কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো ‘নয়নমনি’ প্রশান্ত

457
কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো 'নয়নমনি' প্রশান্ত 1
কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো 'নয়নমনি' প্রশান্ত 2
কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো 'নয়নমনি' প্রশান্ত 3

অরুন কুমার সাউ, তমলুক : এলাকার কারও মৃত্যুর খবর পেলে সব কাজ ফেলে রেখে আগে ছুটে যান মৃতের বাড়ি। মৃতের পরিজনদের মরণোত্তর চক্ষুদানের গুরুত্ব বুঝিয়ে মৃতের কর্নিয়া দান করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন প্রশান্ত সামন্ত। এলাকার মানুষজনের কাছে তিনি নয়নমনি নামে পরিচিত।

কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো 'নয়নমনি' প্রশান্ত 4

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পাঁশকুড়া বাহারপোতা গ্রামের অধিবাসী প্রশান্ত বাবু পেশায় একজন জীবন বীমার প্রতিনিধি। গত আট বছর ধরে তিনি এই কাজ করে চলেছেন। বছর আট আগে তমলুক জেলা হাসপাতালে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত হন এরপর থেকে চলতে থাকে তার কাজ। এরপর যোগাযোগ হয় চৈতন্যপুর নেত্র নিরাময় কেন্দ্রের আই ব্যাংকের আধিকারিকদের সাথে। 

কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান রিয়েল হিরো 'নয়নমনি' প্রশান্ত 5

এলাকায় কোন মৃত্যু সংবাদ পেলে ওই পরিবারে গিয়ে মৃতের পরিজনদের বুঝিয়ে কর্নিয়া সংগ্রহ করতে থাকেন। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন অন্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এভাবে সহযোগিতা করতে পেরেছেন। তেমনি ভাবে গতকাল বন্ধু সৌমেন গায়েনের ফোন পেয়ে ছুটে যান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ব্লকের খামারচক গ্রামের সামন্ত পরিবারে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সঙ্গে পান   অশোক পাইন, রবীন্দ্রনাথ কর সহ এলাকার বিশিষ্ট জনদের। সামন্ত পরিবারে শম্ভুনাথ বাবুর স্ত্রী পদ্মাবতী সামন্ত কিছুদিন কিডনির অসুখ জনিত কারণে ভুগছিলেন। গতকাল দুপুরে বাড়িতে মারা যান। এরপর পরিবারটিকে চক্ষু দানের গুরুত্ব বুঝিয়ে চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম নিরাময় নিকেতন আই ব্যাংকের সহযোগিতায় কর্নিয়া দুটি সংগ্রহ করেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এই ধরনের কাজের জন্য জেলাজুড়ে প্রশান্ত বাবু যথেষ্ট নাম রয়েছে। সাম্প্রতিক মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থা প্রশান্ত বাবুকে “রিয়েল হিরো অফ সোসাইটি” সম্মানে সম্মানিত করেন। প্রশান্ত বাবু জানান, পরিবারটি খুবই দুস্থ এবং অল্প শিক্ষিত হয়েও চক্ষু দানের মতো মহৎ কাজে এগিয়ে এসেছে এটা সমাজের কাছে একটা বড় দৃষ্টান্ত।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
প্রশান্ত বাবু আরো  বলেন ,যদি সমাজের কিছু শিক্ষিত মানুষেরা এই কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে আগামী দিনে কর্নিয়ার  সমস্যা জনিত কারণে অন্ধত্ব অনেকখানি কমে যাবে।