রাজভবনে সৌরভ গাঙ্গুলি! তাহলে কী মূখ্যমন্ত্রীর মুখ পেল বিজেপি? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

633
রাজভবনে সৌরভ গাঙ্গুলি! তাহলে কী মূখ্যমন্ত্রীর মুখ পেল বিজেপি? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা 1

তিন্নি দে: তাহলে কী মুখ পেয়েই গেল বঙ্গ বিজেপি? অভাবটি এরই ছিল, ২০২১শের বিধানসভায় একটা মার কাটারি মুখের প্রয়োজন ছিল বিজেপির। আর সেই মুখ যদি স্বয়ং ‘দাদা’ হয়, তাহলে? হ্যাঁ, বহুদিন পরে ফের সেই জল্পনাই তুঙ্গে উঠল বাংলার রাজনীতিতে। রবিবার ভারতীয় ক্রিকেটের প্রবাদ প্রতিম ব্যক্তিত্ব, বাঙালির প্রিয় ‘দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলির রাজভবনে যাওয়া নিয়ে এমনই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে যে বঙ্গ বিজেপির হয়ে ব্যাট করতে অবশেষে তিনিই নামছেন ২০২১শের টুয়েন্টি টুয়েন্টি ফাইনালে।

রবিবার দুপুরে হঠাৎই রাজভবনে পৌঁছে গেছিলেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক কোনও কারণ নাকি নিছকই ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ।শুরু হয়েছে চর্চা। জানা যায়,প্রায় আধ ঘন্টা ধরে সৌরভ গাঙ্গুলি এবং ধনখড়ের মধ্যে বৈঠক চলছে। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তাহলে এবার কী রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছেন তিনি?প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।সৌরভ যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন অনেকদিন ধরে এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। প্রথম দিকে এই প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি কিন্তু এবার তিনি মুখই খোলেননি। হ্যাঁ যেমন বলেননি তেমনই একেবারে উড়িয়েও দেননি।

রাজভবনে সৌরভ গাঙ্গুলি! তাহলে কী মূখ্যমন্ত্রীর মুখ পেল বিজেপি? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা 2

অথচ এর আগে একুশের নির্বাচনে বিজেপির তরফে সৌরভকে মুখ করা হতে পারে বলে যখন গুঞ্জন শোনা গেছিল তখন ক্রিকেটের সঙ্গেই যে যুক্ত থেকে তিনি খুশি, সে কথাই বারবার নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু এরই মধ্যে আরও একটি ঘটনা এই জল্পনায় রসদ জুগিয়েছে। এবার বিজেপির মহিলা সদস্যাদের পরিচালিত দুর্গাপুজায় হাজির হয়েছিলেন সৌরভ জায়া ডোনা গাঙ্গুলি। তখনও এই জল্পনা রটেছিল যে বিজেপির কাছাকাছি যাচ্ছে গাঙ্গুলি পরিবার।

একসময় যখন এই চর্চা প্রবল হয় যে শুভেন্দু কিংবা সৌরভ যে কাউকে বিজেপি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রজেক্ট করতে পারে। তখন সাংবাদিকদের কলকাতায় বসে অমিত শাহ বলেছিলেন, “শুধুমাত্র দু’জনের নামই বলছেন কেন, তালিকা আরও অনেক বড়।” কয়েকদিন আগেই বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খাঁ তৃনমূলে যোগ দিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘বিজেপিতে ৬জন মূখ্যমন্ত্রী আর ১৩জন উপ মূখ্যমন্ত্রীর দাবিদার।’

ঘটনা হচ্ছে বিজেপি যাই বলুক না কেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এটা ভালই বোঝেন যে, বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার একটি ভবিষ্যত সমস্যা। বিজেপির প্রাক্তন নেতৃত্ব যেমন এই দাবিদার তেমনি তৃনমূল থেকে আগত শুভেন্দু অধিকারীরাও লাইনে রয়েছেন। বিজেপি এতদিন মূখ্যমন্ত্রীর মুখ প্রোজেক্ট করেই নির্বাচন লড়ে এসেছে সমস্ত রাজ্যে। এবার এই রাজ্যেও ভাবী মূখ্যমন্ত্রীকে সামনে রেখে লড়তে না পারলে তারা প্ৰথম দফাতেই পিছিয়ে পড়বে। প্রশ্ন হল এত দাবিদারের মধ্যে বিজেপি কাকে সামনে আনবে তাই নিয়ে সঙ্কট রয়েছে। সব চাইতে ভাল হয় যদি, নতুন এবং জনপ্রিয় কাউকে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সৌরভের চাইতে ভাল বিকল্প আর কী হতে পারে?