সোনু সুদ কে ভগবানের আসনে বসিয়ে পুজো করলেন ১ পরিযায়ী

103
সোনু সুদ কে ভগবানের আসনে বসিয়ে পুজো করলেন ১ পরিযায়ী 1
সোনু সুদ কে ভগবানের আসনে বসিয়ে পুজো করলেন ১ পরিযায়ী 2

তিতলী সেনগুপ্ত: আপাতত দেশে শিথিল হয়েছে লকডাউন। কিন্তু লকডাউন শুরুর একমাস পরের চিত্রটা ছিল এক্কেবারে অন্য। মাথায় বোঝা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাচ্ছিল শ’য়ে শ’য়ে পরিযায়ী শ্রমিক। কোথাও আবার পায়ে জুতো নেই কোলে শিশু নিয়ে হাঁটছেন মা। টিভির পর্দায় দেখে চোখে জল আসছিল আমাদের। সেই সময় ভগবানের মত সেই সকল পরিযায়ীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ‘রিল লাইফ ভিলেন’ সোনু সুদ।

টিভির পর্দায় তিনি সত্যিই ‘ভিলেন’। কিন্তু বাস্তবে তিনি যা করে দেখালেন তাতে ভগবানের থেকে কম কিছু বলা যায় না। আর হলও তাই। সেই লকডাউন পরিস্থিতিতেও মায়ের কোলে ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সোনু সুদ। তাই অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানাতে তাকে ভগবানের আসনে বসাল সেই পরিযায়ী শ্রমিক।

সোনু সুদ কে ভগবানের আসনে বসিয়ে পুজো করলেন ১ পরিযায়ী 3

সোনুকে সিংহাসনে বসিয়ে পুজো করবার ভিডিয়ো শেয়ার করে মণীশ নামের ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘’সন্তানকে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয় ভগবান। সোনু সুদ আমি বিশ্বাস করি আপনি ভগবানের চেয়ে কোনও অংশে কম নন। মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে আপনি আমার স্বপ্ন সত্যি করেছেন।”

সেই ভিডিয়ো বার্তার উত্তরে সোনু তাঁর টুইটারে লিখেছেন,”এটা করো না ভাই. তার জায়গায় তোমার মাকে বল আমাকে আশীর্বাদ দিতে।” সনুর সেই জবাব মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই তাতে প্রায় ২৪ হাজার লাইক পড়েছে।

তবে শুধু সেই যুবকই নয়, ছেলে বাড়ি ফেরার পর তার মাও সোনু সুদকে ভালবাসা এবং আর্শীবাদ জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেটিও সোশ্যালমিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল।

ভিডিয়োতে মণীশের মা অভিনেতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ”আমার ছেলে আমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। খুব কষ্টে পাচ্ছিলাম ছেলের জন্যে। সোনু ভাই আমার সেই কষ্ট দূর করে দিয়েছে। বোনেরা রাখি পরিয়ে তারপর উপহার চায়, আমি তো কিছুই করিনি। তাও সোনু ভাই আমার জীবন বদলে দিয়েছে।”

একজন পরিযায়ী শ্রমিকের মায়ের এমন আবেগভরা বার্তার জবাব দিয়ে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, “একদম সঠিক কথা ভাই। তোমার মা’কে আমার প্রণাম জানিও। আমি খুব খুশি কারণ আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমার কাছে কোনও শব্দ নেই। এখন আরও অনেক অনেক মনীশ তাঁদের মায়েদের দেখা পাবে, এটাই ইচ্ছা। সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।”

এ পর্যন্ত প্রায় কয়েক লক্ষ পরিযায়ীকে নিরাপদে ঘরে ফিরিয়েছেন সোনু সুদ। এমনকি তাদের খাবার, স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এক নামী সংবাদমাধ্যমের তরফে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আজ থানে থেকে পরিযায়ীদের নিয়ে এই ট্রেন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে রওনা দিল। আমরা ওদের যাত্রার জন্য খাবারের প্যাকেট এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করেছিলাম। আমি মহারাষ্ট্রের সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তাঁদের সমর্থনের জন্য। আমার সাধ্যমতো আমি পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে চেষ্টা করছি। আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দেশের শেষ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আমি চুপ করে বসে থাকব না।”

টিভির পর্দায় ভিলেন হলেও বাস্তবে দেশের রিয়েল হিরো সোনু সুদ। এমনটাই মনে করছেন দেশবাসীদের একাংশ। তবে শুধু ‘হিরো’ ই নন বহু পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে তিনি এখন ভগবান, ঠিক যেমনটা মনীশের কাছে।