58

1তিরুমালার তিরুপতি                                                                     পার্থ দে
আজ সবাইকে এমন এক তীর্থে ভ্রমন করাবো যেখানে বাঙালীরা খুব কমই যায়। তামিল-তেলেগু ভাষীদের আধিক্য থাকলেও, কিছু মাড়োয়ারী, গুজরাটিদের দেখা মেলে। সেখানে লাইনের ভীড়ে পকেটমারি হয় না। মহিলারা সেখানে রাতের বেলায় নিরাপদে ঘুরতে পারেন। সেখানে মহিলাদের সম্মান করে ‘আম্মা’ বলে ডাকা হয়। সুশৃঙ্খল মানুষজন, দেব দর্শনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে না। সবার মুখে ‘গোবিন্দা’ ‘গোবিন্দা’ ধ্বনি এবং সবার মধ্যে শ্রদ্ধা-ভক্তি অটুট। মন্দিরের মধ্যে নেই কোন পান্ডার উৎপাত বা কেউ বলবে না যে বেশি টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি দর্শন করিয়ে দেব। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এখানকার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট।

কথিত, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেবতা হলেন তিরুপতি বালাজী। তেলেগু ভাষায় ‘তিরু’ কথার অর্থ শ্রী বা লক্ষ্মী, আর্থাৎ লক্ষ্মীর পতি বা তিরুপতি। অনেকে তাঁকে গোবিন্দা, বিষ্ণু, লর্ড বালাজী কিংবা লর্ড ভেঙ্কটেশ নামে ডেকে থাকেন। এখানে ভক্তি, বিশ্বাস আর মনোরম প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন দেখা যায়। বালাজীর কাছে কিছু মানত করলে তা পূরণ হয় বলে মানুষের বিশ্বাস। তাইতো হতদরিদ্র থেকে ক্রোড়পতি, অভিনেতা থেকে মেগাস্টার, রাজনীতিবিদ এমনকি দেশের বাইরের কূটনীতিবিদরাও তিরুপতি মন্দিরে এসে আর্শিবাদ নিয়ে যান। দক্ষিন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের চিত্তুর জেলায় তিরুমালা পর্বতের শিখরে তিরুপতি বালাজীর মন্দিরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিজয়নগরের রাজা শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়।2

তামিল ভাষায় তিরুমালা কথার অর্থ হল পবিত্র পাহাড়। সমতলে তিরুপতি স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চড়ে পাড়ি দিতে হয় ৮৬০ মিটার উচ্চতার তিরুমালা মন্দির শহরে। চড়াই উৎরাই, ৫৭ টি হেয়ার পিন বেন্ড পেরিয়ে ২৫ কিমি (৪৫ মিনিট) এই পাহাড়ী পথের শোভা আপনার ট্রেন যাত্রার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। উৎসাহী বা যারা মানত করেন তাদের জন্য অ্যালিপিরি থেকে ছাউনিযুক্ত হাঁটাপথ (১৫ কিমি) রয়েছে। ঐপথে বিশ্রামঘর, ডাক্তার, পানীয়জল, ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা আছে এবং জঙ্গলের পথে (শ্রী ভেঙ্কটেশ অভয়ারণ্যের আওতাধীন) হরিণ, ময়ূর, দ্বৈত্যাকার কাঠবিড়ালি, বিভিন্ন ধরনের পাখি ইত্যাদি দেখা যায়।
প্রায় ৪ বর্গকিমি এলাকা নিয়ে মন্দিরকে কেন্দ্র করে তিরুমালা শহর। শীতকালের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ ডিগ্রী। মন্দির সংলগ্ন স্বামী পুষ্করিণীর জলে স্নান করে পবিত্র হয়ে বালাজীর দর্শন করার প্রথা রয়েছে। 3অগ্রিম টিকিট কেটে কম সময়ে দেব দর্শন করা যায় আবার ফ্রি দর্শনেরও ব্যবস্থা আছে। মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেকের আইডি কার্ড থাকা দরকার এবং পোষাক পরিচ্ছদ ভারতীয় রীতির পরিধান করা আবশ্যক। পুরুষদের ধুতি/পাজামা/ পাঞ্জাবী/জামা এবং মহিলাদের শাড়ি/ শালোয়ার কামিজ ও ওড়না পরা বাঞ্ছনীয়। মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার বা গোপুরমটি ২৫০ ফুট উঁচু দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। মন্দিরের মধ্যে সোনার পাতে মোড়া ধ্বজস্তমভ বা তালগাছ। মন্দিরের মধ্যে অসাধারন পাথরের কারুকার্য দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে। মূল মন্দিরটির চূড়া সোনা দিয়ে মোড়া।

