বিশ্বভারতীর তান্ডবের ঘটনায় দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের, অস্বস্তিতে শাসকদল

171
বিশ্বভারতীর তান্ডবের ঘটনায় দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের, অস্বস্তিতে শাসকদল 1

ওয়েব ডেস্ক : বিশ্বভারতীর পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে তান্ডবের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে শুধুমাত্র বিধায়ক নরেশ বাউরি নয় একই সাথে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার মেলা মাঠ চত্বরে জেসিবি দিয়ে পাঁচিল ভেঙে ফেলার প্রথমাবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দোষারোপ করা হলেও গেট ভাঙার সময় নরেশ বাউরিকে দেখা যায়। এরপরই জানা যায় ঘটনায় প্রথম থেকেই রয়েছে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক। এই ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে শাসকদল। যদিও ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নরেশ বাউরির প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন -  শুভেন্দুর খাস তালুকে কাটমানি নিয়ে বিরোধের জেরে পণ্ড হল গ্রামসংসদ সভা, বিক্ষোভের মুখে সরকারি আধিকারিকরা

পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে মেলা মাঠ প্রাঙ্গনটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার কাজ চলছিল। কাজ দেখাশোনার জন্য একটি অস্থায়ী ক্যাম্পও তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবৎ বিশ্বভারতীর বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়া এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁরা চেয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সকলের সাথে আলোচনায় বসেন। সে অনুযায়ী উপাচার্যের কাছে অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু সে কথায় একেবারেই কান না দিয়ে পৌষমেলার মাঠ ঘেরার কাজ চালু করা হয়। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই ক্ষোভেই উসকানি দেন দুবরাজপুরের বিধায়ক নরেশ বাউরি ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এরপরই সোমবার তা রীতিমতো জনরোষে পরিণত হয়। এদিন মিছিল করে পে-লোডার নিয়ে এসে ভেঙে ফেলা হয় পাঁচিল, বিশ্বভারতীর অস্থায়ী ক্যাম্প। সোমবারের মিছিলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আগাগোড়া ছিলেন দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক। এমনকি তাকে গেট ভাঙতেও দেখা গিয়েছে।
যদিও সেই ঘটনা নিয়ে সোমবার বিশ্বভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বরং স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে ৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে, তা নিয়ে আলোচনা জন্য মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেই সময় বৈঠকে সোমবারের তান্ডবে জড়িত থাকায় দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি ও তার অনুগামীদের নাম উঠে আসে। এরপরই মঙ্গলবার শান্তিনিকেতন থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেখানে নির্দিষ্টভাবে নরেশ বাউরির নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই সাথে নরেশ-সহ বোলপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ওমর শেখ, সুকান্ত হাজরা, গগন সরকার, দেবব্রত সরকার, চন্দন সামন্ত, সুনীল সিং, সুব্রত ভকত, আমিনুল হুদা। এদের সকলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তিতে পরিকল্পিত ভাঙচুর, লুটপাট, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন -  অভিনব উদ্যোগে কাঁথির নয়াপুটের শিক্ষকরা, স্কুলই পৌঁছাচ্ছে গ্রামে গ্রামে

এদিকে এই ঘটনার পর বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোধরা বসু জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়দের সাথে বৈঠকে বসবেন তিনি। সেই সাথে রি ঘটনায় দুপক্ষের কথাই শোনা হবে।

বিশ্বভারতীর তান্ডবের ঘটনায় দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের, অস্বস্তিতে শাসকদল 2