন্তু তার নাম যে পাহান্ডি জানা ছিলনা। আর আলাদা আলাদা করে জগন্নাথের রথের নামই যে নন্দীঘোষা, সুভদ্রার দেবদলনা,আর বলরাম বা বলভদ্রের রথের নাম যে তালধ্বজ তা জানা থাকলেও আলাদা তিনজনের রথ সেই প্ৰথম দেখেছিল খড়গপুর। এর আগে তিনজন একই রথে যাত্রা করতেন।

১৯৮৮ র পর ২০০২, জগন্নাথ মন্দিরের নতুন কলেবর বৃদ্ধি পেল আরও। বৃহৎ অঙ্গরূপে শোভিত হলেন তিন দেবতা। তার পরের ১৭ বছর জাঁক আর জৌলুসে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাই নয়, বাংলার বৃহত্তর রথযাত্রায় খড়গপুরের জগন্নাথ মন্দির। কিন্ত বাদ সাধল করোনা পরিস্থিতি। যে পরিস্থিতিতে খড়গপুর জগন্নাথ মন্দির কমিটি ঘোষনা করেছেন নিয়ম মেনেই সব কিছু হবে কিন্তু ভক্তরা সরাসরি অংশ নিতে পারবেননা কোনও প্রক্রিয়াতে।
খড়গপুর জগন্নাথ মন্দির কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মোহান্তি জানিয়েছেন, ” কোভিড ১৯ অতিমারির প্রেক্ষিতে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের যাবতীয় নির্দেশিকা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যা যা করা দরকার সেটাই করা হবে। ভগবান দর্শনে বাধা থাকবেনা কারুরই কিন্তু সবই হবে শর্ত স্বাপেক্ষে।”
খড়গপুর জগন্নাথ মন্দির কমিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী ছেড়াপহরায় অংশ নিতে পারবেননা ভক্তরা। তিনটি রথের পরিবর্তে একটি রথেই হবে পাহান্ডি। রথটি ছোট হবে এবং তিন দেবতার প্রাকরূপ অর্থাৎ প্রাক্তন ছোট মুর্ত্তিগুলিই অবস্থান করবেন সেই একটি রথেই। পুরো প্রক্রিয়াই অনুষ্ঠিত হবে মন্দির চত্বরে। ভক্তরা ব্যারিকেডের ওপার থেকেই সামাজিক দূরত্বের নীতি মেনে দেব দর্শন করবেন। কোনও প্রসাদ বিতরন করা হবেনা এমনকি কয়েকদিন ধরে যে ভোগ বিতরন প্রক্রিয়া চালু থাকত তাও হবেনা।

আরও পড়ুন -  স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানি শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিবস পালনে মেদিনীপুর ডট ইন

একই ভাবে মেদিনীপুর জগন্নাথ মন্দির কমিটিও তাঁদের বিখ্যাত শহর প্রদিক্ষন এ ব্যাপার বাতিল করেছেন। সুজাগঞ্জের মন্দির ছেড়ে তিনদেবতার নতুনবাজারের মাসিবাড়ি যাওয়া এবং গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান এবার হচ্ছেনা। নতুন বাজারে এই মন্দিরে প্রতিদিনই জগন্নাথের নানা বেস দেখতে ভিড় উপচে পড়ত। পরিবর্তে এবার মন্দির লাগোয়া কমিটির অফিসের কাছেই গুন্ডিচা মন্দিরের স্থাপন হচ্ছে। সেখানেই উল্টোরথ অবধি দেবদর্শন করবেন মানুষ। স্বভাবতই দুই শহরের মন খারাপ।

খড়গপুরের মনখারাপ, মন খারাপ মেদিনীপুরেও, হচ্ছেনা পাহান্ডি, অংশ নেওয়া যাবেনা ছেড়াপহরায়, চত্ত্বর ছেড়ে বের হবেননা জগন্নাথ 1