উৎসবের সময় ছাড়া, প্রতিদিন গড়ে কুড়ি হাজার ভক্তের সমাগম হয়। তাই কমপক্ষে ৩-৫ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন অতিক্রম করেই তিরুপতি বালাজীর দর্শন পাওয়া যায়। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রদীপের স্বল্প আলোয় দেবদর্শন । নানান মনিমুক্তা, স্বর্ণালঙ্কার ও পুষ্পমালায় সজ্জিত ২ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট কষ্ঠিপাথরের চতুর্ভুজ দেবতা বালাজী দণ্ডায়মান, দুইহাতে শঙ্খ ও চক্র, অন্য হাত অভয়মুদ্রা ও আরেক হাত কোমরে ন্যস্ত, পাশে শ্রীদেবী ও ভূদেবী। বালাজী ছাড়াও মন্দিরের অন্দরে বহু দেব দেবী রয়েছেন। মূল মন্দিরের অন্দরে অন্যান্ন আকর্ষণ দান করা টাকা পয়সার গণনা ঘর, দেবতার পালকি, উৎসবে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, নানান রাজা মহারাজাদের তৈলচিত্র, পেল্লায় সাইজের দাঁড়িপাল্লা (বাচ্চার ওজনে খুচরো পয়সা দান করার রীতি)ইত্যাদি। মানত করলে, পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে মস্তক মুন্ডনের প্রথা রয়েছে। তবে এখানে ফুল ফলের ডালি দিয়ে পূজো দেওয়ার কোন রীতি নেই, ভগবানের উদ্দেশ্যে প্রনামী হিসাবে অর্থ হুন্ডিতে (পয়সার ভান্ডার) দান করাই নিয়ম। ভক্তরা মন্দিরের বাইরে একটি স্থানে কর্পূরের দীপ জ্বালিয়ে, নারকেল ফাটিয়ে অর্ঘ্য দেয়। বালাজী দর্শনের পর প্রত্যেক দর্শনার্থীকে লাড্ডু অথবা পোলাও প্রসাদ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত লাড্ডু প্রসাদ নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে একজন ব্যক্তি ৫০ টাকার বিনিময়ে সর্বাধিক দুটি ক্রয় করতে পারেন। 4এছাড়া দর্শন টিকিটে মাথাপিছু দুটি করে লাড্ডু ফ্রি পাওয়া যায়। মন্দিরের অদূরে বিশাল বড় চারটি ডাইনিং হলে (প্রতি হলে দুহাজার লোক বসতে পারে) প্রতিদিন দুইবেলা নিঃশুল্ক অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা রয়েছে (ভাত, সাম্বার, রেশম, সবজী, চাটনী, নলেন গুড়ের পায়েশ ও ঘোল। অমৃতসম এই প্রসাদ প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ মানুষ গ্রহণ করে। উৎসবের সময়ে যেটা দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। ডাইনিং হলের পরিচ্ছন্নতা, একসাথে এতো লোককে খাওয়ানোর সুন্দর ব্যবস্থাপনা, কলাপাতায় খাদ্য পরিবেশন, ফিল্টার্ড পানীয় জল, হলের মধ্যে মাছি-মশার প্রবেশ আটকানোর জন্য মেসিন ইত্যাদি ব্যবস্থা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

