ফের শুরু হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ইন্টারন্যাল রক্তক্ষরণ, খুব বেশি আশা করা যাবে না, দাবি চিকিৎসকদের

567
ফের শুরু হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ইন্টারন্যাল রক্তক্ষরণ, খুব বেশি আশা করা যাবে না, দাবি চিকিৎসকদের 1

ওয়েব ডেস্ক : গত দু’দিনে প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা সামান্য সঙ্কটমুক্ত হলেও গত ২৪ ঘন্টায় তা অবনতি হয়েছে৷ তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার তেমন কোনও লক্ষণই দেখতে পাচ্ছে না চিকিৎসক মহল। গত শুক্রবারই অভিনেতার রক্তক্ষরণ কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘন্টায় ফের তাঁর ইন্টারন্যাল রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও নেমে গিয়েছিল। কমেছিল প্লেটলেটও। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর একাধিক ব্লাড ট্রান্সফিউশন করা হয়েছে। এর জেরে আপাতত সৌমিত্রবাবুর হিমোগ্লোবিন ও প্লেটলেট নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে মাঝে সামান্য সংকটমুক্ত হলেও আপাতত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বেশ সঙ্কটজনক বলেই হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা। কিন্তু করোনা সেরে গেলেও ধীরে ধীরে একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি। ধীরে ধীরে স্নায়ুর সমস্যা দেখা দেয়। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মধ্যে গত ১১ দিন যাবৎ একেবারেই চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে না অভিনেতার মস্তিষ্ক। ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্বাভাবিক না হলেও আপাতত নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এদিন হাসপাতালের তরফে চিকিৎসক অরিন্দম কর বলেন, “স্নায়ুর সমস্যাই তাঁর শারীরিক অবস্থা উন্নতি না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে হয়। উনি একাধিক উপসর্গ নিয়েও লড়ছেন। কিন্তু খুব বেশি আশা করা যাবে না।”

ফের শুরু হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ইন্টারন্যাল রক্তক্ষরণ, খুব বেশি আশা করা যাবে না, দাবি চিকিৎসকদের 2

ওদিকে সৌমিত্রর জন্য রক্তদানের আবেদন জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে শিল্পী পরিষদ। তাতে বলা হয়েছে, “আপনারা জানেন, আমাদের সভাপতি তথা কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ এবং তাঁর জীবনদায়ী চিকিত্‍‌সা চলছে। তাঁর কিছু সময় অন্তর অন্তরই প্লেটলেট/ব্লাড ট্রান্সফিউশন করতে হচ্ছে। আপনি যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হন এবং রক্তদানে ইচ্ছুক হন (শুধুমাত্র A+ রক্তদাতা), তাহলে অনুগ্রহ করে অবিলম্বে ফোরামের অফিসে 7044061901/7044064901 এই নম্বরে যোগাযোগ করুন।”

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৬ তারিখ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পর্দার ‘ফেলু দা’। তারপর অবশ্য তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে। এমনকি করোনা রিপোর্টও নেগেটিভও এসেছিল ।
দিন কয়েক সুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। করোনা এনসেফ্যালোপ্যাথির সংক্রমণ ক্রমশই বেড়ে চলছিল সৌমিত্রের শরীরে। শুধু তাই নয়, অভিনেতার রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা ক্রমশ কমছিল। পাশাপাশি বেড়ে গিয়েছিল ইউরিয়া আর সোডিয়ামের মাত্রা। এর জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ সংকটজনক হয়ে উঠছিল। সেকারণে ইমিউনোগ্লোবিন এবং স্টেরয়েড দিয়ে একটা সময় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা হলেও তা কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।