বাবলু গিরির দুটি কবিতা

141

বাবলু গিরির দুটি কবিতা 1✍️কলমে: বাবলু গিরি

মহাজন্ম–১

ভূমিষ্ঠ করেছিলে
গর্ভ ছিঁড়ে রাতভর কী বিষ্ময়ে দেখেছিলে, সৃষ্টিকে ।
গর্ভফুল খসামাত্র, মায়াপথ–
ষড়মন্ডলের হাড় মাস রক্ত মুত্র ।
উলু বাজলো,ঘিরে ফেলল বোবা শব্দ ধ্বনি ।
ফিরে আসি খড়ম ও জড়ুলে ।
এই তবে গোবরজল, তুলসীতলা,
হলুদমাখা স্নান ।
কেউই জানে না আমি ছাড়া, পদ্মনাভী–
কিভাবে কাদায় ফুটে থাকি ।
কেন যে এসেছি আর কেনই বা মিশে যাবো
মাটি ও বাতাসে, সপ্তধাতুতে, এই মায়াভূমে ।
এ আমার মহাজন্ম, বরণ কর ষোড়শপচারে ।
খিল খিল হা হা, এই কবিজন্ম,
ফুৎকারতা ।
সেই বোধিবৃক্ষতলে —
পরমান্ন দিও আমি ক্ষুধার্ত ।

আরও পড়ুন -  বান্ধবী তুই - ১৪

মহাজন্ম–2

অবাক হয়ে দেখি, পৃথিবীর কোলাহল
বোবা কান্না, পৃথিবীর হাঁ গহ্বরে শুয়ে ।
হা ঈশ্বর- হা পৃথিবী তখনো বুঝিনি–
জ্ঞান বৃক্ষের ফলের মতো,
আমাকে অন্ন নিতে হবে, এবং শব্দের জামপাত্র
আমাকেও ফিরে যেতে হবে
ক্রমশ শব্দরা পেঁচিয়ে ফেলে
নদীরা উলুধ্বনি দেয় ।
মগধের পথে পথে, হায় শালবৃক্ষ তলে মাতৃহারা
জ্বরা মৃত‍্যু ও সন্ন‍্যাসী, কিসের অন্বেষণে
এই মহাজন্ম,কিংবা কুশিনগরে
দুটি শালবৃক্ষের বিছানায় শুয়ে থাকি ।
দেখি বার্চর বাকলে ত্রিপিটক ।
মৈত্রেয়ী হব বিরাশী হাজার বছরের আয়ু নিয়ে
কেতুমতি নগরে জন্ম নেব ।
পায়াসান্ন, হে সুজাতা দিও ।
বোধিমগ্ন হবো ।

বাবলু গিরির দুটি কবিতা 2