আরও পড়ুন -  ১৮মাসে বছর! দুরস্ত গোপীবল্লভপুর-নয়াগ্রাম সেতু, মানু্ষের দুর্ভোগ চলছেই

কিভাবে যাবেন :- হাওড়া / সাঁতরাগাছি থেকে পাঁচটি ট্রেন সরাসরি তিরুপতি যাচ্ছে। এছাড়া দূরন্ত বা এসি স্পেশাল আরো ছটি ট্রেন রেণিগুন্টা হয়ে যাচ্ছে। কম বেশি ২৫ ঘন্টার যাত্রাপথ। রেণিগুন্টা থেকে অটো/বাসে তিরুপতি (৭ কিমি) বা সরাসরি তিরুমালা যাওয়া যায়। তিরুপতি স্টেশনের বাইরে তিরুমালার সরকারি বাসের টিকিট কাউন্টার। রিটার্ন টিকিট কেটে বাসের বামদিকে জানালার ধারে অথবা ড্রাইভারের কেবিনে সিট দখল করুন। রিটার্ন টিকিট ৩ দিন বৈধ এবং মাথাপিছু ১০ টাকা ছাড় পাওয়া যায় (রাত ১২টা-৩টা বাস সার্ভিস বন্ধ থাকে)।২ কিমি এগিয়ে চেকিং পয়েন্ট। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। যাত্রী, লাগেজ, গাড়ি তল্লাসির পর পাহাড়ে ওঠার অনুমতি মেলে।5

তিরুমালা পাহাড় সম্পূর্ন নিরামিষ এবং তামাক/অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ। চেকিং এর সময় সঙ্গে এধরনের কোন বস্তু সঙ্গে রাখবেন না। সরাসরি ট্রেনের টিকিট না পেলে চেন্নাই সেন্ট্রাল হয়ে ট্রেনে বা এক্সপ্রেস বাসে ৩/৪ ঘন্টায় তিরুপতি যাওয়া যায়। কোলকাতা থেকে বিমানেও তিরুপতি যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন :- “তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমস্”(TTD)এর প্রচুর গেস্ট হাউস রয়েছে। ননএসি ১০০/৫০০ এবং এসি ১০০০/১৫০০। অনলাইনে রুম বুকিং করা যায়। Website : www.ttdsevaonline.com
মনে রাখবেন, একবার বুকিং করলে কোনভাবেই তা বাতিল হয় না (বুকিং অর্থ বালাজী ফান্ডে দান হয়ে যায়)।
রুম কেবলমাত্র একদিনের জন্য বুকিং হয়। বিশেষ অনুরোধ বা অনুমতিতে স্পট রিজার্ভেশন অফিস থেকে অতিরিক্ত একদিন বর্ধিত করা যায়। এছাড়া পাহাড়ে বিভিন্ন সংস্থার গেস্ট হাউস ও ধর্মশালা আছে। তিরুপতি স্টেশনের আশেপাশে TTD র গেস্ট হাউস (২০০,৩০০,৪০০,৫০০,৬০০/৮০০,১০০০,১৩০০) ও বেশ কিছু লাক্সারী হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন :- মন্দিরের ডাইনিং হলে ফ্রি অন্নপ্রসাদ খেতে পারেন। পছন্দ না হলে বাইরে প্রচুর নিরামিষ রেস্টুরেন্ট পাবেন, যেখানে নর্থ বা সাউথ ইন্ডিয়ান দুরকম খাবারই পাবেন। তবে বাইরের খাবারে পেঁয়াজ বা রসুন পেতে পারেন (এগুলি ওখানে সবজির আওতায় পড়ে)। তিরুপতি স্টেশন লাগোয়া রেস্টুরেন্টগুলিতে আমিষ বা নিরামিশ সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়।6

