করোনা পরীক্ষা না করেই গ্রামে এল মৃতদেহ, সৎকারে বাধা গ্রামবাসীদের, শ্মশান থেকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই পজিটিভ, উত্তেজনা সবংয়ে

2982
করোনা পরীক্ষা না করেই গ্রামে এল মৃতদেহ, সৎকারে বাধা গ্রামবাসীদের, শ্মশান থেকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই পজিটিভ, উত্তেজনা সবংয়ে 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: কয়েকদিনের জ্বরে এক ব্যাক্তির মৃতদেহ সৎকারকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ালো পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা এলাকার বলপাই গ্রামে। হাসপাতালে মৃত ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করা হয়নি এই দাবি তুলে মৃতদেহ দাহ করতে বাধা দেন গ্রামবাসীরা। করোনা পরীক্ষা না করেই গ্রামে এল মৃতদেহ, সৎকারে বাধা গ্রামবাসীদের, শ্মশান থেকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই পজিটিভ, উত্তেজনা সবংয়ে 2ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় সত্যি সত্যি করোনা আক্রান্ত ছিলেন ওই ব্যক্তি! গোটা ঘটনায় ভোর চারটে থেকে উত্তেজনায় টইটম্বুর হয়ে রইল বলপাই গ্রাম। আপাতত ওই মৃতদেহ প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছে। জানা গেছে তাদেরই উদ্যোগে সৎকার করা হবে খড়গপুর মন্দিরতলার বৈদ্যুতিক চুল্লিতে।

বলপাইয়ের ওই পরিবার সূত্রে জানা গেছে গত তিন থেকে চার দিন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল ব্যক্তির। স্থানীয় ভাবেই চিকিৎসা চলছিল, কোনও হাসপাতালে নিয়ে যায়নি পরিবার। সোমবার মধ্য রাতে অবস্থা সঙ্গিন হয়ে ওঠায় পরিবারের লোকজন নিয়ে যায় ডেবরা সুপার স্পেশিলিটি হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোর তিনটি নাগাদ হাসপাতালেই মারা যান ওই ব্যক্তি। অভিযোগ এরপর করোনা পরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেওয়া হয় মৃতদেহ। একটি কাগজে লিখে দেওয়া হয় হৃদযন্ত্র বিকলের কারনে মৃত্যু।

ভোরেই মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা হয় এবং শ্মশান যাত্রার প্রস্তুতি নেয় পরিবার কিন্তু গ্রামবাসীরা দাবি করেন, করোনা পরীক্ষা ছাড়া মৃতদেহ শ্মশানে দাহ করতে দেবেন না। গ্রামবাসীরা জানান, যদি ওই ব্যক্তি সত্যি সত্যি পজিটিভ হয়ে থাকেন তবে তাঁকে যারা স্পর্শ করেছেন, যে জায়গায় ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে সবই সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে। করোনা পরীক্ষা না করেই গ্রামে এল মৃতদেহ, সৎকারে বাধা গ্রামবাসীদের, শ্মশান থেকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই পজিটিভ, উত্তেজনা সবংয়ে 3তাছাড়া ওই ব্যক্তি পজেটিভ বা নেগেটিভ না জানতে পারলে বাড়ির লোকেদের পরীক্ষা করা না ও হতে পারে। সব মিলিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। মানুষজন দাবি করতে থাকেন, করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসার পরেই মৃতদেহ দাহ করতে দেওয়া হবে। তার আগে কোনও মতে নয় কারন ওই ব্যক্তি জ্বরে ভুগে মারা গেছেন।

আরও পড়ুন -  অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থা, ভেন্টিলেশনে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

খবর পৌঁছায় থানায়। গ্রামবাসীদের দাবি সঙ্গত মনে করেই সবং থানা থেকে একটি শববাহী গাড়ি পাঠানো হয় বলপাই গ্রামে, মৃতদেহ তুলে আনার জন্য। কিন্তু গোল বাধে সেখানেও। পিপিই কিটস পরা চালক একাই আসেন মৃতদেহ নিয়ে যেতে। গ্রামবাসীরা বলতে থাকেন, ওই মৃতদেহ কে গাড়িতে তুলবে? চালকের পিপিই কিটস আছে কিন্তু তিনি একা কী করে দেহ তুলবেন? অন্যদিকে পরিবারের লোকজন বা গ্রামবাসীর কারোরই পিপিই কিটস নেই তারা দেহ ছোঁবেন কি করে? যদি ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হন! অনেক টালবাহানার পর পরিবারের লোকেরাই পিপিই কিটস ছাড়াই মৃতদেহ তুলে দেয় শববাহী গাড়িতে। এবার দেহ আনা হয় সবং গ্রামীন হাসপাতালে। সেখানেই আ্যন্টিজেন পরীক্ষার পর দেখা যায় ব্যক্তি করোনা পজিটিভ।

আরও পড়ুন -  শেষ বেলায় ঝাঁপাল সব পক্ষই, তৃনমূলের মিছিলের গড়বেতা, কেশপুর, ডেবরা, নারায়নগড়, কেশিয়াড়ি

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে ডেবরা হাসপাতালে আ্যন্টিজেন কিটস শেষ হয়ে গেছিল যে কারনে তাঁরা পরিবারের লোকেদের বলেছিল ফেরার পথে সবং হাসপাতালে যেন আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হয়। এই মর্মে ডেবরা হাসপাতাল সবং হাসপাতালকেও জানিয়ে দিয়েছিল বলে জানা গেছে কিন্তু পরিবারের লোকেরা দেহ সবং হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে সোজা বাড়ি চলে যায়। গোটা ঘটনায় দিনভর উত্তেজনা ছিল বলপাই গ্রামে। সবংয়ের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক সুভাস কান্ডার জানিয়েছেন, “বুধবার ওই ব্যক্তির সংস্পর্ষে আসা পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নমুনা সংগ্ৰহ করা হবে।”

করোনা পরীক্ষা না করেই গ্রামে এল মৃতদেহ, সৎকারে বাধা গ্রামবাসীদের, শ্মশান থেকে ফের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই পজিটিভ, উত্তেজনা সবংয়ে 4