কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজপথ অবরোধে মন্ত্রীর সমর্থকদের, আটকে গেল করোনা ভ্যাকসিনের গাড়ি

34
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজপথ অবরোধে মন্ত্রীর সমর্থকদের, আটকে গেল করোনা ভ্যাকসিনের গাড়ি 1

নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান থেকে দুর্গাপুর হয়ে বাঁকুড়ায় যাচ্ছিল করোনা ভ্যাকসিনের কনভয়। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার পথে গলসিতে জমিয়তে উলমায়ে হিন্দের অবরোধের জেরে আটকে পড়ে সেই কনভয়। কৃষি আইনের প্রতিবাদে বুধবার এই অবরোধের নেতৃত্ব দেন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

ভ্যাকসিনের ভ্যান আটকে যাওয়া নিয়ে তিনি সাফ জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। ভ্যাকসিনের গাড়ি আসবে এ ব্যাপারে আগে থেকে তাকে বলা হয়নি। এদিন কলকাতা থেকে বর্ধমানে এসে পৌঁছয় ভ্যাকসিনের কনভয়। বর্ধমান সিএমওএইচ অফিসে ভ্যাকসিন নামানোর পর ওই গাড়িটি যখন দুর্গাপুর হয়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল, সেই সময় গলসির গলিগ্রামের কাছে অবরোধের জেরে আটকে পড়ে ভ্যাকসিনের গাড়ি। অবরোধের জেরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় করোনার ভ্যাকসিনের ওই কনভয়টিকে।

কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজপথ অবরোধে মন্ত্রীর সমর্থকদের, আটকে গেল করোনা ভ্যাকসিনের গাড়ি 2

এরপরই স্বাস্থ্য দফতর থেকে খবর দেওয়া হয় গলসি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্যাকসিনের ভ্যানটিকে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সরিয়ে গলিগ্রাম হয়ে বেশ কিছুটা ঘুরপথে নিয়ে ফারাজ মোড়ের কাছে গাড়িটিকে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে তুলে দেয়। সেখান থেকে ভ্যাকসিনের গাড়ি দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। জমায়েতের জেরে এভাবে ভ্যাকসিনের ভ্যান আটকে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে ট্যুইট করেছেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি জানিয়েছেন, ‘‌সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর রাজনৈতিক ভণ্ডামিতে আটকে গেল ভ্যাকসিন। রাস্তা আটকানোয় বদল করা হয়েছে ভ্যাকসিনের রুট। বহুমূল্য ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে গেল তার দায় কে নিতো?‌ লজ্জা হওয়া উচিত।’‌

যদিও মন্ত্রীর জানা না জানার চেয়েও যেটা বড় করে দেখা দিয়েছে তাহল উপস্থিত সমর্থকদের ওপর মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ হীনতা। কোনোও ভাবেই অবরোধকারীকে জনতাকে বুঝিয়ে কোভিড ভ্যাকসিনের গাড়ির পথ করে দেওয়া যায়নি উল্টে জাতীয় সড়ক ছেড়ে অন্যপথ ধরতে হল এই জীবনদায়ী ভ্যাকসিনের কনভয়কে। আরও বড় কথা অবরোধ কভার করতে আসা সাংবাদিকরা যখন এই ছবি করতে গেলেন তখন বাঁশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া হল। ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়া হয় চিত্র বা ভিডিও সাংবাদিকদের! সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতেও যে এঁদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই তাই প্রমান করলেন যেন এঁরা।