আরও পড়ুন -  সাঁওতালি ভাষা দিবস পালিত হল সুবর্ণরেখা মহাবিদ্যালয়ে

কি দেখবেন :- মূল মন্দিরের আশেপাশে নানা দেব দেবীর মন্দির আছে….বরাহ স্বামী মন্দির, অঞ্জণা স্বামী মন্দির, রাম মন্দির, এছাড়া বিবাহ মন্ডপ, বৈদিক মন্ডপ, গোশালা, কল্যানকাটা ইত্যাদি। তিরুমালা থেকে সকালে জিপ/সুমো/মারুতি/মিনিবাস ভাড়া করে (মাথাপিছু ১০০ টাকা) ৫-৭ ঘন্টায় আটটি সাইট সিন ঘুরে আসা যায়….বেণুগোপাল স্বামী মন্দির, পাপবিনাশম তীর্থ, আকাশগঙ্গা ঝর্না, জপালী হনুমান মন্দির (গাড়ি থেকে নেমে ২ কিমি হাঁটাপথ), ঝুলন্ত পাথর, চক্রতীর্থম্, শ্রী হরি পাদালু (পদচিহ্ন)ও SV মিউজিয়াম।

তিরুপতিতেও (সমতলে) সাতটি দর্শনীয় মন্দির আছে। বাসস্ট্যান্ড বা গেস্ট হাউসের সামনে থেকে প্রচুর অটো/কার/মিনিবাস পাবেন। এখানে ঘুরতে খরচ একটু বেশী লাগে। সকালে বেরিয়ে প্রথমে চলুন কপিলাতীর্থম। এখানে শিব পার্বতীর মন্দির ও ঝর্না, বর্ষা ও শীতে ঝর্নায় জল থাকে…স্নান করা যায়। এরপরে চলুন পদ্মাবতী মন্দির (বালাজীর পত্নী)। এখানেও টিকিট কেটে বা ফ্রি দর্শন করতে হয়। তবে এখানে ভীড় বেশী হয় না। এখানেও ফ্রি অন্ন প্রসাদ পাওয়া যায় (জায়গা সীমিত)। এরপর শ্রীনিবাসা মঙ্গাপূরম, অগস্তস্বরা স্বামী মন্দির, কোদন্ডারামাস্বামী মন্দির, গোবিন্দরাজস্বামী মন্দির (দুপুরে বন্ধ থাকে) ও ইসকন মন্দির ঘুরে নেওয়া যাবে।7
ইচ্ছা করলে এখান থেকে চন্দ্রগিরি দূর্গ (১১ কিমি), পুষ্পগিরি পাহাড় (১২ কিমি), শ্রীকালহস্তী (৩৭ কিমি), ভেলোর ফোর্ট (১২০ কিমি) ও আরো ৮ কিমি দূরে গোল্ডেন টেম্পল ঘুরে আসতে পারেন।8

