‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে; ভরা জনসভায় উদ্ধৃত লাইন বলতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

420
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে; ভরা জনসভায় উদ্ধৃত লাইন বলতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ ভরা জনসভায় বক্তব্য রাখতে উদ্ধৃত লাইন তুলে ধরে গিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষের শিকার বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ।

কিন্তু কেন? লাইনটা তো বেশ ঠিকঠাকই বলেছেন সৌমিত্র বাবু। ওতাহলে কেন কটাক্ষ! আসলে লাইনটা ঠিকঠাক বললেও বিজেপি নেতা দাবী করেছন, এটি জীবনানন্দ দাসের লেখা। কিন্তু আদতে এই লাইনটি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের। আর সৌমিত্র খাঁর এই ভুল কথা নিয়েই ফের শুরু তৃণমূল-বিজেপি বাকযুদ্ধ।

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে; ভরা জনসভায় উদ্ধৃত লাইন বলতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ 2

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বেড়গ্রামের জনসভায় কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই এই বিপত্তি ডেকে আনেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, আমাদের ঘরের ছেলেরা বাইরে কেন কাজ করতে যাচ্ছে? যাচ্ছে, কারণ বাংলায় শিল্প নেই। জীবনানন্দ দাসের কথায়, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। ব্যাস এখানেই ভুল করে বসেন সাংসদ। আর এতেই চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় পদ্ম শিবির।

সাংসদের এই দাবীকে কটাক্ষ করার সুযোগ একেবারেই হাতছাড়া করেনি শাসক শিবির। পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “এটা অন্নদামঙ্গলের লাইন, আমরা স্কুলে পড়েছি, ওনারা কিছুই জানেন না, যা মনে আসে, তাই বলে দেন।‘ আত্মপক্ষ সমর্থনে অবশ্য পিছপা হয়নি পদ্ম শিবিরও। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুনীল গুপ্ত বলেন, তৃণমূল এখন উঠে পড়ে লেগেছে ভুল ধরতে। লাইনতা তো সঠিক, হতেই পারে কখনও বলতে গিয়ে লেখকের নাম ভুল হয়ে গেল।“

তবে মনিষীদের নিয়ে রাজনীতিতে উল্টোপাল্টা মন্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার নেতা-নেত্রীদের দৌলতে সাহিত্যিক মনিষীদের সৃষ্টিই পাল্টে গিয়েছে। এই যেমন- বঙ্গ বিজেপি সভাপতি বলেছিলেন, সহজ পাঠের রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আসলে তা যে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি, তা তিনি বেমালুম ভুলে যান। সেসময় তৃণমূলে থাকা শুভেন্দু খোঁচা দিয়ে দিলীপকে বলেছিলেন, ‘‘কেউ কেউ তো বিদ্যাসাগর সম্পর্কে জানেন না। কেউ বলছেন, সহজপাঠের জন্য না কি বিখ্যাত উনি। বিদ্যাসাগর বর্ণপরিচয়ের জন্য বিখ্যাত।’’

আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই বা কম যান কিসে! ২০১৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বেলেঘাটায় যখন মহাত্মা গাঁধী অনশন করছিলেন, রবীন্দ্রনাথ তখন তাঁর কাছে যান এবং ফলের রস খাইয়ে গাঁধীর অনশন ভঙ্গ করেন। এর পরেই কবি লিখেছিলেন, ‘জীবন যখন শুকায়ে যায়’ গানটি।’’ যদিও ইতিহাস হল, গান্ধীজি বেলেঘাটায় অনশন করেছিলেন ১৯৪৭ সালে, সাম্প্রদায়িক হিংসার পর্বে। আর রবীন্দ্রনাথের জীবনাবসান হয় ১৯৪১ সালে। পিছিয়ে নেই কেন্দ্রের নেতারাও; ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বীরভূমে অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘‘এই বীরভূমের পবিত্র ভূমিতে জন্ম হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।’’ যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।

আর এবার রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগরের পর পালা এল জীবনানন্দ দাসের। পদ্ম শিবিরের নেতাদের চাপে এবার বদলে গেল আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে থাকে- লাইনের সৃষ্টি কর্তা।

Previous articleআজকের রাশিফল, ২৯শে জানুয়ারি’২০২১
Next articleজোট ভেঙে ভোটে লড়তে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন! ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, আমরাও ঝড়খণ্ডে ভোটে লড়ব