পরিযায়ী

50


পরিযায়ী 1✒️কলমে: নিখিল পান্ডে পরিযায়ী 2

প্রবীর, পুরন্দরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। প্রবীর মাইতি। তাঁর জেলা গ্রীন জোন থেকে বেরিয়ে এখন রেড জোনে।
কারণটা পরিযায়ী শ্রমিক। দেশের বিভিন্ন হটস্পট থেকে চার শ বাইশ জন পরিযায়ী ঢুকেছে তাঁদের জেলায়। গ্রামেও ঢুকেছে দুজন। রমেশ ও সুরেশ পোদ্দার। স্বর্ণ শিল্পী। মুম্বাই তালুকে গিয়েছিল পোদ্দারি করতে। লকডাউনে কাজ হারিয়ে চলে এসেছে। মুম্বাই তো সাংঘাতিক হটস্পট।
গ্রামের শেষ প্রান্তে প্রাইমারি স্কুলটি এখন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। সেখানে রাখা হয়েছে। থাকতে হবে চৌদ্দ দিন। বাধ্যতামূলক। প্রশাসনের নির্দেশ। পঞ্চায়েত থেকে দেখ-ভাল করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে তিন বেলা খাবার।
সুরেশের একটি মাত্র মেয়ে। মেঘবরণী। বয়স সাত। সে জেনে গেছে যে, বাবা তাদের স্কুলে আছে। বাবার কাছে যাওয়ার জন্য ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে মেয়ে। মেয়েকে আটকে রাখা রীতিমতো দায় হয়ে গেছে বাড়িতে। সব সময় গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে।
সেদিন বিকেলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিদর্শনে এসেছেন মহাকুমা শাসক। সাথে স্থানীয় বিডিও, থানার ওসি ও পঞ্চায়েত প্রধান। সুরেশের মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে তার মা। মেয়ে দূর থেকে দেখতে পেয়েছে বাবাকে। এটাতো তাদেরই ইস্কুল। এখন বন্ধ। দিদিমণিরা ছুটি দিয়েছে। ঠাম্মার হাত ছাড়িয়ে মার দৌড়। ধর -ধর, গেল -গেল রব ওঠে। সবাই আতংকিত। হা -হা -হা করতে করতেই এক দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাবার কোলে। দুহাতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। মাথাটি রাখে বাবার কাঁধে। পরম নিশ্চিন্তে। সুরেশ হতভম্ব। কি করা উচিৎ বুঝে উঠতে পারে না। তারপর বিহ্বল হয়ে পড়ে। চুমোয় চুমোয় আদর দিয়ে ভরিয়ে দেয় মেয়েকে। সুরেশ পরিযায়ী শ্রমিক। এমুহূর্তে তাকে “গর্বিত পিতা ” মনে হয়, মহকুমা শাসকের। তার মেয়েও তো এরই বয়সী। বাড়িতে ফোন করলে মোবাইল ছাড়তে চাই না কিছুতেই। একই কথা বারবার বলে, “বাপি, এক্ষুনি চলে এসো তুমি। এক্ষুনি এসো। এক্ষুনি। ” তিনি তো পরিযায়ী নন। প্রশাসক। পায়ে পায়ে বাঁধা আছে তাঁর শেকলের বেড়ি…।

পরিযায়ী 3
আরও পড়ুন -  আলোর পথযাত্রী