আরো কিছু তথ্য :-
www.ttdsevaonline.com ওয়েবসাইটে নিজের নাম, মোবাইল নং ও ইমেল আইডি দিয়ে নতুন লগইন্ আইডি বানান। সেখান থেকে একসঙ্গে সর্বাধিক ৬জনের দর্শন টিকিট বুক করা যায় (৩০০ টাকা মাথাপিছু)। বুকিং টিকিট বাতিল হয় না। যেদিন পোঁছবেন তার পরের দিনের তারিখে দর্শন টিকিট বুক করতে হবে। নামের সঙ্গে সবার বয়স ও আইডি কার্ড নং দিতে হবে। পাঁচ বছরের নিচে বাচ্চাদের টিকিট লাগে না, বয়সের প্রমানপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। দর্শন সময়-সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা।9
যেদিন পোঁছবেন সেদিনের তারিখে গেস্ট হাউস বুকিং করতে হবে (২৪ ঘন্টা চেক আউট)। তার আগে দেখে নেবেন ট্রেনের আপ-ডাউন টিকিট পাওয়া যাবে কিনা। যার নামে লগ ইন তার নামে একটি রুম বুক করা যাবে। পরিচ্ছন্ন মার্বেল ফিনসড রুম, অ্যাটাচড্ বাথ, গিজার, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পরিসেবা, পরিশুদ্ধ পানীয় জল। যদি একের বেশি রুম লাগে তাহলে আলাদা আলাদা নামে লগইন আইডি দিয়ে বুক করতে হবে। তবে ইচ্ছে করলে একটা রুমে একসঙ্গে ৫-৬ জনও থাকতে পারেন।10
মন্দিরের আশেপাশে ফ্রি ক্লক রুম, টয়লেট, চেঞ্জ রুম, মোবাইল ও জুতো জমা রাখার ঘর, এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স-হাসপাতাস, অটোমোবাইল সার্ভিস, রেল রিজার্ভেশন কাউন্টার, প্রচুর এটিএম, জিওর নেট, মন্দির চত্বরে ফ্রি বাস সার্ভিসও রয়েছে।
প্রতিদিন মন্দিরের এই বিশাল এলাকায় যে সেবা ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ড চলছে সেখানে বিভিন্ন পদে প্রায় কুড়ি হাজার কর্মী কর্মরত।
এখানকার প্রসাদি লাড্ডু খুবই সুস্বাদু। খাঁটি গাওয়া ঘি, কাজু, মিছরি, এলাচ, কর্পূর ও আরো অনেক উপাদান দিয়ে বিশেষ মেসিনে প্রস্তুত করা হয়। ওজন ১৭০-১৮০ গ্রাম। একমাস পর্যন্ত রাখা যাবে, নষ্ট হবে না।11
দর্শনের লাইনের মধ্যে পানীয় জল, পাখা, খাবার, বাচ্চার জন্য দুধ ও দোলনা, টয়লেট, মেডিসিন ইত্যাদির ব্যাবস্থা আছে।
মোবাইল, ক্যামেরা, বড় ব্যাগ, জলের বোতল, খাবারের প্যাকেট, নেশার বস্তু, হেলমেট বা টুপি, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। মহিলারা ছোট পার্স নিয়ে ঢুকতে পারেন।
পুরুষদের হাফপ্যান্ট/ফুলপ্যান্ট/লুঙ্গী এবং মহিলাদের জিনস/টপ/সর্ট কূর্তা/মাথায় ফুল/ অধিক গহনা পরে প্রবেশ নিষেধ।12
মন্দির চত্বরে প্রচুর দোকানপাট ২৪ঘন্টাই খোলা। সিল্কের শাড়ি, ধূতি বা জামা কিনতে পারেন। এছাড়া বালাজীর লাইটিং ফটো, সিডি ক্যাসেট, গামছা, শাল, শোয়েটার, রকমারি টুপি, মহিলাদের মাথার নকল চুল ইত্যাদি বিক্রি হয়।
প্রতি বছর মন্দিরের নিয়মকানুন ও পরিচালন ব্যবস্থার কিছু রদবদল ঘটে। তাই যারা যাবেন তারা এই ওয়েবসাইটগুলি চেক করে নেবেন www.tirumala.org অথবা www.tirumalabalaji.in অথবা www.tirupatitirumalatravels.com
TTD র হেল্প লাইনে ফোন করতে পারেন-০৮৭৭-২২৭৭৭৭৭/২২৩৩৩৩৩/ ১৮০০৪২৫৪১৪১ (Toll Free)
৯৩৯৯৩৯৯৩৯৯ (WhatsApp)
জরুরী ফোন নং :- Security Dept. (Tirumala) – ০৮৭৭-২২৬৩৩১০, ০৮৭৭-২২৬৩৬৯৫
Aswani Hospital (Tirumala) – ০৮৭৭-২২৬৩৬০১
Automoblie service (Tirumala) – ০৮৭৭-২২৬৩৬৩৬
Central Bus stand (Tirupati) – ০৮৭৭-২২৬৪৭৩১
Police (Tirupati & Alipiri) – ০৮৭৭-২২৮৯০১০ &  ০৮৭৭-২২৮৯০১৩
SVIMS Hospital (Tirupati) – ০৮৭৭-২২৮৭৭৭৭13

আরও পড়ুন -  করোনা তাড়াতে কুসংস্কারের ধুম, ঘাটাল থেকে হাওড়া, কেউ মাখছে কাঠ কয়লা, কেউ করছে যজ্ঞ

