লক্ষ্য খড়গপুরই! জেলার প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ছেড়ে খড়গপুরের ক্লাবের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

1917
লক্ষ্য খড়গপুরই!  জেলার প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ছেড়ে খড়গপুরের ক্লাবের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 1
লক্ষ্য খড়গপুরই!  জেলার প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ছেড়ে খড়গপুরের ক্লাবের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: কয়েকদিন আগে হলদিয়া আর নন্দীগ্রামে দুটি সরকারি অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে যাঁরা এই ভেবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে, সব ঠিক হয়ে গেছে। মন্ত্রী থাকছেন দলের সঙ্গেই তাঁদের জন্য ৫ই নভেম্বর দিনটা দুঃস্বপ্নের হয়েই রইল কারন নিজের জেলার প্রশাসনিক ভবনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ছেড়ে মন্ত্রী উপস্থিত থাকলেন ১০০কিলোমিটার দূরে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরের একটি ক্লাবের ‘কমিউনিটি’ হলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। আর তারই সঙ্গে দিনটা দুশ্চিন্তার হয়ে রইল খড়গপুর শহর ‘অফিসিয়াল’ তৃণমূলের কাছেও কারন খড়গপুরেও হাত বাড়ালেন মন্ত্রী। সেই খড়গপুর যেখানে মাত্র ১৬ মাস আগে বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জেতা আসন নিজের তৃনমুল ছিনিয়ে এনেছিল এই শুভেন্দু অধিকারীই নেতৃত্বেই।

বৃহস্পতিবার খড়গপুর শহরের তালবাগিচায় এলাকার জনপ্রিয় ও কর্মমুখর বলে পরিচিত চিত্তরঞ্জন স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে নির্মিত একটি কমিউনিটি হলের উদ্বোধনে এসে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পদে পদে জানিয়ে দিয়েছেন খড়গপুর শহরের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মিক বন্ধন’য়ের কথা আর প্রায় মুখস্থের মতই জানিয়ে দিয়েছেন, কবে কখন কোন ক্লাব, স্কুল, প্রতিষ্ঠানকে তিনি আ্যম্বুলেন্স, শববাহী গাড়ি, টাকা ইত্যাদি বরাদ্দ করেছেন অথবা কোনোও সংস্থা থেকে পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছেন।

লক্ষ্য খড়গপুরই!  জেলার প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ছেড়ে খড়গপুরের ক্লাবের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 3

সঙ্গে মন্ত্রী এও জানিয়ে দিয়েছেন কিভাবে শতাধিক ক্লাব উপকৃত হয় তাঁর দ্বারা। চিত্তরঞ্জন স্পোর্টিং ক্লাবের যে একটি ‘জিম’য়ের প্রয়োজন আছে যা কিনা উদ্যোক্তারা তাঁকে জানিয়েছেন তাও তিনি দেখবেন বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “এ আমার কথার কথা নয়, আমার অতীতের কর্তব্য বোধের যে উদাহরণ রয়েছে সেখান থেকেই বলছি।”

শুভেন্দু অধিকারীর মত ব্যক্তি যিনি খড়গপুর শহরের বিধায়ক প্রদীপ সরকারকে বিধায়ক করেছেন বলে তৃণমূলেরই একটি অংশ দাবি করেন সেই প্রদীপ সরকারকে এই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। বরং দেখা গিয়েছে খড়গপুর শহরের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা বর্ষীয়ান তৃনমুল নেতা জহরলাল পালকে যিনি ‘অনেক হয়েছে, আর নয়’ বলে ফেসবুকে দলের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। দেখা গিয়েছে শুভেন্দু ঘনিষ্ট বলে পরিচিত সেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রাসাদ গিরি, খড়গপুর শহর যুব তৃনমূল সভাপতি অসিত পাল, শহরের প্রাক্তন উপ পৌর প্রধান সেক হানিফ সহ ‘আমরা দাদার অনুগামী’র সবংয়ের শেখর মাইতি, সবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য পার্থ প্রতিম মাইতি, খড়্গপুরের মুনমুন বনিক সহ মন্ত্রীর অনুগামীদের। কোভিড পরিস্থিতিতে প্রটোকলের জন্য মঞ্চে সবার জায়গা না হলেও মন্ত্রীর ‘ইচ্ছায়’ জহরলাল পালকে মঞ্চে জায়গাও করে দিয়েছেন ক্লাব কর্তারা। বিপরীতে শহর তৃণমূলের কেষ্ট বিষ্টু অনেক নেতাই আমন্ত্রিত হয়েও এড়িয়ে গেছেন এই মহার্ঘ্য অনুষ্ঠান।

মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েক মাস ধরেই নিজের রাজনৈতিক পোশাক খুলে অরাজনৈতিক হয়েছেন আর এদিনের সভাটিকেও পুরোপুরি রাজনীতি মুক্ত করেই ক্ষান্ত থাকেননি তার সাথে সরকার মুক্ত করারও প্রবল প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। যে শুভেন্দু অধিকারী কথায় কথায় ‘মা মাটি মানুষের’ সরকারের ঐতিহাসিক উদ্যোগ দিয়েই সভা শুরু করতেন তাঁর মুখে আজ নিজের সরকারের একটিও প্রশংসা মূলক বাক্য উচ্চারিত হয়নি বরং করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাব গুলো কী দারুন উদ্যোগ নিয়েছিল সেই কথাই বলেছেন আর বলেছেন মানুষের শোকে দুঃখে বিপদে আপদে ক্লাব গুলিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, বলেছেন বিবেকানন্দের ভাব ধারাতে গড়ে উঠতে হবে ক্লাব সদস্যদের। তিনি নিজেও যেমন রাজনীতির ছোঁয়া বাঁচিয়েছেন তেমন উদ্যোক্তা ক্লাবের পক্ষ থেকে বারংবার মাইকে সতর্ক করা হয়েছে, ‘ভুলেও কেউ শ্লোগান সাউটিং’ করবেননা বলে।

নিজেকে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র বলে ফের দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ২০০২ সাল থেকে খড়গপুরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ আর খড়গপুর থেকেই তাঁর মোবাইলে প্রতিদিন দরকারের অ-দরকারে কিংবা প্রীতি শুভেচ্ছা ইত্যাদি জানিয়ে প্রতিদিন কুড়ি পঁচিশটা ম্যাসেজ যায়। জানিয়েছেন কিভাবে তিনি খড়গপুরের সঙ্গে আত্মিক ভাবে জড়িত। সুতরাং আগামী দিনেও যে খড়গপুর তাঁর নজরে থাকছে বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুরও তাঁর হিসাবের মধ্যে থাকছে একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা শুধু এখন এটাই দেখার যে তিনি যদি দলের বাইরে গিয়ে লড়াই করেন তাহলে খড়গপুরে দলের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়ায়।