সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি

281
সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 1

সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 2ঝটিকা সফরে কুরুমবেড়া                                মীর হাকিমুল আলি
যারা ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে পছন্দ করেন এবং ইতিহাসের পুরানো নিদর্শন নিয়ে চর্চা করেন তাদের জন্য আজ আমি বলবো পশ্চিম মেদিনীপুরের এক ঐতিহাসিক নিদর্শনের গল্প l ইতিহাসের পাতায় মেদিনীপুরের নাম বার বার আসে l সে মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের গগনেস্বর গ্রামের কুরুমবেড়া দূর্গ প্রাচীনের সাক্ষ্য আজও বহন করে চলেছে l 700 বছরের পুরানো এই দূর্গ l
কুরুমবেড়া কথার অর্থ পাথরের প্রাচীর l লাল ল্যাটেরাইট পাথর বা মাকড়া পাথর নিৰ্মিত চতুর্দিক প্রাচীর বেষ্টিত এই দুর্গটি ওড়িশী শিল্প রীতিতে তৈরী। সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 3

দূর্গটির ইতিহাস সংক্ষেপে বলি, সূর্য বংশীয় রাজা গজপতি কপিলেন্দ্র দেব দূর্গটি নির্মাণ করেন l দূর্গটির নির্মাণকাল 1440 থেকে 1470 খিষ্টাব্দl মাকড়া বা ঝামা পাথর দিয়ে তৈরী এই দূর্গটি আসলে শিব মন্দির ছিল l কিন্তু প্রয়োজনে এটি দূর্গে পরিনিত হয় l মোগল আমলে তাহের খান এটিকে সেনাদের আশ্রয় শিবির হিসেবে ব্যবহার করেন l 1568 সালে বাংলা ও বিহারের আফগানী সুলতানরা উড়িষ্যা আক্রমণ কালে এই দূর্গটি সহ পুরো মেদিনীপুর দখল করে নেয় l আবার পরবর্তী কালে পাঠানদের পরাজিত করে ইংরেজরা এই দূর্গতি দখল করে l সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 4
‘মেদিনীপুরের ইতিহাস ‘ গ্রন্থের প্রণেতা যোগেশ্বর বসু লিখেছেন -“মন্দির গাত্রে উড়িয়া ভাষায় লিখিত যে প্রস্তরফলক খানি আছে তাহার গায়ে সকল অক্ষরই ক্ষয় হইয়া গিয়াছে, কেবল দু’একটি স্থান অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট আছে l উহা হইতে ‘বুধবার’ও ‘মহাদেবাঙ্কর মন্দির’এই দুইটি কথা মাত্র পাওয়া যায় l”সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 5

সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 6

পাঠান আমলে দাউদ খাঁ মোগলদের কর দেওয়া বন্ধ করে নিজেকে স্বাধীন নবাব ঘোষণা করেন l সেই সময় মোগলরা যুদ্ধ ঘোষণা করলে দাউদ খাঁ এই দূর্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন l সেই সময় দাঁতনের মোগলমারির কাছে সেনা ছাউনি থেকে মোগল সৈন্যরা এই দূর্গ ঘিরে ফেলে l মৃত্যু হয় দাউদ খাঁর l ওই এলাকা থেকে ঔরঙ্গজেবের সময়কার মুদ্রারও সন্ধান মিলেছে l পরে এই দূর্গে মারাঠারাও ঘাঁটি তৈরী করেছিল বলে অনেকে মনে করেন l সম্রাট ঔরঙ্গজেবের রাজত্ব কালে 1691 সালে মোহাম্মদ তাহির তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ এর ভেতরে নির্মাণ করেন lসঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 7এটিকে দূর্গ বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে এটি দূর্গ ছিল কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ আছে l কারণ দুর্গের যে বৈশিষ্ট্য গুলি থাকে সেগুলি এখানে নেই l যেমন —
* কোন সুরক্ষিত অস্ত্রাগারের হদিস নেই
*দুর্গের কোন দ্বিতীয় সুরক্ষা বা নিরাপত্তালয় দেওয়াল বা পরিখা নেই l
* কোন ওয়াচ টাওয়ার নেই
* কোন গোপন সুড়ঙ্গ সমন্বিত পলায়ন রাস্তা নেই lসঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 8দূর্গটির বর্ণনা একটু দিই l চৌকাকার এই ক্ষেত্রটি মাকড়া পাথরের 8 ফুট চওড়া আর্ক্ কোরিডোরটির চারপাশে 62টি স্তম্ভ দেখা যায় l দূর্গটির একেবারে কেন্দ্রে যজ্ঞ স্থল বা যজ্ঞবেদী l পশ্চিমে একটি মসজিদ l
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া দ্বারা এটি অধিগ্রহণ করা হয় 1990 সালে l কিন্তু সেভাবে কিছুই সংরক্ষণ হয়নি l অবাধে মানুষ এর মধ্যে যখন খুশি ঢোকে, নোংরা করে ।

সঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 9কিভাবে যাবেন???
কেশিয়ারি থেকে বেলদা যাওয়ার রাস্তায় 3 কিমি যাওয়ার পর কুকাই বাস স্টপেজ থেকে ডান দিকে গ্রামীণ পিচ রাস্তা ধরে আরও 3 কিমি গেলেই গগনেস্বর গ্রাম l
কলকাতা থেকে আসতে চাইলে গাড়িতে NH 6 ধরে এসে জীন শহর থেকে বালেশ্বরগামী NH 60  হাই রোডে গিয়ে বেলদার কেশিয়ারি মোড় এ ডানদিকে খুব সুন্দর রাস্তা ধরে 9/10 কিমি গিয়ে কুকাই বাস স্টপ থেকে বাম দিকের রাস্তা ধরতে হবে যা ওই গ্রামে নিয়ে যাবে lসঙ্গে রুকস্যাক।। কুরুমবেড়া দুর্গ।। মীর হাকিমুল আলি 10ট্রেনে আসতে হলে আগে খড়গপুর আসতে হবে তারপর বালেশ্বর যাওয়ার লোকাল ট্রেন ধরে বেলদা স্টেশন এ নেমে বাস ধরে কুকাই বাস স্টপ l রবিবার ছাড়া সবদিন 9:25 am খড়্গপুর থেকে বেলদা যাওয়ার ট্রেন থাকে l
তবে যারা দূর থেকে আসবেন তাদের বলে রাখি এখানে কোন থাকা বা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই l বেলদা বাজারে থাকা খাওয়ার জায়গা আছে l শুধু কুরুমবেড়া দেখতে আসা পড়তা হবে না l সাথে মোগলমারি, পাথরা, কোন্নগর মন্দির, গোপগড় ইকো পার্ক, ভসরাঘাট জঙ্গলকন্যা সেতু ইত্যাদিও ঘুরতে পারেন l