জোড়া ঘূর্ণাবর্তে জেরবার দক্ষিণবঙ্গ সহ উত্তরের মালদা; ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু আহত একাধিক, মালদায় পাট ও আম চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

83
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: জোড়া ঘূর্ণাবর্তে জেরবার বাংলার একাংশ। ভারী ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। আপাতত ৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, তবে বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা বলেও আশঙ্কা। এদিকে উত্তরবঙ্গের মালদাতেও ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির খবর মিলেছে। যার ফলে পাট ও আমচাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস সত্যি করে মঙ্গলবার দুপুর বেলায় আকাশ কালো করে আসে। সেইসঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া জেলা জুড়ে দফায় দফায় তুমুল বৃষ্টি হয়। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া

Advertisement

এদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা-সহ একাধিক জায়গায়। কলকাতায় আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। বৃষ্টিতে শহরের একাধিক রাস্তায় জল জমে যানচলাচলের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছে। করোনাকালে এমনিতেই ফাঁকা রাস্তাঘাট হয়ে গিয়েছে আরও শুনশান। এদিন অফিস থেকে ফেরার সময় রাজভবনের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই মুষলধারে বৃষ্টিতে ভেসেছে শহর কলকাতা। যার জেরে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাজভবনের সামনেও হাঁটু জল জমে যায়, যার জেরে বিপাকে পড়েন অফিস ফেরত যাত্রীরা।

Advertisement
Advertisement

বিকেলে সেই জল ঠেলেই অফিস থেকে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যক্তি। রাজভবনের সামনে থাকা ল্যাম্পপোস্ট ছুঁতেই বিপত্তি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ ওই জমা জলেই পড়ে রয়েছে তাঁর দেহ। মৃত ওই যুবকের নাম ঋষভ মন্ডল, বয়স ২৫ বছর। বাড়ি ফারাক্কা। তাঁর ব্যাগে থাকা কার্ড দেখে কলকাতা পুলিশ মৃতের পরিচয় জানতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। জায়গাটি গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ওখানে আর কোনও খোলা বৈদ্যুতিক তার পড়ে আছে কিনা তাই নিয়ে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক।

পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরে বাজ পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হাওড়াতেও। আহত হয়েছেন একাধিক জন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে হাওড়া জেলা হাসপাতালে। জানা গেছে, বালিটিকুরি ২ নম্বর রামকৃষ্ণপল্লি শেখপাড়ার বাসিন্দা রেবা বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে অশোক বিশ্বাস মাঠে চাষের কাজ করছিলেন। বাজ পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অশোকের। গুরুতর আহত মা রেবা বিশ্বাস হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ২ জন আহত হন। পাশাপাশি সূত্রের খবর, এদিন রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসার সময়ে বাজ পড়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। তিনি হাওড়ার বাকসাড়া সাতঘড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মুর্শিদাবাদে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১ ব্যক্তির। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পুঠিমারী মাঠে বাজ পড়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম নাজির হোসেন। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির বাড়ি যান সামশেরগঞ্জের বিডিও কৃষ্ণচন্দ্র মুন্ডা এবং বিদায়ী বিধায়ক আমিরুল ইসলাম।

এই ঝড় বৃষ্টির জেরেই পুরুলিয়ায় হাসপাতালের সামনে ভেঙে পড়ে গাছ। দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালের সামনে ভাঙল গাছ। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান রোগী ও পরিজনরা।

এদিন উত্তরবঙ্গের মালদা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল শিলাবৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে জেলার আমচাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সঙ্গে পাট চাষেও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা। হাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে যে, আগামী কয়েক দিন দুই ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের দু’পাশে অবস্থান করছে ২টি ঘূর্ণাবর্ত। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের খুলনা জেলার ওপর রয়েছে একটি, অপরটি রয়েছে ঝাড়খণ্ডে ছোটনাগপুরের মালভূমির ওপরে। সঙ্গে প্রবল সক্রিয় দক্ষিণা বাতাস, যার ফলে সমুদ্র থেকে ঢুকছে প্রচুর জলীয় বাষ্প। এই জলীয় বাষ্প থেকে তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘ, যা থেকে লাগাতার হয়ে চলেছে বৃষ্টি।