অন্ধকারের আলোর সন্ধান – ১

865
Advertisement


✒️ কলমে: অভিজিৎ রায়

Advertisement

এক।                                                              জলের গভীরে আলো। জলের গোপন ঘরে অন্ধকার। সেই গভীরে ডুব দিয়ে খুঁজে নিই গোপন ঘর। হাতে নিই মুঠো মুঠো অন্ধকার। আলোর শরীরে অন্ধকার দিয়ে আঁচড় কাটার যে সুখ তাকে কেউ ছায়াবাজি বলে, আমি বলি কবিতা।
কবি মাত্রেই অন্ধকার জগতের লোক। মস্তিষ্কের অব্যবহৃত অংশের কথা যারা জানি, যারা বিমূর্ত অনুভবে বিশ্বাসী তাদের খোঁজ অব্যাহত থাকে অন্ধকারের ভিতর গোপন থাকা আলোর সন্ধানে। শব্দের শরীরে লেগে থাকা আলো আর আত্মায় গোপন রাখা অন্ধকার নিয়ে কবি নিজের অজান্তেই ইন্দ্রজালের আলোছায়ায় ডুবে যায়, মেতে ওঠে জীবনের ছায়াবাজিতে।

Advertisement
Advertisement

কবির অবচেতন মনে শব্দের কোনো গুরুত্ব নেই। সেখানে কবির অজান্তেই শব্দেরা কবির কলমে উঠে আসে জলের গভীরে থাকা গোপন ঘরের অন্ধকার থেকে। কবিতা লেখা আর কবি জীবনের মধ্যে কোনো সাঁকো নেই। কবিতা যাঁরা লেখেন তাদের অনেককেই শব্দ জুড়ে জুড়ে মোহজাল বানাতে দেখেছি। এঁরা কবি নন। কবিতা লেখকমাত্র। নিজের অবচেতন থেকে বিমূর্ততার অন্ধকার তুলে না আনতে পারার ব্যর্থতা এঁরা দুর্বোধ্যতার জটিল প্রয়োগে ঢাকতে চান। কবিতার বোধ যে আলোর বিচ্ছুরণে মানুষের হতাশা মুছে দিয়ে মানুষকে তরতাজা করতে পারে সেই বোধের মালিক না হতে পারার হতাশায় জটিল শব্দ প্রয়োগে, অযৌক্তিক চিত্রকল্পের ব্যবহারে মরিচীকার সৃষ্টি করেন পাঠকের মনে। পাঠক বিভ্রান্তিতে সসম্মানে কেটে পড়তে বাধ্য হন।

সসম্মানে! হ্যাঁ, পাঠককে এইসব কবিতালেখকের কাছে কোনো কোনো সময় নিজের সম্মান বাঁচাতে হয় বৈকি! অনেক কবিতা লেখকই নিজেকে মহাকবি মনে করে তার কবিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই পাঠকের বোধকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তাঁর কবিতা পাঠককে তৃপ্ত করতে না পারলে, পাঠক তার বোধের চিত্রকল্প বুঝতে না পারলেই পাঠককে নির্বোধ আখ্যা দিয়ে বাংলা মদের গেলাসে চুমুক মেরে বিড়ি ধরান তিনি।

এই তিনি কে বা কারা? যাদের বেশিরভাগই এক ভয়ঙ্কর গোছানো জীবনযাত্রার মালিক। কর্মজীবন শেষ করে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর পেনসনের নিশ্চয়তা অতিক্রম করে যাঁরা এবার একটু আধটু যশের কাঙাল হয়ে পড়েছেন। মধ্যমেধার মস্তিষ্কের অব্যবহৃত অন্ধকার অংশ থেকে বোধের আলোর বিচ্ছুরণ হয় না বলেই তাদের শব্দে থাকে কৃত্রিম আলোকসজ্জা। যা আলোতে বড়লোকিয়ানা প্রদর্শনের সুযোগ ঘটে বটে কিন্তু পাঠকের অন্তরের গোপন পথ আলোকিত করার শক্তি থাকে না। কিছু তরুণ শক্তিশালী কবি এইসব মধ্যমেধার কবিযশপ্রার্থী কবিতা লেখকের পাল্লায় পড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। তাদের কাছে কবিতা অনেকসময় মেদ বর্জিত শব্দের স্মার্ট পংক্তি। যেন শব্দের আড়ালে যৌবন তার যৌনসঙ্গী খুঁজে বেড়াচ্ছে। এইসব তরুণদের এখনও বোঝার বয়স হয়নি যে বাঙালি নারীর মতোই, বাংলা কবিতার পংক্তির মেদ আসলে কবিতার লাবণ্য। (ক্রমশ)