হেঁসেলিয়ানা : সজনের সমাহার ।। নীলিমা দে

187
হেঁসেলিয়ানা : সজনের সমাহার ।। নীলিমা দে 1

বাঙালি র প্রিয় খাবারের অন্যতম একটি হলো সজনে ফুল। খাদ্য রসিক বাঙালি অবশ্য এই গাছটির কোনো কিছু ই ছাড়তে রাজি নয়। কারণ বিশেষ গুন সমৃদ্ধ সজনে গাছ সাধারণত সবার ঘরেই অযত্নে বেড়ে ওঠে। যদিও নিজের ঘরে না থাকলেও অসুবিধে নেই। উদার বাঙালি প্রতিবেশী র দিকে এই গাছের ডালপালা সহজেই বাড়িয়ে দেয়। বারো মেসে এই সজনে গাছের উপকারিতার শেষ নেই। এই পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই সজনে পাতা সেদ্ধ করে পাতাগুলি ছাঁকনি করে ছেঁকে জলটি খেলে বিশেষ উপকার পাবেন। এই পাতা শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। তাছাড়া বসন্ত বা পক্স প্রতিরোধে সজনে ফুল, পাতা, ডাটা র জুড়ি মেলা ভার।
আসুন, তাই আজ আমরা বেছে নেবো এই উপকারি গাছের বিভিন্ন রান্না। প্রথমেই বানাবো সজনে ফুলের বড়া। মুখরোচক এই বড়া বানানোর জন্য আমরা নেবো রান্নাঘরে থাকা খুব সাধারণ কিছু উপকরণ।

উপকরণ :

হেঁসেলিয়ানা : সজনের সমাহার ।। নীলিমা দে 2

বেছে নেওয়া পরিষ্কার কিছু সজনে ফুল, চালের গুঁড়ো, বেসন, নুন, কাঁচা লংকা,সামান্য হলুদ, লংকা গুঁড়ো।

আরও পড়ুন -  হেঁসেলিয়ানা ।। ডিমের মালাইকারি ।। সুমিতা গোস্বামী

প্রণালী : একটি পাত্রে পরিষ্কার করে বেছে রাখা ফুল গুলি ধুয়ে নেবো। ফুলের ওপর পরিমান মতো নুন, সামান্য কুচোনো কাঁচা লংকা, ঝাল বেশি পছন্দ করলে সামান্য গুঁড়ো লংকা দিতে পারেন। 2চামচ বেসন ও সামান্য চালের গুঁড়ো দিয়ে হাতে করে সমানভাবে মাখাতে থাকুন। কেও যদি বেসন ব্যবহার না করে, বেশি মুচমুচে বড়া খেতে পছন্দ করেন, তাহলে শুধুই চালের গুঁড়ো দিন। সামান্য চালের গুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে নিন। একটি কড়াতে সর্ষে র তেল গরম করে নিজের পছন্দ মতো সাইজও গড়ে গরম তেলে ছাড়তে থাকুন। লালচে হয়ে গেলে তুলে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন, চা বা ভাত সবের সাথেই ভালো লাগবে।

সজনে ডাটার সুক্ত
বিয়ে বাড়ি ই হোক, অন্নপ্রাশন বা নিত্য হেঁসেলের রান্না..সুক্তো ছাড়া বাঙালির রোচেনা। ভাতের থালায় প্রথম পাতে ঘি, লেবু, কাঠি আলু ভাজা র সুক্তো.. আহা.. তেতো অমৃত।
সুক্তো আমরা মোটামুটি সবাই জানি.। তবে শুক্তোর বিভিন্ন স্বাদ আসে রকমারি সাতলানোতে। যারা নতুন রান্না শিখছেন, তারা জেনে নিন, কিভাবে খুব সহজেই রান্না করবেন সুক্তো।

আরও পড়ুন -  হেঁসেলিয়ানা : চিকেন TANGDI কাবাব: অরন্যা দাশগুপ্ত সাহা

উপকরণ : সজনে ডাটা, বড়ি, উচ্ছে, আলু, পেঁপে, বেগুন, কাঁচা কলা, গাজর, পটল, নুন, হলুদ, পাঁচ ফোড়ন, তেজপাতা, আদা, রাঁধুনি, পোস্ত, দুধ, সর্ষের তেল।

প্রণালী : সমস্ত সব্জি গুলি কে ভালো করে ধুয়ে, লম্বা লম্বা করে কাটে ফেলুন। কড়াতে তেল দিন, তেল গরম হলে প্রথমে বড়ি গুলি কে ভেজে তুলে রাখুন। তারপর সব্জি র মধ্যে সবার প্রথমে উচ্ছে র টুকরোগুলি ভেজে তুলে রাখুন। উচ্ছে প্রথমে ভাজলে রান্নায় মৃদু তেতো স্বাদ থাকবে, যেটা শুক্তোর বৈশিষ্ট। এরপর কড়াতে পাঁচ ফোড়ন, তেজপাতা ও শুকনো লংকা দিয়ে প্রথমে আলু ও বেগুন ভাজুন, তারপর সজনে ডাটা সমেত একে একে সব সব্জি কড়া তে দিয়ে নুন, ও খুব সামান্য পরিমান হলুদ গুঁড়ো ও আদা বাটা দিন।5থেকে 10মিনিটের মতো সময় ভেজে জল ঢেলে দিন। ঢাকা দিয়ে অল্প আঁচে সেদ্ধ হতে দিন। বড়ি গুলি ঝোলে দিয়ে দিন। সব্জি সেদ্ধ হয়ে গেলে, জল ঘন হয়ে গেলে রাঁধুনি শুকনো কড়াতে নেড়ে গুঁড়ো করে দিয়ে নামিয়ে দিন।
শুক্তোর রং ও স্বাদ আলাদা করতে আমরা বরং আজ বেছে নেই অন্য একটি জিনিস। রাঁধুনি ব্যবহার না করে পোস্ত বেটে নিয়ে, পোস্তর জল টি একটি বাটি নিয়ে তাতে খানিকটা দুধ মিশিয়ে কড়াতে ঢেলে দিন। এতে শুক্তোর রং খানিকটা সাদাটে হবে, স্বাদ ও অতুলনীয় হবে।
আরো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। গোটা সর্ষে, গোটা পোস্ত দানা, পাঁচফোড়ন শুকনো কড়া নেড়ে গুঁড়ো করে নিন। সব্জি সেদ্ধ হয়ে গেলে এই গুঁড়ো টি কড়াতে দিয়ে দিন। অপূর্ব সুগন্ধ হবে সুক্তো তে।
সুক্তো রান্নার নানান পদ্ধতি যায় হোক না কেন, বিভিন্ন গুণসমৃদ্ধা সজনে গাছের ফুল, পাতা, ডাটা ব্যবহার করুন। উপকার পান।