তৃণমূল কর্মীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার,; কাঠগড়ায় বিজেপি, চাপা উত্তেজনা এলাকায়

245
তৃণমূল কর্মীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার,; কাঠগড়ায় বিজেপি, চাপা উত্তেজনা এলাকায় 1

অশ্লেষা চৌধুরী: তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী এবং বুথ কমিটির সদস্য কে খুন করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের রামপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিঙ্গীমারী এলাকায়। ঘটনাস্থলে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের রামপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিঙ্গীমারী এলাকার বাসিন্দা খালেক মিঞা, বয়স ৭০। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সক্রিয় কর্মী এবং বুথ কমিটির সদস্য। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন বিজেপি সমর্থক খালেক মিঞাকে তার বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে চাষের জমিতে রক্তাক্ত অবস্থায় খালেক মিঞার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিজেপির পতাকা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়।

তৃণমূল কর্মীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার,; কাঠগড়ায় বিজেপি, চাপা উত্তেজনা এলাকায় 2

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, খালেক মিঞাকে পরিকল্পনা করে খুন করেছে বিজেপি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বক্সিরহাট থানার পুলিশ। তবে ইতিমধ্যে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের রামপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিঙ্গীমারী এলাকায় যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি কথা বলেন মৃত খালেক মিঞার পবিবারের সাথে। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বুধবার রাতে আমুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা নাগাদ আমাদের তৃণমূলের প্রবীণ সক্রিয় কর্মী খালেক মিঞাকে বিজেপির হার্মাদরা নৃসংশ ভাবে খুন করে। তাঁর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলি কেটে দেয়। এদিন রাতে মধুরভাষায় বিজেপির মিটিং ছিল বোস পাড়ায়, সেখানে খালেককে ডাকা হয়েছিল কিন্তু সে যায়নি। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে সে, তারপরেও লকসভা নির্বাচনের পর ওঁ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়েনি, তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়েনি। তাঁদের মিটিংয়ে সে যায়নি, এটাই তাঁর অপরাধ। গতকাল রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ১২টা নাগাদ বিজেপির হার্মাদরা খালেককে নৃশংস ভাবে খুন করে।‘ এরপরেই গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, ‘ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর মতন রাজ্য নেতৃত্ব বাংলার মানুষকে হুমকি দিয়ে আসছেন যে, বিজেপিতে যোগ না দিলে সমস্ত তৃণমূল কর্মীকে গুনে গুনে খুন করবে, গুলি করবে আর আমাদের না কি লাশ গুনতে হবে। শুধু তাই নিয়, বাংলাকে গুজরাত বানানোর হুমকি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর ক্ষমতায় আসার আগেই নিজেদের স্বরূপ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।‘

 

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই উত্তপ্ত বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত। রাজনৈতিক হিংসার আগুনে পুড়ছে কত প্রাণ। এবারে রাজনৈতিক হিংসার বলি হলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের এক সক্রিয় কর্মী।