করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! এ বছর আর খুলছেনা স্কুল কলেজ, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পিছিয়ে যাচ্ছে জুন মাসে

1966
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! এ বছর আর খুলছেনা স্কুল কলেজ, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পিছিয়ে যাচ্ছে জুন মাসে 1
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! এ বছর আর খুলছেনা স্কুল কলেজ, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পিছিয়ে যাচ্ছে জুন মাসে 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় দফা ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ২০২০ অবধি বন্ধই রইল পশ্চিমবাংলার স্কুল কলেজ সহ প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি, বন্ধ থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ও। সরকারের সিদ্ধান্ত বরং অন-লাইনের দিকেই ঝুঁকুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা গুলি নেওয়া হোক অনলাইনেই। পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আসন খালি রয়েছে সেগুলিতে নতুন করে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার রবিবার উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর।

গত মাসের পর ২৯শে নভেম্বর রবিবার, রাজ্যের সমস্ত উপাচার্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী। সেখানেই বিস্তারিত আলোচনা হয় বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় দফার ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব সহ ৫রাজ্যে চালু হয়েছে নৈশকালীন কারফিউ। কয়েকটি রাজ্যে স্কুল কলেজ খোলার অভিজ্ঞতা হয়েছে ভয়ঙ্কর। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক শিক্ষক ও পড়ুয়া। আলোচনায় উঠে এসেছে এই সমস্ত কিছু।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! এ বছর আর খুলছেনা স্কুল কলেজ, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পিছিয়ে যাচ্ছে জুন মাসে 3

পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই রবিবারের বৈঠকে উপচার্যদের জানানো হয়েছে যে ডিসেম্বর মাসেও রাজ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে না। আপাতত অনলাইনেই ক্লাস চলবে। এবং বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব ইন্টার্নাল পরীক্ষাগুলি রয়েছে সে সব অনলাইনেই হবে।

 কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল  ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি খোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই মত প্রাথমিক বার্তাও যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির কাছে কিন্তু দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির  দিকে নজর রেখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে রাজ্য। রাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধুই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই হবেনা তার সাথে খুলতে  হস্টেলগুলিও। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে হোস্টেলে কীভাবে পড়ুয়ারা থাকবেন তা নিয়ে কোনও গাইড লাইন তৈরি হয়নি। সে সব ঠিক করতে হবে।

তাই আপাততঃ ডিসেম্বর অবধি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবেনা। ফের নতুন বছরে জানুয়ারি মাসে ফের উপাচার্যদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবে রাজ্য। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে রাজ্য কী ভাবছে সে ব্যাপারে আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। এর মাঝে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা উপাচার্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

  এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। এপ্রিল মে নাগাদ সেই নিবার্চন হওয়ার কথা। জানুয়ারি মাসে স্কুল যদি খোলাও হয় তাও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। যদিও দুই ক্ষেত্রেই সিলেবাসের চাপ তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে তবুও নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে দুই পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে জুন মাস অবধি। এমনটাই মনে করা হচ্ছে যদিও এ ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি।