করোনায় আক্রান্ত এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাস, অবস্থা সংকটজনক

144

ওয়েব ডেস্ক: ফের শাসকদলের অন্দরে করোনা হানা৷ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাস। বয়স সত্তর পার হয়েছে। শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে৷ রয়েছে হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং হাঁপানি। ফলে খুব সহজেই তাঁর শরীরে করোনা বাসা বাঁধতে সক্ষম হয়েছে। সবমিলিয়ে, এই মূহুর্তে এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাসের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আপাতত তিনি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা এতটাই সংকটজনক যে তাঁকে ভেন্টিলেশনে সর্বক্ষণ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে জ্বর-শ্বাসকষ্ট সহ শরীরে একাধিক করোনা উপসর্গ থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত বিধায়ক সমরেশ দাসের করোনা পরীক্ষা করানো হয়। দু’দিন পর সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। যেহেতু তাঁর শরীরে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে সেকারণে দেরি না করে দ্রুত তাঁকে পাঁশকুড়ার করোনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যে দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর চিকিৎসকরা তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন। গত কয়েকদিন আগেই তাঁকে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংকটজনক অবস্থায় সেখানেই চিকিৎসাধীন।

এবিষয়ে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, বিধায়কের শরীরে একাধিক জটিল অসুখ রয়েছে৷ ফলে কো-মরবিডিটির কারণে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বিধায়ক সমরেশ দাসের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আর সেটাই চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড়ো চিন্তার বিষয়। এদিকে বিধায়ক অসুস্থ হওয়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে অনবরত তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নেওয়া হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসক দলের সাথে যুক্ত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সমরেশ দাসের শারীরিক পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন রাজ্যের শাসক শিবির। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক, এই খবর জানার পর থেকেই চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে সমরেশ দাসের বিধানসভা কেন্দ্রে

আরও পড়ুন -  তামিলনাড়ুতে অনূর্ধ্ব ১৯বছর মেয়েদের ভলিবল প্রতিযোগিতায় কর্ণাটককে হারিয়ে সেমি ফাইনালে উঠল বাংলা

গত কয়েকমাসে শাসকদলের অন্দরে একের পর এক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক মারণ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু প্রথম করোনা আক্রান্ত হন। হোম আইসোলেশনে থাকার পর শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতে হয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবার সুস্থও হয়ে যান। এরপর পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলের শরীরে থাবা বসিয়েছিল করোনা৷ মারণ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছিলেন ফলতার বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ। এছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদের দুই বিধায়কেরও করোনা রিপোর্ট পজিটিভ। এঁরা সকলেই আপাতত হোম আইসোলেশনে। তবে এগরার বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সমরেশ দাসের আশঙ্কাজনক অবস্থা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত রাজনৈতিক মহল।

করোনায় আক্রান্ত এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাস, অবস্থা সংকটজনক 1