সাবেক মেদিনীপুরে ত্রান নিয়ে মেদিনীপুর ডট ইন, ডানা নাড়িয়ে স্বাগত জানাল ময়ূর, তরমুজ আর এঁচোড় দিয়ে কৃতজ্ঞতা ফিরিয়ে দিল জঙ্গল

822
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাঠে সার সার তরমুজের গোলা শিশির ভিজে শুয়ে রয়েছে। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যেন কার্গিল কিংবা দ্রাস সেক্টরে এসে পড়া গেছে। ওপাশে সারি সারি পাহাড় আর সেই পাহাড়ের ওপার থেকেই যেন গোলা এসে পড়েছে। কিন্তু না, জায়গাটা বেলপাহাড়ী। সাবেক পশ্চিম মেদিনীপুর কিংবা তারও আগে শুধুই মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ী আপাতত ঝাড়গ্রামের জিম্মায়। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের গা ঘেঁষেই জুজুরধরা গ্রাম। রুখু মাটিতেই তেড়ে ফুঁড়ে উঠেছে কাঁঠাল গাছের দল। সারি দিয়ে ঝুলছে এঁচড়। জঙ্গলে কেউই দুঃস্থ নয় যদি না সভ্যতা তাঁদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে। করেছেও তাই। মাঠ ভরা তরমুজ, গাছ ভরা এঁচড়, জঙ্গলের শুকনো কাঠ, শালপাতা, ওষধি গুল্ম সবই আছে কিন্তু লকডাউনে বাজার নেই। আর বাজার নেই বলেই সব থেকেই কিছুই নেই।

Advertisement

পেটে গামছা বেঁধে ২১দিন পড়ে রয়েছে গ্রাম। মেদিনীপুর ডট কমের সদস্যরা যখন ত্রান নিয়ে পৌঁছালেন তখন বিনিময়ে তাঁরাও বাড়িয়ে দিলেন তরমুজ আর এঁচড়, না পয়সা নেননি।
জুজুরধরার তারাস সরেন মেদিনীপুর ডট ইনের দলটিকে নিয়ে গেল ময়ুরঝর্না গ্রামে। স্বার্থক নাম। পাহাড়ের নামেই গ্রাম তাই ময়ুর আর ঝর্না দুইয়েরই দেখা মিলল। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামে ঢোকার মুখেই ক্যাঁও করে ডাকল ময়ূর। লম্বা পেখম দুলিয়ে স্বাগত জানায় যেন। না, করোনার আতঙ্কে পেখম মেলার উপায় কী! ময়ূরঝর্ণায় ত্রাণ বিতরণের পরে গভীর জঙ্গলের ভেতর তেলিঘানা গ্রামে পৌঁছে দেয়।

Advertisement
Advertisement

তেলিঘানায় বিতরণের পর জবলা, গ্রাম, রাস্তায় বেশকিছু জায়গায় সবাই মিলে ত্রাণের গাড়ি ঠেলে ঠুলে পৌঁছে দেয় জনতাই । জবলায় গ্রামবাসীরা ছাড়াও বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া থেকে আগত রাস্তা বানানোর কাজে আটকে পড়া চালকদের ত্রাণ দিতে হল।
জবলাতেই সন্ধে হয়ে গেল, ফেরার পথে গ্রামবাসীদের সাহায্যে কল্লডাবর, পাতাঘর ও লালজলের কিছু শবর পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে মেদিনীপুর ফেরার মুখেই খবর এল মালাবতী জঙ্গলে অবস্থান করছেন ৬০-৭০ টি হাতি।অগত্যা বিনপুরে একটি ফাঁকা ঘরে রাত কাটিয়ে শুক্রবার সকালে মেদিনীপুর ঢুকল টিম মেদিনীপুর ডট ইন।

বুধবার ভোর ৪ টার সময় পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। রামনগরের দুবলাবাড়ি হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়নগড় হয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনির ছোটগং আর আশেপাশে আগে থেকে মজুত ত্রাণসামগ্রী তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে বাকি ত্রান নামিয়ে দেওয়া হয় মেদিনীপুর সংলগ্ন কেরানিচটির কিছু দুস্থ পরিবারের কাছে। সংস্থার অভিভাবক অরিন্দম ভৌমিক জানালেন, ”কাঁথির মহকুমা শাসক থেকে বেলপাহাড়ি ইনসপেক্টর ইনচার্জ সবার সহযোগিতা পেয়েছি। জঙ্গলের মানুষই ঠিক করে দিয়েছেন কার ত্রান দরকার আর কার নেই।”