রত্না চট্টোপাধ্যায় চান শোভনকে ঘরে ফেরাতে; তবে দলে ফেরাতে রাজি নয় ঘাসফুল

444
রত্না চট্টোপাধ্যায় চান শোভনকে ঘরে ফেরাতে; তবে দলে ফেরাতে রাজি নয় ঘাসফুল 1

নিউজ ডেস্ক: শোভন চট্টোপাধ্যায় রবিবারে সন্ধ্যায় বিজেপি ছেড়েছেন। সঙ্গে তাঁর ছায়াসঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছেড়েছেন বিজেপি। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে একটা প্রশ্ন উঠেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি ছেড়ে শোভন-বৈশাখী কী এবার তৃণমূলে ফিরছেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে সৌগত রায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ও যা করেছে তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকে আর নেবেন বলে মনে হয় না।’

রত্না চট্টোপাধ্যায় চান শোভনকে ঘরে ফেরাতে; তবে দলে ফেরাতে রাজি নয় ঘাসফুল 2

রত্না এই বিষয়ে জানান, ‘চাইলেই তো আর দলে ফেরা যাবে না। এই বিষয়ে মমতা দিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। চাইলেই যে দল টিকিট দেবে, তার কোনও মানে নেই। আমাদের তৃণমূলেও এবার অনেকে টিকিট পাননি। শোভন বাবু তো রাজনীতি নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। এর মাশুল তো ওনাকেই গুণতে হবে। উনি এখনও বিজেপির টিকিট পাননি, তবে একদমই যে পাবেন না একথা এখনও বলা যায় না। কারণ, ২৯৪-র মধ্যে অনেকগুলি সিট বাকি রয়েছে। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, শোভন বাবু যখন তৃণমূলে ছিলেন, তখনও এটা পেলাম না, ওটা পেলাম না বলে দল ছাড়লেন। বিজেপিতে গিয়ে আবার সেই এটা পেলাম না, সেটা পেলাম না বলে ছেড়ে দিলেন। ঠিক কী চাইছেন উনি? কী পেতে চাইছেন? নাকি কাউকে পাইয়ে দিতে চাইছেন?”

রত্না চট্টোপাধ্যায় চান শোভনকে ঘরে ফেরাতে; তবে দলে ফেরাতে রাজি নয় ঘাসফুল 3

তিনি আরও বলেন, “এই শোভন বাবুই কি সেই আগের শোভন বাবু? ছেলে মানুষের মতো কাজ করছেন যিনি। তবে আমার মনে হয় না, এখনই ওনারা বিজেপি ছেড়ে চলে যাবেন। এখনও অনেক দর কষাকষি বাকি আছে। তৃণমূলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক দর কষাকষি করেছিল। শেষপর্যন্ত মানিয়ে নিতে না পেরে বিজেপি গিয়েছে। রাজনীতিতে এরকম দর কষাকষি করা যায় না।’ শোভন বাবুর এই পরিণতির জন্য তিনি নিজেই দায়ী। তাঁকে দেখলে আমার করুণা হয়।”

পাশাপাশি এই বৈশাখীকেই শোভনের জীবনের সব থেকে বড় বিপর্যয় মনে করছেন রত্না। আর শুধু রত্নাই নন, রাজ্যের সিংহভাগ মানুষই এখন মনে করছেন বৈশাখী কার্যত শোভনের জীবনে কালবৈশাখী ঝড় হয়েই এসেছেন, তাঁর সব কিছু তছনছ করে দিতে। ঘর-সংসার, কেরিয়ার, রাজনীতি সব কিছু তছনছ হচ্ছে এই এক মহিলার জন্য।

তবে শোভন এইসব মানতে নারাজ। তাঁর কাছে বৈশাখী ‘দুঃসময়ের বন্ধু’। নিন্দুকেরা তো এ কথাও বলছেন, বৈশাখী কার্যত শোভনকে ব্যবহার করছেন তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করতে। যদিও তা পূরণ হওয়ার কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না তবুও সমালোচকেরা মনে করছেন সেই অভিলাষ যেদিন পূর্ণ হবেন সেদিন ধাক্কা দিয়ে শোভনকে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কসুর করবেন না বৈশাখী।

শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজনৈতিক ভাবে কার্যত দেউলিয়া হয়ে গেলেও; এখন তিনি কী করবেন তা সম্পূর্ণভাবেই তাঁর নিজস্ব বিষয়। তবে রাজ্য রাজনীতিতে একজন মহিলার জন্য একজন সফল রাজনীতিবিদের সব কিছু হারিয়ে বসে থাকার ঘটনা এর আগে যেমন দেখা যায়নি, সম্ভবত আগামী দিনেও খুব একটা দেখা যাবে না।

Previous articleশহর জুড়ে স্বাস্থ্য! রবিবাসরীয় খড়গপুরে এক গুচ্ছ জনকল্যাণ কর্মসূচি নিল বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন
Next articleসত্য গোপন করেছেন মমতা; বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠুকলেন শুভেন্দু