নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শিশির অধিকারীর, পাল্টা বিঁধলেন পার্থও

320
নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শিশির অধিকারীর, পাল্টা বিঁধলেন পার্থও 1

 

অশ্লেষা চৌধুরী: কেউ আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখলে বা আমার বাড়ীতে এলে তাঁদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে, দল থেকে তাড়ানো হবে।’ নির্বাচন প্রাক্কালে দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। আর দলের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ আনায় ছেড়ে কথা বলেনি দলও। তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বোঝাই যাচ্ছে ওনার দেহ আর হৃদয় কোথায়। উনি যেন দু’পা বাড়িয়ে আছেন।

নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শিশির অধিকারীর, পাল্টা বিঁধলেন পার্থও 2

 

শাসক শিবিরের সাথে অধিকারী পরিবারের সুসম্পর্কে চিড় ধরেছিল শুভেন্দুর হঠাৎ ব্যতিক্রমী মনোভাবের উদয় হওয়ার দিন থেকেই। এরপর সেই চিড় ধরা সম্পর্কে আরও কিছুটা ফাটল ধরে শুভেন্দুর পদ্ম শিবিরে যোগদানের পর থেকেই। তাতে আরও বেশ খানিকটা ইন্ধন জোগায় অধিকারী পরিবারের ছোট ছেলে সৌমেন্দু। চলতি বছরের শুরুতেই মেঝো দাদার হাত ধরে পদ্ম শিবিরে পা রাখেন সৌমেন্দু। আর শুভেন্দু তো আগেই শুনিয়ে রেখেছেন, রাম নবমীতে অধিকারী পরিবারে পদ্মফুল ফোটাবেন। তাই এই যোগদানের পর থেকে আরও বেশি গুঞ্জন উঠতে থাকে অধিকারী পরিবারের মাথা অর্থাৎ শিশির অধিকারী ও তাঁর বড় পুত্র দিব্যেন্দুও ও পদ্ম শিবিরে গেল বলে। যদিও এখনও সেই জল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

 

তবে সেই জল্পনায় ধুঁয়ো দিতে ছাড়েননি শিশির বাবুও। শুভেন্দুর দলত্যাগের পর থেকেই শাসক দলের কোন সভায় তাকে দেখা যায়নি। এমনকি দলনেত্রীর সভাতেও ব্রাত্য ছিলেন তিনি। যদিও জানিয়েছিলেন দলের তরফে আমন্ত্রন পাননি। তাছাড়া বেশীরভাগ সময়েই দুই ছেলের পদ্ম শিবিরে যোগদানের মাশুল দিতে হয়েছে শিশির বাবুকে। কেড়ে নেওয়া হয় শিশির অধিকারীর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা। দলবদলের ধারণা করে শিশির বাবুকেও বাক্য বাণে বিদ্ধ করতে থাকেন শাসক শিবিরের অনেকেই। তবে গর্জে উঠেছিলেন শিশির বাবুও। বলেছিলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব পাবে। জবাব দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। আমি যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম, অবিভক্ত মেদিনীপুরে একটাও নির্বাচিত পদ ছিল না। আমি যোগ দেওয়ার পর দলে দলে সকলে যোগ দিল। আর আমি এখন হলাম মীরজাফর! আমি হলাম বেইমান।’ তবে তিনি যে মমতার দলেই আছেন সে কোথাও জানিয়েছিলেন।

 

আর এদিন নির্বাচনের একেবারে মুখোমুখি সময়ে দলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন শিশির বাবু। তিনি বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে দলে কাদের প্রার্থী করা হতে পারে এনিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি, উল্টে বলা হয়েছে কেউ আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখলে বা আমার বাড়ীতে এলে তাঁদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে, দল থেকে তাড়ানো হবে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন এটা বহু চর্চিত, এনিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলব না।

 

আর এমন অভিযোগ শুনে দলই বা মুখ বুজে মেনে নেবে কেন! পাল্টা বিঁধেছেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। খোঁচা দিয়ে বলেছেন, উনি তো পা বাড়িয়েই আছেন। রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি বলেছেন, ‘উনি এক বছর ধরে কোনও দলীয় কর্মসূচীতে যাচ্ছেন না। উনি কেন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি? মিথ্যে মামলায় শুভেন্দু অনেককেই ফাঁসিয়েছেন। সেকথা ভেবে মনে করছেন আমরাও হয়তো তা করব।‘

 

ছেড়ে কথা বলেনি পদ্মশিবিরও। বিজেপি নেতা কণিষ্ক পণ্ডা বলেছেন, ‘শিশির অধিকারী রাজনীতির গুরু, উনি সবার অভিভাবক। অখিল গিরিও ওনার হাত ধরে এসেছেন, সেই জায়গায় শিশিরকে অপমান করে বোঝালেন, দলটা লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।‘

 

উল্লেখ্য, রাজনীতিতে পোড় খাওয়া শিশির অধিকারী দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি। কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলিয়ে কাঁথি পুরসভায় সবচেয়ে বেশিদিন চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। কাঁথি দক্ষিণ থেকে দু’বার ও এগরা থেকে একবার বিধায়ক নির্বাচিত হন শিশির অধিকারী। ২০০৯ থেকে তৃণমূলের টিকিটে কাঁথির তৃণমূল সাংসদ তিনি।কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন শিশির অধিকারী।