চির নিদ্রায় ‘শার্দুল সুন্দরী’র স্রষ্টা শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় ; শোকের ছায়া সংবাদ ও সাহিত্য জগতে

156
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: গতকাল রাতে শুতে যাওয়ার আগেই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন জলরঙে আঁকা ছবি। ক্যাপশনে লিখেছিলেন-‘ওরে ঝড় নেমে আয়’। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই জীবন-মৃত্যুর ঝড় এলোমেলো করে দিল সবকিছু। ছবি আর ক্যাপশন দেখে অনেকেই এই আশায় আপ্লুত হয়েছিলেন হয়ত যে তাঁর কলম থেকে কী তবে এবার আসবে আরও একটা শার্দুল সুন্দরী কিংবা ইথার সেনা! কিন্তু সকালে উঠেই এল সেই মারাত্মক এবং মর্মান্তিক দুঃসংবাদ।

Advertisement

ঝড় আছড়ে পড়ল ঠিকই কিন্তু তাঁর কলমে নয়, অনুরাগীদের কান্না আর হাহাকার ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ছে সারাদিন ধরে। শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় নেই!  বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না কেউই। মাত্র যে ৫০! এখান থেকেই যে লেখকের সেরা ইনিংসের শুরু। শুধু লেখকই নন, সাংবাদিক হিসাবেও যথেষ্ট সফল তিনি। একাধিক বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করেছেন শীর্ষবাবু।

Advertisement
Advertisement

সোমবার গভীর রাতে  তবে কী দারুন ঝড় উঠেছিল তাঁর মনে? তাঁর গড়িয়াহাটের বাড়িতে সেই ছবিটি পোস্ট করার পর বিছানায় যাওয়ার আগে বাথরুমে গিয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, বাথরুমেই জ্ঞান হারান তিনি। সকালে তাঁর মেয়ে গিয়ে তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। এরপর চিকিৎসকরা শীর্ষ বাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘শার্দুল সুন্দরী’র স্রষ্টা শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার একাধিক সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলেও সাফল্যের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন। দেশের বাইরেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। জার্মানির ডয়েচেভেলে বেতারের বাংলা বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর অকাল প্রয়াণে সাংবাদিকতার জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যিক হিসেবেও প্রসিদ্ধ তিনি। একাধিক গল্প, উপন্যাস, ছোট গল্প লিখেছেন শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম ‘শার্দূল সুন্দরী’এবং ‘ইথারসেনা’। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় স্বাধীন বাংলা বেতারের উপর লিখেছিলেন ‘ইথারসেনা’, যা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। সোমবার রাতেই ফেসবুকে জলরঙে আঁকা কালো আকাশের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘ওরে ঝড় নেমে আয়।’আর এদিন গভীর রাতেই নামল ঝড়। এমন বিধ্বংসী ঝড়, যা শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনটাই উড়িয়ে নিয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, রবিবারেই করোনার করালগ্রাসে প্রাণ হারান বিশিষ্ট সাংবাদিক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। জি ২৪ ঘণ্টার এডিটর তথা রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই ছিলেন অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বাইপাসের পাশে এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। করোনা জয় করার পরে সংক্রমিত হন পরবর্তী সমস্যায়। অবস্থা ক্রমশ সঙ্কটজনক হয়ে পড়লেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন অঞ্জন বাবু।

এই মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই যেন পরমাত্মীয় বিয়োগের যন্ত্রনায় শোকস্তব্ধ বাংলার সংবাদপ্রেমী মানুষ। সেই হাসি খুশি প্রাণবন্ত মানুষটি যখন স্টুডিওর মধ্যে বসে থাকা তাবড় তাবড় নেতাদের উত্তপ্ত তর্কবিতর্কের মধ্যেই নিজের সেই মূল্যবান হাসিটি নিয়ে বলতেন, “প্লিজ প্লিজ আর নয়, আবার হবে একটু পরে। হ্যাঁ ঠিক এই জায়গা থেকেই শুরু করব।” তারপর অতি দ্রুততার সঙ্গে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বলতেন, কোথাও যাবেননা প্লিজ, ফিরে আসছি, এখুনি ফিরে আসছি, ছোট একটা বিরতির পর। দর্শক বসে থাকতেন, ঠায় বসে থাকতেন। এখনও বসে আছে কিন্তু না, আর যে অঞ্জন ফিরবেননা! সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন অঞ্জন।

আর এদিন আবারও সংবাদ জগতে নেমে এল দুঃখের কালো মেঘ। চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা সাহিত্যিক শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়।