উৎসব :- প্রধান উৎসব “Brahmostavams” (২৩/০৯/১৭-০১/১০/১৭)
নবরাত্রিতে রথযাত্রা, শ্রাবণ মাসে “Pavitrosavom”, ইংরাজী নববর্ষ, তামিল নববর্ষ, পৌষ সংক্রান্তিতে “Pongal”, পৌষ-মাঘ মাসে “বৈকুন্ঠ একাদশী”, হোলিতে “Basantotsavam” ইত্যাদি।
অতি বয়স্ক ব্যক্তি বা খুব ছোট শিশু, হাই-ব্লাড প্রেসার/শ্বাসকষ্ট/হাঁটাচলায় সক্ষম নয় এমন ব্যক্তির এখানে না যাওয়াই ভালো।
এখানে তামিল/তেলেগু ভাষার প্রাধান্য বেশি। ভাষাজনিত সমস্যা হতে পারে। হিন্দী ও ইংরাজী মিশিয়ে কথা বললে সুবিধা হবে।
‘ব্রহ্মোৎসবম্’ এর সময় ছাড়া সারা বছর তিরুমালা যেতে পারেন। গরমকালে সমতলের তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, তবে পাহাড়ে মনোরম আবহাওয়া থাকে।

ট্যুর প্ল্যান :- রবিবার ১৫.৫০ এ সাঁতরাগাছি-তিরুপতি এক্সপ্রেসে সোমবার ১৮.০০ টায় তিরুপতি পৌছান। বাসে তিরুমালা পাহাড়ের এন্ট্রি পয়েন্ট স্টপেজে নেমে সামান্য হেঁটে Central Reservation Office (CRO)তে চলে যান। কাউন্টারে রুম বুকিং স্লিপ দেখিয়ে রুম এলটমেন্ট স্লিপ নিন। বাইরে বেরিয়ে স্লিপে লেখা ঠিকানা / রুম নং দেখিয়ে ঐ জায়গার ফ্রি বাসে উঠে পড়ুন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে কেয়ারটেকারের কাছ থেকে রুমের চাবি সংগ্রহ করুন। পরের দিনে (মঙ্লবার সকালে)দর্শনের নির্দিষ্ট সময়ে ফ্রি বাসে চড়ে টিবি কটেজ গেটে পৌঁছে যান। সুষ্ঠভাবে লাইন দিয়ে ৩-৫ ঘন্টায় মন্দির দর্শন করুন। বাইরে এসে দুপুরে ফ্রি অন্নপ্রসাদ গ্রহন করুন। কিছু সময় রুমে রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যার দিকে বিশাল মন্দির চত্বরে ঘুরে বেড়ান, নারকেল ভাঙুন ও প্রদীপ জ্বালান, রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়া করুন বা কেনাকাটা করুন। পরের দিনে (বুধবার সকালে) লোকাল সাইটসিন ঘুরে আসুন। বিকেলে তিরুপতিতে (সমতলে) নেমে যান। নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছে বিশ্রাম নিন। পরের দিনে (বৃহঃবার সকালে) তিরুপতির সাইটসিনগুলি ঘুরে আসুন। সন্ধ্যায় লোকাল মার্কেটে কেনাকাটা করতে পারেন। পরের দিন শুক্রবার রেণিগুন্টা স্টেশন(৭ কিমি)থেকে বিকাল ১৬.৫৫ এর দূরন্ত এক্সপ্রেস (যশবন্তপুর-হাওড়া) ট্রেনে শনিবার ১৬.১৫ য় হাওড়া ফিরতে পারেন।

*** ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন, নিজেরা ঘুরে আসুন, ঘুরে এসে ভালো লাগলে অন্য বন্ধুদের উৎসাহিত করুন বা গ্রুপে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন….আরো কিছু জানার থাকলে আমার ইনবক্সে মেসেজ করুন ***
(ভেঙ্কটরমণা গোবিন্দা…গোবিন্দা…)

14